1. postmaster@deliveryforfun.com : deltonsun :
  2. gertrude@gameconsole.site : hiltonsoutherlan :
  3. nelianjani34067@gmail.com : ignaciomounts7 :
  4. carrington@miki8.xyz : imayfe2724819 :
  5. admin@zahidit.com : Publisher :
  6. nihal.sultanul@gmail.com : Jamuna Protidin : নিউজ এডিটর
বসবাসযোগ্য পৃথিবী চাই » Jamuna Protidin
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মোংলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ কম্বল ও প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণ করলেন উপমন্ত্রী শাহজাদপুরে গৃহবধু সোনিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামী শরিফুলের আত্মহত্যার চেষ্টা শাহজাদপুরে ৪র্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ; গ্রেফতার ১ বিরামপুরে ভিএসও বাংলাদেশের (NYEN) প্রোজেক্টের উদ্যোগে এ্যাডভোকেন্সি সভা অনুষ্ঠিত মান্দায় ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে আরেক ভাইয়ের কিডনী প্রদান দেশসেরা সমাজ সেবক সম্মাননা পেলেন উদ্ভাবক মিজান শিবগঞ্জে আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ আহত ৮ অবৈধ বালু উত্তোলনের ড্রেজার পুড়িয়ে দিলেন ইউএনও পাইকগাছায় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা সুপার আটক কেশবপুরে পাখির বাচ্চা ধরে দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণের চেষ্টায় এক যুবক আটক

বসবাসযোগ্য পৃথিবী চাই

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০
  • ২৪৬ বার পঠিত

একুশ শতকের উৎকর্ষতার যুগে আমরা বসবাস করছি। পৃথিবী অবলোকন করেছে অনেক আশ্চর্যজনক উদ্ভাবন। উন্নতির স্বর্ণ শিখরে পৌঁছেছে অনেক জাতিই। কিন্তু আমরা কি একটি বসবাসযোগ্য পৃথিবী পেয়েছি?

বসবাস যোগ্য পৃথিবীটা মূলত কী? বসবাসযোগ্য পৃথিবী বলতে আমরা সেই পৃথিবী বুঝি, যেখানে অন্তর্নিহিত থাকবে সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক বৈষম্যহীনতা, নারীর সমান অধিকার, ন্যায় বিচার, যুদ্ধের দামামার বিপরীতে শান্তির আবহ, ক্ষুধামুক্ত ও সবুজায়িত, গ্রিনহাউস ইফেক্ট মুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক সহযোগিতাপূর্ণ পৃথিবী। কিন্তু আমরা দৃশ্যত তা দেখতে পাই না।

বর্তমান বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দিকে খেয়াল করলে দেখা যায় তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়।

কিন্তু গত বছর এএফপির এক জরিপে বলা হয়েছে, চীন গত বছর ২৭ শতাংশ গ্যাস উৎপন্ন করেছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ ভাগ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১০ ভাগ। যা বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের মোট ৫২ ভাগ! আর যদি ভারতকে(৭ ভাগ) সংযুক্ত করা হয় তা দাঁড়ায় ৫৯! এই হলো অন্যান্য রাষ্ট্রকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি সম্পর্কে সচেতন করা দেশগুলোর অবস্থা।

বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোও প্রচুর পরিমাণে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ করছে। যার দরুন বর্তমানে অতিবন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বেড়েই চলছে সমুদ্রের পানির উচ্চতা। হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে উপকূলবর্তী নিম্ন এলাকা। মালদ্বীপ তো দেশের বাইরে আশেপাশের দেশ থেকে জমি ক্রয় শুরু করেছে। ইদানিং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যে মাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হচ্ছে তাতে আগামী একশত বছরের মধ্যে পৃথিবী বসবাস অযোগ্য হয়ে যাবে।

খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও ব্যর্থ হয়েছে একুশ শতকের এই সভ্যতা। জাতিসংঘের ৪৪ তম অধিবেশনের সভাপতি নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত জোসেফ গারবা বলেন, “বর্তমান বিশ্বে প্রতিদিন অনাহারে প্রায় ৪০,০০০ শিশু না খেয়ে মারা যায়!

অথচ বিশ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদিত হয় তা খাদ্য চাহিদার দ্বিগুণ!” আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো পৃথিবীর ২৭০ মিলিয়ন শিশু দাসত্ব, পাচার, শিক্ষাবঞ্চনাসহ বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ২৩০ মিলিয়ন শিশু সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বাস করছে! অথচ বিশ্বের সকল শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার জন্য মাত্র ২২ বিলিয়ন ডলার দরকার।

অন্যদিকে, উন্নতির এই শীর্ষ সময়ে এসেও পৃথিবীতে ৭০ কোটির বেশি হতদরিদ্র মানুষ বসবাস করছে। আইএলও এবং ইউনিসেফের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রভাবে যে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে তাতে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ নতুন করে চরম দরিদ্র হয়ে পড়তে পারেন।

এর ফলে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১১০ কোটিতে! বিবিএসের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন ১৬ কোটি ৪৬ লাখ জনগোষ্ঠী আছে। সব মিলিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে সোয়া তিন কোটি মানুষ!

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দৈনিক আয় ১ ডলার ৯০ সেন্ট আয় করতে পারলে ওই ব্যক্তিকে দরিদ্র হিসাবে ধরা হয় না। যা কিনা বাংলাদেশী টাকায় মাত্র ১৫০ টাকা! যা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য মান নয়। তবুও এই দুর্দশা।

অথচ আমরা যদি বর্তমান বিশ্বের দুই পরাশক্তির দিকে তাকাই তাঁরা সামরিক খাতে সর্বোচ্চ ব্যায় করে। অংকটা চোখ কপালে উঠার মতো। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট’ বা সিপ্রি ২০১৯ সালে সামরিক খাতে বিভিন্ন দেশের খরচের তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর সামরিক ব্যায় করেছে ৭৩২ বিলিয়ন ডলার, যা পুরো বিশ্বের সামরিক ব্যয়ের ৩৮ শতাংশ। আর চীন তাদের ব্যয় ৫.১ শতাংশ বাড়িয়ে করেছে ২৬১ বিলিয়ন ডলার। ভারত ও রয়েছে ৩ নাম্বার অবস্থানে। অথচ বিশ্বের সকল শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার জন্য মাত্র ২২ বিলিয়ন ডলার দরকার। যা কিনা সারা বিশ্বের সামরিক ব্যায়ের ৩ দিনের সমান। মানবিক বিবেচনাহীন এই সভ্যতা যেটা করছে না।

নারীর প্রতি সহিংসতার অন্ত নেই। ধর্ষণ যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বকে নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের বুলি শিখানো আমেরিকাতেই সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ হয়। কি ভাবছেন ভুল পরেছেন? না আপনি একেবারে ঠিকই পরেছেন। পৃথিবীর এই সুপার পাওয়ার ধর্ষণ এর দিক থেকেও সুপার পাওয়ার। এখানে ধর্ষকদের ৯৯% ই পুরুষ।

ভাবছেন এটা আবার কেমন কথা? বাকি ১% ধর্ষণ নারীদের মাধ্যমে হয়। U.S Bureau of Justice এর হিসেব মতে ধর্ষিতদের ৯১ শতাংশ নারী ও বাকি ৯ শতাংশ পুরুষ। National Violence Against Women Survey এর তথ্যমতে প্রতি ৬ জন নারীর একজন ও প্রতি ৩৩ জন পুরুষের একজন আমেরিকায় ধর্ষণ এর শিকার হয়। মাত্র ১৬% ধর্ষণ কেস রিপোর্ট করা হয় আমেরিকায়।
বাংলাদেশেও ধর্ষণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। ২০১৮ সালের থেকে ২০১৯ সালে ধর্ষণের সংখ্যা ছিল দ্বিগুণ।

অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, যুদ্ধংদেহি, নারীর প্রতি বৈষম্যপূর্ণ এই বসবাস অযোগ্য পৃথিবীকে বসবাস যোগ্য পৃথিবী হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সদিচ্ছা প্রয়োজন। গ্রিন হাউস গ্যাস এর বিরূপ প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে আমাদের খনিজ জ্বালানির বিপরীত ভাবতে হবে। সৌর শক্তি ব্যবহার করে কিভাবে খনিজ সম্পদের চাহিদা পূরণ করা যাবে তা নিয়ে ভাবতে হবে। এসব গবেষণা কাজে বেশি বেশি প্রণোদনা দিতে হবে।প

আগামীর প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। ক্ষুধা ও ধর্ষণমুক্ত পৃথিবী গড়তে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। তাদেরকে স্ব স্ব ধমীর্য় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। কোন ধর্মই ধর্ষণ, শ্রেণী বৈষম্য, অন্যায়, পৃথিবী ধ্বংসের কোন কার্যক্রম সাপোর্ট করে না। সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের চেতনাকে জাগ্রত করতে হবে।

সকল শ্রেণীর মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা এই বসবাস অযোগ্য পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে পারি। আমরা যদি এখনি সচেতন না হই তাহলে আমাদের আগামীতে আরো বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। সবশেষে আমার আহ্বান থাকবে, আসুন আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বসবাসযোগ্য পৃথিবী নির্মাণ করি।

মোঃ হযরত আলী
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | যমুনাপ্রতিদিন.কম

Theme Customized BY LatestNews