1. postmaster@deliveryforfun.com : deltonsun :
  2. gertrude@gameconsole.site : hiltonsoutherlan :
  3. carrington@miki8.xyz : imayfe2724819 :
  4. admin@zahidit.com : Publisher :
  5. nihal.sultanul@gmail.com : Jamuna Protidin : নিউজ এডিটর
মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা » Jamuna Protidin
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভারতে পাচার ৩ যুবক-যুবতীকে বেনাপোলে হস্তান্তর ঈশ্বরদীতে লাইসেন্স না থাকা,ওজনে কম দেয়ার অভিযোগে জরিমানা ঈশ্বরদীতে লাইসেন্স না থাকা,ওজনে কম দেয়ার অভিযোগে জরিমানা ত্রিশালে আইসিটি শিক্ষক ফোরামের বর্ষপূর্তি ও মতবিনিময় সভা-২০২০ র‌্যাব-৫ এর পৃথক দুটি অভিযানে অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার’ দুই মাদক ব্যাবসায়ী অটক নিরাপদ সড়ক চাই এর রাজশাহী শাখার উদ্যোগে চলমান জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত নড়াইলে চোরাইকৃত ইজিভ্যান উদ্ধার, অভিযুক্ত আটক লোহাগড়ায় সেতু নির্মাণে অনিয়ম-স্থান ও নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ নাগরিক ব্যস্ততায় শীতের সকাল বেলকুচিতে ২১ জেলের কারাদণ্ড,২৫ হাজার মিটার জাল ধ্বংস

মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ১১৮ বার পঠিত

 

অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের একদম গুরুত্ব দেওয়া হয় না। সাধারণ মানুষ এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তেমন জানেই না।যে কারনে আজ দেশের প্রায় ৯৫% মানুষ সন্তান জন্মদান পরবর্তী মায়েদের এই মানসিক অবস্থার সাথে পরিচিত নন।পুরুষশাসিত এই সমাজে নতুন মায়েদের মানসিক অবস্থাকে খুবই তাচ্ছিল্যের সাথে দেখা হয়।অনেক সময় ন্যাকামি বলে অভিহিত করা হয়,উপহাস করা হয়।এটা একেবারেই কাম্য নয়।

 

#কেন_মানসিক_সমস্যা_হয়?

প্রসব পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনের কারনে বিষন্নতা হয়ে থাকে।প্রসব পরবর্তী ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই ইস্ট্রোজেন,প্রজেস্টেরন ও কর্টিসল হরমোনের মাত্রা যেমন একদিকে কমে আসে তেমনি কম ঘুম বা ঘুম ভেঙ্গে সন্তানকে খাওয়ানো বা অন্যান্য দেখাশোনার কারনে পরিপূর্ণ ঘুম অনেক সময় না হওয়ার কারনেও সমস্যা হতে পারে।

#সমস্যাগুলো_কি_কি?

সন্তান জন্মদান পরবর্তী মায়েদের মানসিক সমস্যাগুলিকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।যেহেতু সমস্যাগুলি সরাসরি সন্তান জন্মদানের সাথে যুক্ত তাই ৩টি প্রকাশকে ৩টি নামে অভিহিত করা হয়….

১)#পোস্টপার্টাম_ব্লুজ

একে বেবি ব্লুজ বা ম্যাটারনিটি ব্লুজও বলা হয়ে থাকে।সন্তান প্রসবের পরপরই মায়েদের এরকম সমস্যা দেখা দেয়।শতকরা ৮৫ ভাগ মা’ই এই সমস্যার ভুক্তভোগী হন।এটি খুবই অল্প সময়,প্রায় ৭-১০ দিন স্থায়ী হয়।এটি আবার এমনি এমনি ভালোও হয়ে যায়।এতে সাধারণত যে লক্ষণগুলো দেখা যায়-

-মুড সুইং
-দুশ্চিন্তা
-নিদ্রাহীনতা
-কান্না-হাসি
-অবসাদ
-সবকিছুতে বিরক্তি
-সবকিছু কেমন ভুলে ভুলে যাওয়া

২)#পোস্টপার্টাম_ডিপ্রেশন

একে পিউরপেরাল ডিপ্রেশন বা পোস্টপার্টাম মুড ডিসঅর্ডারও বলা হয়ে থাকে।পোস্টপার্টাম ব্লুজ ও ডিপ্রেশন, এদের লক্ষণগুলো প্রায় একই কিন্তু পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলোর স্থায়ী ও তীব্রতা অনেক বেশি থাকে।এটি কয়েকমাস থেকে বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।এতে যে লক্ষণগুলো হতে পারে-

-মাত্রাতিরিক্ত অবসাদ ও দুশ্চিন্তা
-নিজেকে খুব খারাপ মা মনে করা
-অতিরিক্ত কান্নাকাটি
-অসহায় বোধ করা
-নিদ্রাহীনতা
-মাত্রাতিরিক্ত রাগ
-বাচ্চার সাথে বন্ডিং বা বন্ধন না হওয়া
-পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে দূর্ব্যবহার করা
-মাত্রাতিরিক্ত বিরক্তি প্রকাশ
-মুড সুইং
-প্যানিক এটাক
-যৌক্তিক চিন্তা করার বা ভাবার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া
-নিজেকে অনেকক্ষেত্রে সবকিছু থেকে গুটিয়ে ফেলা
-বাচ্চাকে মারধর করা
-এমনকি আত্মহত্যার প্রবনতা

সব মায়েদের সব লক্ষণগুলো একসাথে প্রকাশ পায় না।ব্যক্তি,পরিবার ও পারিপার্শ্বিকতা ভেদে লক্ষণগুলো ভিন্ন হতে পারে।

৩)#পোস্টপার্টাম_সাইকোসিস

এই স্টেজটা আরও ভয়াবহ।এটি খুব বিরল,১০০০ জনে ১/২ জনের কেবল হতে পারে।এর লক্ষণগুলো-

-হ্যালুসিনেশন,মায়েরা এমন কিছু দেখে বা শোনে যা সত্য নয়

ডিলিউশন বা অবাস্তব চিন্তা, মায়েরা ভাবতে পারে কেউ তার বাচ্চার ক্ষতি করতে চায়

-স্থান,কাল,পাত্রের হিসেব ঠিক না করা

-সহিংস বা ভায়োলেন্ট হয়ে যাওয়া

-হঠাৎ করেই খুব বিষাদগ্রস্ত বা খুব হাসিখুশি থাকা

-নিজেকে বা বাচ্চাকে মেরে ফেলার চিন্তা করা

#করনীয়

সন্তান জন্মের পর কমবেশি সব মা’ই এরকম সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়।বাংলাদেশের মেয়েরা এই সমস্যাগুলিকে গিলে ফেলেন।মাতৃত্বকে মহিমান্বিত করতে গিয়ে আমরা জেনে বা না জেনে একজন মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যকে এড়িয়ে যাই।একজন মা হবার পর শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মানসিক পরিবর্তনও খুব স্বাভাবিক।এরকম সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে মা নিজে ও তার পরিবারের লোকজনদেরই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে।

১)#মায়েদের_করনীয়

-পরিবারের সদস্যদের গুরুত্ব দিতে হবে।তাদের বিরক্তি লাগলেও তাদের সাথেই যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে।কেননা এসময় কেবল তাদের কাছেই পেতে পারেন পূর্ণ সাপোর্ট।

-মনের কথা মনে পুষে রাখা যাবে না,সবার সাথে না পারলেও অন্তত নিজের স্বামীর সাথে শেয়ার করতে হবে।

-সম্ভব হলে আগে যারা মা হয়েছেন তাদের সাথে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে হবে।

-সম্ভব হলে উপযুক্ত মেডিটেশন বা শরীর চর্চা করতে হবে।

-পরিমিত ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে।

-মাতৃত্বকালীন দায়িত্ব থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নিয়ে পছন্দের কাজ করতে হবে।হতে পারে গান শোনা,ছবি আঁকা,বইপড়া,মজার খাবার রান্না করা,বাইরে ঘুরতে যাওয়া কিংবা কেনাকাটা করা।

-নিজ স্বামীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা,তুচ্ছ কারনে তাকে রাগ না দেখানো।স্বামী বাচ্চা পালনে অপটু হলে তার সাথে খারাপ আচরন না করে পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তা নিতে হবে।

২)#পরিবারের_সদস্যদের_করনীয়

একজন নতুন মা কতক্ষণ ঘুমিয়ে থাকলো সকালবেলা বা বাচ্চার প্রতি কি অবহেলা করলো এগুলো অভিযোগের সুরে না দেখে বরং মাকে সাহায্য করুন।

-বাচ্চাটা ছেলে না মেয়ে,কালো না ফর্সা এসব ফালতু বিষয়ে মায়ের সামনে আলাপ করবেন না।

-অনেকেই বলে থাকেন “আমরাও তো মা হইছি,আমাদের তো এরকম হয়নি!” এরকম আজাইরা ও ফালতু আলাপ কখনোই নতুন মায়ের সামনে করবেন না।

-কোন কারন ছাড়াই নতুন মা যখন কাঁদেন,তখন তাকে সাহস দিন,পাশে থাকুন।

-মাকে ঘর বন্দী না রেখে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যান।

-নতুন মা’টা খুব বেশি ঝামেলা করছে?সারাক্ষণ খ্যাচ খ্যাচ করছে?মন খারাপ করে থাকে?বাচ্চাকে মারে?তখন দয়া করে মায়ের সাথে খারাপ আচরন না করে তাকে একজন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান,কাউন্সেলিং করান।ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ কিংবা সাইকোথেরাপি দিন।

হঠাৎ একজন নারী থেকে মা হয়ে উঠা একটা বিশাল পরিবর্তন।তাদেরকে সময় দিন,ভালোবেসে সবসময় মায়েদের পাশে থাকুন।

সবশেষে “মা” হওয়াটা শুধু একজন মায়ের দায়িত্ব না,বরং তাকে “মা” হতে সাহায্য করা পুরো পরিবারের দায়িত্ব

 

 

নিলয় কুমার প্রামানিক

আবাসিক মেডিকেল অফিসার
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স 
 মান্দা , নওগাঁ।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | যমুনাপ্রতিদিন.কম

Theme Customized BY LatestNews