1. postmaster@deliveryforfun.com : deltonsun :
  2. gertrude@gameconsole.site : hiltonsoutherlan :
  3. nelianjani34067@gmail.com : ignaciomounts7 :
  4. carrington@miki8.xyz : imayfe2724819 :
  5. admin@zahidit.com : Publisher :
  6. nihal.sultanul@gmail.com : Jamuna Protidin : নিউজ এডিটর
মুসলিমা খালেক মেঘলা'র একগুচ্ছ কবিতা! » Jamuna Protidin
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজশাহীতে এএসআইকে হত্যায় স্ত্রী-সন্তানের সাজানো ফাঁদ,প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শিবগঞ্জে নারী-শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে নগর পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমান নকল মশার কয়েল উদ্ধার’ আটক ২ পাইকগাছায় সোলাদানা ইউনিয়নে ইউপি সদস্য ও অন্ত্যজ পরিষদের সাথে মতবিনিময় কেশবপুরে চারুপীঠ আর্ট স্কুলের উদ্যোগে ৬৮টি কম্বল বিতরণ কেশবপুরে বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় আটক ১১ রাসিক মেয়র লিটনের সাথে নব-নির্বাচিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের সৌজন্য সাক্ষাৎ বেলকুচিতে স্কুল ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন ইউএনও! রাজাপুরে সাংবাদিক রহিম রেজার জন্মদিন পালন বেলকুচিতে স্কাউটসের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মুসলিমা খালেক মেঘলা’র একগুচ্ছ কবিতা!

লেখকঃ মুসলিমা খালেক মেঘলা
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৪৩ বার পঠিত

(১)

কবিতাঃ আমি,বাবা আর ভাদ্র

শ্রাবণের প্রস্থান হাজারও স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয় ।
আমার শৈশবের স্মৃতিরা যেনো
সব স্মৃতিগুলোকে জাগিয়ে তুলছে ।
বাবা চলো,
চলো আবার ডিঙিতে চড়ে শাপলা কুড়োতে যাই ।
বাবা চলো,
আউশধানের খেতে জমে থাকা কচুরিপানাগুলোকে সাফ করতে যাই ।
বাবা চলো,
চলো আবার অতীতগুলোকে আঁকড়ে ধরি ভালোভাবে বাঁচতে ।
তুমি বাবা লগি বাইবে,
আর আমি দু’পায়ে সামনে জমে থাকা কচুরিপানাগুলোকে দু’দিকে ঠেলে দিব।
বাবা চলো,
আমাকে শরতের কাশফুল ছিঁড়ে দিবে ।
বাবা চলো পশ্চিমাবিলে,
আমি আবার দেখবো সাদা বক’টি শালুক পাতায় বসে-
অপেক্ষার প্রহর গুনছে একটি পুঁটিমাছ ধরবে বলে ।
বাবা চলো,
চলো ফিরে যাই আমাদের সেই মায়াঘেরা নিড়ে
যেখানে তুমি,আমি,মা আর ভাই-বোনেরা মিলে ভালোবাসার হাজারও স্মৃতির বীজ বুনে এসেছি ।
বাবা আজ বড্ড ইচ্ছে করছে
মকতব শেষে মায়ের হাতের সেই গরম গরম তালের পিঠার স্বাদ নিতে ।
বাবা,কেনো আজ হাজারও স্মৃতি আমায় তাড়া করছে ?
কেনো বাবা আজ দম বন্ধ হয়ে আসছে অতীত ভেবে ?
চোখের পানি আজ মানছেনা কেনো কোনো মানা ?
বাবা ভাদ্র’তো চলে এসেছে ।
এসো বাবা আবার ছুটে যাই ছায়াঘেরা সবুজ গ্রামে প্রজাপতির বেশে ।
আচ্ছা বাবা !
আজ-ও কি সন্ধ্যায় করিম জেঠুর গল্পের আসর’টা বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে ?
রাতে কি এখোনও হিজল বনে হুতুম পেঁচাদের ডাক শোনা যায় ?
অবাধ্য ছেলেমেয়েরা কি এখনও দিনভর কানামাছি, গোল্লাছুট,বৌচি,মাংসচোর খেলায় মেতে থাকে ?
বাবা চলো না গিয়ে দেখি,
ভাদ্রের পাকা তালের গন্ধে এখোনও পুরো পাড়া মৌ মৌ করছে কি-না ।
বাবা চলো গিয়ে দেখি,
বিকেলে ভাদ্রের আকাশে সাদা-কালো মেঘেরা দূর থেকে দূরে ছুটে যায় কি-না।
বাবা চলো না দক্ষিণা হাওয়ায় মিশে
মা’কে নিয়ে ফিরে যাই সুখের স্মৃতির দেশে ।

(২)
কবিতাঃ পুরনো পথে বাবা-আমি

তোমার মোটা ফ্রেমের চশমার নিচে ছানি পড়া চোখদুটো
আমাকে মনে করিয়ে দেয় হাঁটা-হাঁটি পা-পা ছন্দে আমাকে হাঁটতে শেখানোর কথা ।
বার্ধক্যের অভিশাপে কুঁচকে যাওয়া
তোমার বাহুর চামড়া আমাকে মনে করিয়ে দেয় দু’হাত তুলে আকাশ ছোঁয়ানোর কথা ।
তোমার কুঁজো পিঠ আমার সব হারিয়ে যাওয়া একেকটা মুহূর্তকে মনে করিয়ে দেয় বিচ্ছিরি ভাবে,
তোমার পিঠে চড়ে ঘোড়া খেলার সেই দিনগুলো মনে পড়লেই বিরহেরা ঝাপিয়ে পড়ে চোখে,
বেদনার চোরা স্রোতে ডুবিয়ে মারে
অনাকাঙ্ক্ষিত স্মৃতির উপস্থিতি ।
তোমার হাতের ছড়ী, তোমার প্রেসক্রিপশন,
তোমার বক্স ভরা ঔষধ, হলুদ গোধূলিতে তোমার আনমনে আকাশ দেখা দৃষ্টি আর জীবন নামক সত্য মিথ্যার জলন্ত অগ্নিশিখা
আমার নিস্তেজ মস্তিষ্কে কান্নার বীজ বুনে ।
বাবা,চলো আমরা হাঁটি আমাদের হারিয়ে যাওয়া পথে,
আমাদের শ্যাওলা জমা উঠোনে
যেখানে টিনের চাল ছুঁয়ে বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়তো, শতো বছরের দাঁড়িয়ে থাকা অশ্বত্থের আঁচলে ক্লান্তি মুছে একজনমের প্রশান্তি অনুভব হতো,
তুমি আর আমিই শুধু হাঁটবো
ঝড়া শিউলি কুড়িয়ে দক্ষিণের দুয়ারে লিখে দিব নরম হাতে তোমার নাম,
বুকের গোপন বিষাদ অক্ষরগুলো মাটিচাপা দিয়ে আমাদের পথ জুড়ে বেঁধে দিব
নিকোটেনের বিস্তর ছায়া ।
চলো আমরা হাঁটি
শিরোনামহীন অজস্র ভালোবাসা ঝরা পথে
যে পথে ফাগুন বুনে দিব একজনমের তরে,
কথা দিলাম, আমৃত্যু তৃষ্ণায়
মৃত ছায়ার বুকে শুয়ে রবো
রাত্রির শরীর বেয়ে শিউড়ে ওঠা আঁধারে তুমি আমি খুব নিরবতায় তারা গুনে গুনে ঘুমিয়ে যাবো,
নক্ষত্রেরা আলো ঝরাবে রাতভর
আমি তোমার বুকে কাটিয়ে দিব বাকিটা জীবন ।
কথা দিলাম তুমি আর আমিই শুধু হাঁটবো,
যেখানে অরন্যের কোলে ধ্যানমগ্ন আঁধার-
জারুলের শরীর চুঁইয়ে পড়ে জোছনা
সেই পথে, আরো একবার
তুমি আর আমি চলো হাঁটি ।

(৩)
কবিতাঃ অবুঝ বাদল”

এইযে তুই,অঝরে ঝরছিস দিনরাত ভর
থামবিনা নাকি একটুও বল ?
ওইযে দেখ,
চেয়ে দেখ কতশত মানুষের জানমালের হয় ক্ষয়,
কি ? হচ্ছিস তো বিস্ময় !
ঝিরিঝিরি করে ঝরছিস তুই
সকাল,দুপুর,রাত
এযাত্রায় নাকি আনবি শুনেছি শীতের প্রভাত ?
পাষন্ড তুই ঐ চেয়ে দেখ তিনটি ছানা নিয়ে,
কাকবউ খুব কষ্টে আছে খাদ্য বস্ত্র বিনে।
বেড়াল কুকুরের মুখগুলো দেখ
বুঝবি তুই তোর থাকলে আবেগ ;
ঠান্ডা হাওয়ায় কাঁপছে তারা
দোষ তবে কি হয়ে অবলা ?
গাছগুলো দেখ বেকেই গেছে
মাটি সরে গিয়ে মূল বেরিয়েছে,
কি বাজে কান্ডই না বল !
মৌমাছিরা ক্ষীপ্ত হয়ে
বকছে তোকে যা তা কয়ে,
মধু না খেয়ে কি করে আর-
থাকবে তারা বল !
দৃষ্টিপাত কর সুন্দরবনে
কি বলে শোন করুন স্বরে
অসহায় স্থলজ প্রাণীর দল !
গোয়ালের গাভী শান্ত যদিও,
ব্রু কুচকিয়ে তোকে দেখছে সেও
ঘাস না খাওয়ায় মুখটা কেমন
শুকিয়েছে তার বল !
এইতো গেল টুকিটাকি
বড়ো বড়ো সমস্যা এখনও ঢের বাকি ;
এইটুকুতে বুঝেছিস কি
ও কার্তিকের অবুঝ বাদল
আমায় খোলসা করে বল ।

(৪)
কবিতাঃ অদ্ভুত বায়স্কোপ

এইতো সেদিন খুব বেশি না
বছর দশ-এক আগে,
রোজ বিকেলে পাতা কুড়াতাম
বনে-জঙ্গলে মাঘে ।
শুকনো পাতায় বস্তা ভরতো,
পাতা কুড়োতে ভালোই লাগতো,
ঠান্ডা হাওয়ায় হাঁড় কাঁপতো,
দুচার পয়সা মাইনেও জুটতো ;
সন্ধ্যায় হাঁট শেষে,
বাতাসা,মুড়ির মোয়া দিতেন বাবা ভালোবেসে ।
ঠান্ডায়,কুয়াশায় জোনাকি পোকারাও
রাতে পথ হারায় ।
ঘুমপাড়ানি মাসিরা-দুচোখ ভরে ঘুম দিয়ে যায় ।
স্বপ্নে আসতো নুতন দিন
বাজতো মনে সুখের বীণ ।
ভোরবেলাতে কায়দা নিয়ে
মক্তবে যেতাম চোখ কচলিয়ে ,
দ্বীনি শিক্ষা শেষ করে
একদৌড়ে যেতাম হিজল বনে ।
লাল-গোলাপি হিজল ফুলে
মালা গাঁথতাম সই’রা মিলে ।
হাতে,গলায়,কানে,মাথায়-
ফুলের মালা সকলেরে মাতায় ।
কানামাছি, বৌচি,গোল্লাছুট আর
সাতপদ খেলায়-সারাদিন কেটে যেতো কতোনা হেলায়।
কত বন্ধু,কত বান্ধব
আজ তারা হয়েছে নিষ্ঠুর খুব।
মিছে ছিল সেই সব
আজ মনে হয় এটাই বাস্তব যে-
“জীবনটা সত্যিই এক অদ্ভুত বায়স্কোপ।

(৫)
কবিতাঃ অকেজো বাবা

যখন আমি ছোট্ট ছিলাম এইটুকু নি ঠিক !
বাবার সাথে বড়শি নিয়ে ছুটতাম বিলের দিক ।
এক’দুই প্রহর কেটে যেতো বিলের ধারেই বসে,
মাছ দূরে থাক মাছের আঁশও আসতো না ছিপের কাছে ।

শরৎ বনের হাওয়া খেয়ে দ্বিপ্রহরের বেলা,
বাপ-বেটি’তে বাড়ির পথে হতাম রওয়ানা ।
শূণ্য হাঁড়ি যখনই মা আমার হাতে দেখতো,
নীলাম্বরীর নীলচে মুখ’টা কালো মেঘে ঢাকতো ।

বাবা আমার বরাবরই বড্ড অকেজো,
তার তুলনায় মা’টা আমার একশো তে একশো ।
মাঝে মাঝে রাগ করে মা বলতো ধাত ছাই,
ত্রিভুবনে এমন মানুষ দ্বিতীয়’টা আর নাই ।

(৬)
কবিতাঃ হেমন্তের অবসান”

আবারও একটিবার পৃথিবীকে বিদায় জানালেন হেমন্ত।
গোধূলির আলোয় নিঃশেষ হলো তার প্রাণ ।
যে রূপ নিয়ে একদিন হেমন্ত এসেছিল পৃথিবীর ঘরে-দু’টো মাস মিশেছিল চারপাশ জুড়ে । জানিনা কোথায় আবার কোন পারুলের বনে,
মিলবে তার দেখা-
কোন সে জলসিঁড়ির তীরে ।
হেমন্তের ভরাচাঁদ ক্ষয় হলে পরে,
শীত আসিবে পৃথিবীর ঘরে ।

(৭)
কবিতাঃ আজ-ও মনে পড়ে”

কতো রাত জাগিয়াছি
অঘ্রানের রাতে ভরাচাঁদ দেখিবার আশায় ,
কতোদিন দুটি চোখে ঘুম নাই
ধোয়াটে কুয়াশায় পথ হারাইয়াছি ।
শেষ যে বার মেঠো পথ ধরে হেঁটেছিলাম অঘ্রানে –
ঘাসে ঘাসে জমেছিল শুধু শিশিরের জল,
নরম-কোমল পা’দুখানা ভিজায়েছিলাম-ভিজায়েছিলাম শাড়ির আঁচল ।
শতনক্ষত্রের অঘ্রানের রাতে,
মেঠো চাঁদ আর হিমেল হাওয়াতে
লুকোচুরি খেলায় মাতানো এক পাখি ।
হলদে পাতার আড়ালে,ঝাউ-হিজলের বনে
আজও মনে পড়ে
হুতুম প্যাঁচাদের বাস ।
হেমন্তের মাঠে মাঠে সোনার ফসল
কৃষক-কিষাণীর ঘরে কতো কোলাহল,
কতো রং, কতো ঢং অলিতে-গলিতে
হেমন্তের উৎসব ঢেঁকীর ধ্বনিতে
আজ-ও মনে পড়ে।

লেখক পরিচিতিঃ

নামঃ মুসলিমা খালেক মেঘলা
শিক্ষার্থীঃ বিবিএ অনার্স (হিসাববিজ্ঞান)
চতুর্থ বর্ষ।
সিদ্বেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মগবাজার,ঢাকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | যমুনাপ্রতিদিন.কম

Theme Customized BY LatestNews