1. butjetis@honeys.be : Akram :
  2. end497@eay.jp : alom :
  3. whomap@macr2.com : Ashif :
  4. postmaster@deliveryforfun.com : deltonsun :
  5. gertrude@gameconsole.site : hiltonsoutherlan :
  6. nelianjani34067@gmail.com : ignaciomounts7 :
  7. carrington@miki8.xyz : imayfe2724819 :
  8. admin@zahidit.com : Publisher :
  9. bfniibdsavg@rbufuo.xyz : kenchristenson :
  10. nihal.sultanul@gmail.com : Jamuna Protidin : নিউজ এডিটর
মুক্তকলামঃ নতুন বছরের প্রত্যাশা » Jamuna Protidin
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

মুক্তকলামঃ নতুন বছরের প্রত্যাশা

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০২১
  • ১৬৬ বার পঠিত

লেখকঃ তাসফীর ইসলাম (ইমরান)

নতুন বছরের আগমন
নতুন সম্ভাবনাকে সাথে নিয়ে!
বিগত বছরের যা আছে অপূর্ণ
আশা আছে যার যত-
সবি যেন হয় পূরণ,
এ প্রত্যাশা নিয়ে
শুরু হোক
নতুন বছরের জয়যাত্রা।

দেশ ও জাতির মঙ্গলে সবার ভিতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত দেশপ্রেম জাগ্রত হোক, খুলে যাক সম্ভাবনার নতুন দুয়ার- নতুন বছরে এ প্রত্যাশাই করছি।

আরও একটি নতুন বছর আমাদের দ্বারে এসেছে। স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রতি বছর পহেলা জানুয়ারি আমাদের মধ্যে আসে। আমরা আলোড়িত উদ্দীপিত হই। আনন্দ-উলস্নাসের পাশাপাশি আমরা অঙ্গীকার করি, নতুন বছরে নতুনভাবে চলতে। নতুনভাবে জীবনযাপন করতে, নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকারের মধ্যে প্রধান হয়ে ওঠে। ব্যক্তিচরিত্র বদলেরও অঙ্গীকার করি আমরা। এসবই বিগত বছরের ভুলত্রম্নটি শুধরে নিয়ে নতুনভাবে, স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে পথচলার অঙ্গীকার। পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ করে নেওয়াই মানুষের সহজাত প্রবণতা। তবে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে বছরটি কেমন গেল তার হিসাব-নিকাশ সবাই করে থাকেন। করে থাকেন জাতীয়ভাবে ও ব্যক্তিগতভাবে। আমাদের জাতীয় জীবনে ২০২০ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শুধু বাংলাদেশির জন্য পুরো বিশ্ববাসীকে ভয়াল জাগানো একটি বছর। নানা ক্ষেত্রে উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে পার হয়েছে বছরটি।

বিদায়ী বছর বিশ্বজুড়ে একটি অনুজীব যে দামামা বাজিয়েছে,
তাতে এখনো জ্বলেছ পুরো বিশ্ববাসী। শুধু একটি অনুজীব বিশ্বের আকাশে কালো মেঘ হয়ে হানা দিয়েছে। ২০২০ সালকে বিশ্ববাসী চাইলে ভুলতে পারবে ভুলে গেলে কোভিড-১৯ আবার মনে করিয়ে দেবে।

মাস্ক বাধ্যতামূলক, পুরো দেশ লকডাউন, কোয়ারেন্টিন, আইসোলোসন, বন্যার পরে বন্যা
নানা ঘটন-অঘটন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, চড়াই-উতরাই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আনন্দ-বেদনার সাক্ষী হয়ে কালের গর্ভে সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেল ২০২০ বছরটি।

স্বাস্থ্য শিক্ষায় উন্নতি হয়েছে, দারিদ্র্য হ্রাসসহ নানা ক্ষেত্রে এশিয়ার বহু দেশের শীর্ষে অবস্থান আমাদের। এ ছাড়া মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাফল্য এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন।

প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে এইচএসসি অটো পাশের কথা।
কোভিড-১৯ এই মহামারীর ভিতরেও ২০২০ সালে সব থেকে বড় পদ্না সেতুর সর্বশেষ স্প্যানটি বসিয়ে ঢাকা-মাওয়া মিল ঘটায়।
ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি কার্যকর করে এই বিষের বছরেই।

হতবে পেঁয়াজের উচ্চ মূল্যের কারণে দেশবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বাজারে পেঁয়াজের প্রচুর সরবরাহ তারপরেও আবার দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পেঁয়াজের বাজারে কারসাজির কারণে মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। রসনাবিলাসের জন্য পেঁয়াজের গুরুত্ব অপরিসীম। রন্ধনশিল্পে পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রতিদিনের রান্নায় পেঁয়াজের জোগান জরুরি। ৪০ টাকার পেঁয়াজ ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং এখন আবার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পেঁয়াজ চাষের জন্য চাষিদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে। তখন আর বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে না।

কাঁচামরিচ ২৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছিল এই ২০২০ সালেই।

প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা দেশের কয়েকজন গুণী ব্যক্তিকে হারিয়েছি, যা গভীর বেদনাবহ। তবে সব কিছু ছাপিয়ে উন্নয়নের মহাসোপানে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নববর্ষের এই সূচনালগ্নে সবার প্রত্যাশা জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে সফলতা আসুক। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সবার চেষ্টা ছিল এগিয়ে যাওয়ার। নতুনের মধ্যেই নিহিত থাকে অমিত সম্ভাবনা। আর সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সুযোগ করে দেবে নতুন বছর। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা গর্বিত ও আশাবাদী। এই দেশ একদিন উন্নত দেশের কাতারে যাবে। এমন স্বপ্ন দেশদরদি জনগণ দেখে, দেখে সরকারও।

পদ্মা ব্রিজ, রূপপুর পারমাণবিক প্ল্যান্ট, বঙ্গবন্ধু ট্যানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, উড়ালসেতু প্রভৃতি বড় বড় কাঠামোর কারণে জাতীয় প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার বজায় থাকলেও শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সুশাসন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সূচকগুলোতে আমাদের অবস্থান সম্মানজনক বলা যায় না।

একইভাবে টিআই প্রণীত দুর্নীতির ধারণা সূচকে আমরা গত ২০ বছরের তুলনায় ভালো করেছি বলা যায়। একসময় দুর্নীতিগ্রস্ততায় পরপর চারবার ১ নম্বরে (২০০১-২০০৪) থাকার পর যেহেতু দেশের সংখ্যা বেড়েছে, তাই স্কোরের বড় উন্নয়ন না করেও আমাদের অবস্থান ওপরে উঠে আসে। ২০২০-এর প্রতিবেদনে ১৮০ দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান নিচের দিক থেকে ১৪ তম। তবে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আটটি দেশের মধ্যে আমরা শুধু আফগানিস্তানের ওপরে আছি। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সর্বসাম্প্রতিক কালের ‘গ্লোবাল কমপিটিভনেস ইনডেক্স’ ও আমাদের অবস্থানের অবনতি ঘটেছে, ১৪১টি দেশের মধ্যে ১০৫-এ নেমে এসেছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার পর আমাদের অবস্থান। পদ্মা ব্রিজ, রূপপুর পারমাণবিক প্ল্যান্ট, বঙ্গবন্ধু ট্যানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, উড়ালসেতু প্রভৃতি বড় বড় কাঠামোর কারণে জাতীয় প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার বজায় থাকলেও শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সুশাসন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সূচকগুলোতে আমাদের অবস্থান সম্মানজনক বলা যায় না।
আগামী বছর (২০২১) বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এ বছর থেকে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন ও গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা শুরু হোক, এটি সবার আন্তরিক আকুতি।

প্রত্যাশা করা, স্বপ্ন দেখা আর তা বাস্তবে রূপ দেয়া এক কথা নয়। কঠিন সাধনার মাধ্যমে সত্যের মুখোমুখি হওয়া এবং তাকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া সহজ ব্যাপার নয়। পরিকল্পনা পরিশ্রম, গঠনমূলক চিন্তা ছাড়া যেমন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়, একইভাবে সম্ভব নয় রাষ্ট্রের উন্নয়নও। রাষ্ট্র তা যত ক্ষুদ্রই হোক তার চরিত্র হতে হয় গণমুখী তথা জনকল্যাণমূলক। বাংলাদেশ সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে মানবাধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, উন্নত যোগাযোগ ও ট্রাফিকব্যবস্থা, নাগরিক সেবা ও জননিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা পরিস্থিতি, ভোটাধিকার বা নির্বাচনী ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নগরায়ণ, ব্যাংক ব্যবস্থাপনাসহ আর্থিক খাত, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও বাণিজ্য ঘাটতি, নিত্যপণ্যের বাজার, শেয়ারবাজার এমনিভাবে রাষ্ট্রের যে সেক্টরেই দৃষ্টি দেয়া যাক না কেন, সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার। এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। আগামী দিনগুলো সমৃদ্ধি বয়ে আনুক জাতির জীবনে। নতুন বছরে দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক নতুনভাবে সরকারের কর্মোদ্দীপনায়, দেশ ও জাতির সুনাম আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আরও বিস্তার লাভ করুক এ প্রত্যাশা আমাদের। আমরা চাই সরকার জনগণের প্রত্যাশা, আবেগ ও অনুভূতিকে যথাযথ মূল্যায়ন করে দেশটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে।

দেশ ও জাতির মঙ্গলে সবার ভিতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত দেশপ্রেম জাগ্রত হোক, খুলে যাক সম্ভাবনার নতুন দুয়ার- নতুন বছরে এ প্রত্যাশাই করছি।

আমরা মুজিব শতবর্ষ ২০২০ সালে পালন করতে পারিনি। আশা করি নবীন বছরে বাঙালির জাতির জনকের শতবর্ষ পূরন করতে আমরা সক্ষম হবো।

লেখকঃ তাসফীর ইসলাম (ইমরান)
শিক্ষার্থীঃ সার্ভে ইঞ্জিনিয়ারিং, বাসাই

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | যমুনাপ্রতিদিন.কম

Theme Customized BY LatestNews