1. butjetis@honeys.be : Akram :
  2. end497@eay.jp : alom :
  3. whomap@macr2.com : Ashif :
  4. postmaster@deliveryforfun.com : deltonsun :
  5. gertrude@gameconsole.site : hiltonsoutherlan :
  6. nelianjani34067@gmail.com : ignaciomounts7 :
  7. carrington@miki8.xyz : imayfe2724819 :
  8. admin@zahidit.com : Publisher :
  9. bfniibdsavg@rbufuo.xyz : kenchristenson :
  10. nihal.sultanul@gmail.com : Jamuna Protidin : নিউজ এডিটর
হুমায়ুন থেকে মুশতাক অতঃপর » Jamuna Protidin
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩০ অপরাহ্ন

হুমায়ুন থেকে মুশতাক অতঃপর

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১
  • ৭৪ বার পঠিত

সৈয়দ মুন্তাছির রিমন:

এদেশে ক্ষমতার মসনদকে পাকাপোক্ত করার তাগিদে লেখক, সাংবাদিক, ব্লগার, কার্টুনিস্ট ও কলামিস্টদের হত্যা, হামলা, মামলা ও গুম করা প্রতিটি ফ্যাসিবাদী সরকারের এজেন্ডা বা মৌলিক চরিত্র। এই রাষ্ট্র স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের রজয়জয়ন্তী উদযাপন করতে চলছে।

কিন্ত রাজনৈতিক সরকার গুলো গণতন্ত্রের অন্তরালে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বা মায়াজাল থেকে বের হতে পারেনি। আজো রাজপথে শ্লোগানে মুখরিত-“দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিবো রক্ত, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়।”

এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমের ভাষায় এক লেখক প্রতিবাদ গড়ে তুলতে চেয়েছেন। তিনি হুমায়ুন আজাদ। বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতা পরবর্তী রাষ্ট্রের এক নক্ষত্র।

যিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথাবিরোধী কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সমালোচক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী, কিশোর সাহিত্যিক এবং রাজনীতিক ভাষ্যকার। তিনি বাংলাদেশের প্রধান প্রথাবিরোধী এবং বহুমাত্রিক লেখক যিনি ধর্ম, মৌলবাদ, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কারবিরোধিতা, নিরাবরণ যৌনতা, নারীবাদ, রাজনৈতিক এবং নির্মম সমালোচনামূলক বক্তব্যের জন্য ১৯৮০’র দশক থেকে ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

গতানুগতিক চিন্তাধারা তিনি সচেতন ভাবে পরিহার করতেন। তাঁর নারী (১৯৯২), দ্বিতীয় লিঙ্গ (২০০১) এবং পাক সার জমিন সাদবাদ (২০০৪) গ্রন্থ তিনটি বিতর্কের ঝড়তোলে এবং পরবর্তীতে তৎকালিন সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করেছিল।

তিনি লিখেছেন-“আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম” ১৯৭১ ছিলো ১৯৪৭-এর সংশোধন। আমরা ওই বছর মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম।

আমাদের অজস্র স্বপ্ন ছিলো—গণতন্ত্রের, সমাজতন্ত্রের, ধর্মনিরপেক্ষতার, বাঙালীত্বের এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতার। আমরা কোনো স্বপ্নকেই সফল করতে পারিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ বাস করছে ভয়াবহ মেঘমালার নিচে।”

এই স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র বা সমাজ ব্যবস্থা তার মেধাকে যতাযত মূল্যায়ন করতে পারেনি। বরং তাকে নাস্তিকতার টেগ লাগিয়ে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে চেয়েছিল। ধর্মীয় উগ্রতার বিষাক্ত ছোবলে হুমায়ুনের চিন্তা-চেতনা, অনুভুতি, বাক-স্বাধীনতার ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। এদেশে যখন হুমায়ুন আজাদকে চাপাতি দিয়ে কুপানো হয়েছিল তখন থেকেই ধর্ষিত আর বিবস্ত্র গণতন্ত্র হয়ে আসছে।

তিনি অমর একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। তখন তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পরদিন হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তিনি ২২ দিন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এবং ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসা নেন। সবশেষ জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১২ আগস্ট তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

হুমায়ুন আজাদ লিখেছিলেন-“যে-দেশে বাকস্বাধীনতা নেই, চিন্তার স্বাধীনতা নেই, অধিকার নেই, যেখানে কয়েকটি দুর্বৃত্ত সর্বশক্তিমান, সেখানে উৎকৃষ্ট প্রতিভা জন্ম নেয়া দূরের কথা, একটি ভালো চর্মকারও জন্ম নিতে পারে না। নিকৃষ্টদের অধীনে সব কিছুই নিকৃষ্ট হয়ে যায়।”

এতো গেলো বিএনপি-জামায়েত ইসলামী জোটের সরকারের আমলের একটি ফিরিস্তি। যারা এদেশের প্রতিটি পরতে পরতে নৈরাজ্য কায়েম করেছিল। তৎকালিন সরকারকে এদেশের আপামর জনগোষ্ঠী স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বা মৌলবাদী, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রর্বতকের সরকার বা দল হিসেবে মনে করে। কিন্তু বর্তমান সরকারকে স্বাধীনতা স্ব-পক্ষের সরকার বা দল মনে করলেও তারা ওয়ান ইলিভেনের পর সরকার গঠন করার পর থেকে তাদের দলের নীতিগত রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল পরিবর্তন হয়ে যায়। সারাদেশে খুন, গুম, হত্যা, হামলা, মামলা ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে শুরু করে। যার ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, রাষ্ট্রচিন্তার কর্মী দিদারুল ইসলাম ও লেখক মুশতাক আহমেদকে রাজধানীর পৃথক পৃথক স্থান থেকে করোনার মহামারীতে ২০২০ সালের মে মাসে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)। তাদেরকে গ্রেফতারের পর কারাগারে নির্মম নির্যাতন করা হয়। পুলিশ রিমান্ডে কিশোরের কানের পর্দা ও পায়ের গোড়ারী ফাটিয়ে দেয়া হয়। একই ভাবে মুশতাকের উপর নির্মম নির্যাতন করা হয়। কিন্তু লেখক মুশতাক আহমেদ এর উপর পুলিশী নির্যাতনে মৃত্যুর কাছে হেরে যায়। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রযন্ত্র স্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে। এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে আই অ্যাম বাংলাদেশি (ইংরেজি হরফে লেখা) নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, মহামারি করোনা, সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির’ অভিযোগ করা হয়। সম্প্রতি মামলাটিতে কিশোর, লেখক মোস্তাক আহমেদ ও রাষ্ট্রচিন্তার কর্মী দিদারুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

তবে মুশতাকের মৃত্যুর মাধ্যমে কি প্রমানিত হলো? আমরা কি আবার পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে যাচ্ছি? আমরা কি হুমায়ুন আজাদের মতো আবার গণতন্ত্র-বাকস্বাধীনতাকে কফিনে ঢেকে সাদা কাফনে মুড়িয়ে সমাধিস্থ করে দিলাম। যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ব্যবস্থার অগ্রগতিকে হত্যার সামিল। আমরা প্রতিদিন টিভি সেট, প্রিন্ট-অনলাইন মিডিয়া আর সভা-সেমিনারে সরকারের উন্নয়নের জোয়ারের খবর দেখি। কিন্ত এই উন্নয়ন কি দিয়ে পরিমাপ করা হয়? এই রাষ্টযন্ত্র অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির কাছে উন্নয়নের বার্তা দিয়ে থাকে। কিন্ত আজো এদেশের শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। বরং জাতিকে খুন, গুম, হত্যা, মামলা-হামলার মাধ্যমে ভয় প্রর্দুশন করে সরকারের রাষ্টীয় ক্ষমতায় টিকে থাকার আসনকে পাকাপোক্ত করেছে।

আমরা যারা রাষ্ট্র নিয়ে চিন্তা করি। তারা এদেশের স্বাধীনতা, সংগ্রাম, মুক্তি আর বাক-স্বাধীনতার মাধ্যমে জাতির কল্যাণ নিশ্চিত করতে চাই। আমরা ৫২‘র ভাষা আন্দোলন, ৭১‘র স্বাধীনতা সংগ্রাম, ৯০‘র স্বৈরাচার আন্দোলনের মাধ্যমে এই জাতির মুক্তি এনে দিয়েছি।

আজকের এই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের হাত থেকে জাতির মুক্তির পথ উন্মোচন করতে হবে। আমরা জানি, আলোর স্বভাব সম্মুখগামীতা। পশ্চাদপদ হয় অন্ধকার। জগতে যা সত্য, যা সুন্দর, সেটা মৃত্তিকার কঠিন উপরিতল ফুঁড়ে হলেও একদিন মাথা তুলে দাঁড়ায়। অন্যায়, জুলুম, অসত্য আর অপসংস্কার সাময়িক একটা বলয় তৈরি করে হয়তো। কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণে সময়ের শেষপ্রান্তে সেটা হারিয়ে যায় অতল অন্ধকারে। দিনশেষে জয় হয় সত্যের। যুগ-যুগান্তরে টিকে থাকে কেবল সুন্দর। কুসংস্কার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। ফ্যাসিবাদ আর ধর্মান্ধগোষ্ঠী সমাজে সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারলেও কালের আবর্তে ওরা পিষ্ট হয় সভ্যতার পদতলে। কারণ অসুন্দর কখনোই মানুষের মনে পাকাপোক্ত আসন পায় না। আশাকরি, বাংলার পথে প্রান্তরে গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবতা আর বাক-স্বাধীনতার শুভদিন ফিরে আসবে, আসবেই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট-ফ্রান্স

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

One thought on "হুমায়ুন থেকে মুশতাক অতঃপর"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | যমুনাপ্রতিদিন.কম

Theme Customized BY LatestNews