1. butjetis@honeys.be : Akram :
  2. end497@eay.jp : alom :
  3. whomap@macr2.com : Ashif :
  4. postmaster@deliveryforfun.com : deltonsun :
  5. gertrude@gameconsole.site : hiltonsoutherlan :
  6. nelianjani34067@gmail.com : ignaciomounts7 :
  7. carrington@miki8.xyz : imayfe2724819 :
  8. admin@zahidit.com : Publisher :
  9. bfniibdsavg@rbufuo.xyz : kenchristenson :
  10. nihal.sultanul@gmail.com : Jamuna Protidin : নিউজ এডিটর
শবে বরাতের ফজিলত,করনীয় ও বর্জনীয় আমল » Jamuna Protidin
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১০:২৩ অপরাহ্ন

শবে বরাতের ফজিলত,করনীয় ও বর্জনীয় আমল

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১
  • ২৫১ বার পঠিত

আব্দুল্লাহ্ আল-আমিন:-

পবিত্র শাবান মাসের ফজিলতপূর্ণ রাত-‘লাইলাতুল বারাআত’ যা আরবি শব্দ, ফারসিতে বলা হয় ‘শবেবরাত’।‘শব’ অর্থ রাত, ‘বরাত’ অর্থ ভাগ্য,সেই হিসেবে ‘শবেবরাতের’ আভিধানিক অর্থ ভাগ্যরজনি। ভারতীয় উপমহাদেশ,পারস্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশের ফারসি,উর্দু,বাংলা,হিন্দিসহ নানান ভাষায় যা ‘শবে বরাত’ নামেই অধিক পরিচিত।

পবিত্র কুরআনে এ রাতকে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ্’—বরকতময় রজনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ ও তাফসিরের কিতাবে এ রাতের আরো কিছু নাম উল্লেখ হয়েছে।
যেমন—‘লাইলাতুল কিসমাহ্’-ভাগ্যের রাত,‘লাইলাতুত তাজবিয’—রিজিক বণ্টনের রাত,‘লাইলাতুল ফায়সালাহ্’—তকদির নির্ধারণের রাত,‘লাইলাতুল আফউ’—ক্ষমার রাত ইত্যাদি।

আরবি মাসে রাত আগে আসার কারণে ১৪ শাবান দিবাগত রাতেই পালিত হয় শবেবরাত। শাবান মাস আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসকে রমজানের প্রস্তুতি মাস বলা হয়েছে। নবি করিম (স)
রমজানের রোজা ব্যতীত শাবান মাসে যতো অধিক রোজা রাখতেন, অন্য মাসে ততো অধিক রোজা রাখতেন না।ইবনে মাজাহ্ শরিফে হজরত আলী (রা) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলাল্লাহ (স) বলেছেন—‘যখন শাবানের মধ্যরজনি আসবে তখন তোমরা সে রাতে নামাজ পড়বে, রাত জেগে ইবাদত করবে এবং পরদিন রোজা রাখবে। কেননা সে দিন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে এসে বান্দাকে এই বলে ডাকতে থাকেন—আছো কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী, যাকে আমি ক্ষমা করব। আছো কি কেউ রিজিক প্রার্থনাকারী, যাকে আমি রিজিক দিব। আছো কি কেউ বিপদগ্রস্ত, যাকে আমি বিপদ থেকে উদ্ধার করব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ ঘোষণা দিতে থাকেন।’ (হাদিস নম্বর ১৩৮৪)

আল্লাহ এ পুণ্যময় রজনীতে অসংখ্য বান্দা-বান্দিকে ক্ষমা করেন, তবে দুই শ্রেণির লোকের জন্য তাঁর ক্ষমার দ্বার বন্ধ থাকে। (এক) ‘মুশরিক’—যে তাঁর সঙ্গে অন্যকে উপাস্য বানিয়েছে; (দুই) বিদ্বেষপোষণকারী, যে তার অন্য মুসলমান ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯২)

আল্লাহর কাছে পাঁচটি রাত খুবই মর্যাদার। এর মধ্যে শবেবরাতের রাতও রয়েছে।রসুল (স) নিজের জীবনে এ রাত বারবার পেয়েছেন, আমল করেছেন। এ রাতে কী করতে হবে,কীভাবে করতে হবে—তা তিনি উম্মতকে শিখিয়ে গেছেন। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শই আমাদের হুবহু অনুসরণ অনুকরণ করতে হবে।
এ রাতের নফল নামাজের ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই, বরং অন্যান্য নফল নামাজের মতো দুই/চার রাকাতের নিয়ত করে সুরা ফাতেহার পর যে কেনো সুরা মিলিয়ে যত ইচ্ছা পড়া যেতে পারে। তবে অবশ্যই শতর্ক থাকতে হবে যে, রাতভর নফল ইবাদত করে ফজরের নামাজ যেন কাজা না হয়। কেনোনা হাজার রাকাআত নফল নামাজের সাওয়াব কখনো একটি ফরজ নামাজের সমতুল্য হবে না।

শবেবরাতে যেমন পালনীয় বিষয় রয়েছে, তেমনি এ রাতে কিছু বর্জনীয় বিষয়ও রয়েছে।

হাদিস শরীফে শবে বরাতের নিম্নোক্ত পালনীয় আমল উল্লেখ রয়েছে-

১.কোনো বিশেষ ব্যবস্থা বা আয়োজন না করে সম্ভব হলে এ রাতে কবরস্থানে গিয়ে এবং মৃত ব্যক্তি বা আপনজনদের জন্যে দরুদ-ইস্তেগফার পাঠ করে দোয়া করা।

২.এ রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত তথা কুরআন তেলাওয়াত করা, অধিক হারে দরুদ পাঠ করা এবং নফল নামাজ পড়া। তবে নামাজের জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বরং সামর্থ্যানুসারে জামাত ব্যতীত অনির্দিষ্টভাবে নামাজ পড়া এবং নিজের জন্য ও সকল মুসলমানের জন্য দোয়া করা।

৩.শবে বরাতের পরদিন অর্থাৎ ১৫ শাবান নফল রোজা রাখা। রাসূলে আকরাম (স) ইরশাদ করেছেন : যখন তোমাদের সামনে শাবান মাসের পঞ্চদশ রাত শবে বরাত উপস্থিত হয়, তখন তোমরা সেই রাতে নামাজ পড়ো আর দিনের বেলায় রোজা রাখো। তবে যে কোনো নফল রোজা রাখার ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, কমপক্ষে একসাথে দু’টি রোজা রাখা উচিত। তাই পনের শাবানের সঙ্গে চৌদ্দ অথবা ষোল শাবান যোগ করে রোজা রাখাটাই অতি উত্তম।

শবে বরাতে বর্জনীয় :-

বরকতময় এ রজনীতে তওবা-ইস্তেগফার ও ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নিমগ্ন থাকাই মুমিনের কর্তব্য। অথচ কিছুসংখ্যক লোক এ রাতে এমন কিছু কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে, যেগুলো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেমন:পটকাবাজি, তারাবাজি, আতশবাজি, অতিরিক্তআলোকসজ্জা,পোলাও-বিরানি ও হালুয়া-রুটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া ইত্যাদি।
এগুলো নিছক কুসংস্কার বা বৈধ কিছু নয়।

রাত্রি জাগরণের মাধ্যমে অধিক পরিমাণ ইবাদত-বন্দেগী করার ইচ্ছা করলে হালকা-পাতলা খানা খাওয়া ভালো। অনেক স্থানে এ রাতে গরু-ছাগল-মুরগী জবাইয়ের ধুম লেগে যায়।এ সবই সুন্নাত পরিপন্থী। অনেক স্থানে দেখা যায়, বরাত রজনীতে মুসল্লিদেরকে একত্রিত করে রাতব্যাপী ওয়াজ-নসিহতের আয়োজন করা হয়।

যেহেতু এ রাতে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দরুদ পাঠ, কবর জিয়ারতের মতো বিভিন্ন ইবাদত করতে নবী করিম (স) হতে ইঙ্গিত এসেছে, তাই অন্যান্য ইবাদত ব্যতীত শুধু ওয়াজ-নসিহত করে জাগরণ করা মাকরূহ হবে।
তবে রাতের শুরুতে ইবাদতের নিয়ম-কানুন জানানোর উদ্দেশ্যে এ রাতের গুরুত্ব অনুধাবনের জন্যে কিছু সময় আলোচনা করা যেতে পারে। মুক্তির বার্তা নিয়ে আগত পবিত্র শবে বরাতে প্রতিটি মুসলমানের উচিত এ রাতের যাবতীয় ফজিলত অর্জনের জন্য প্রয়াসী হওয়া।

এ জন্য পূর্বদিনেই নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমিয়ে নেয়া প্রয়োজন। যাতে রাতের বেলা ঘুম আমাদেরকে কাহিল করতে না পারে। কারণ, কোন অংশে আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি বান্দার প্রতি নিবদ্ধ হয়, তা-তো হলফ করে বলা যায় না।নবী করীম (স.) আল্লাহর দরবারে আগ থেকেই দোয়া করতেন এ বলে—হে আল্লাহ! আমাকে রজব ও শাবান মাসের বরকত দাও এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছাও।

শবেবরাত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতে মুসলিমার জন্য এক বিশেষ উপহার। তাই এ রাত সম্পর্কে আমাদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে এবং
অন্যের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় নিজে এমন কোনো ইবাদত করা যাবে না। আল্লাহ আমাদেরকে এ রাতের গুরুত্ব বুঝে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন!

লেখক:বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও তরুণ লেখক আব্দুল্লাহ্ আল-আমিন,(কামিল অধ্যয়নরত হাদিস বিভাগ)।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | যমুনাপ্রতিদিন.কম

Theme Customized BY LatestNews