1. butjetis@honeys.be : Akram :
  2. end497@eay.jp : alom :
  3. whomap@macr2.com : Ashif :
  4. postmaster@deliveryforfun.com : deltonsun :
  5. gertrude@gameconsole.site : hiltonsoutherlan :
  6. nelianjani34067@gmail.com : ignaciomounts7 :
  7. carrington@miki8.xyz : imayfe2724819 :
  8. admin@zahidit.com : Publisher :
  9. bfniibdsavg@rbufuo.xyz : kenchristenson :
  10. nihal.sultanul@gmail.com : Jamuna Protidin : নিউজ এডিটর
গামছা লইবেন গামছা হরেক রকমের গামছা » Jamuna Protidin
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পঞ্চগড়ে প্রেসক্লাবে প্রতিদিন লেখা হবে বাংলা তারিখ ফেসবুক গ্রুপ প্রিয় খানসামা’র উদ্যোগে গরীব পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ শুরু গলাচিপায় করোনা থেকে মুক্তির আশায় চৈত্র সংক্রান্তিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের গঙ্গা পূঁজা রংপুরে লকডাউন কার্যকরে তৎপর রংপুর জেলা প্রশাসন ঝালকাঠিতে সর্বাত্মক লকডাউনে জনশূন্য !! কঠোর অবস্থানে প্রশাসন রামপালে যুবকের বিরুদ্ধে কিশোরীর আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে থাকবেনা কেউ, কঠোর অবস্থানে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মোংলায় করোনা সংক্রমণ রোধে আ.লীগ নেতা শেখ জসিমের মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব : আরও ৩৯ জন গ্রেফতার রাজশাহীতে পথচারী ও রোজাদারদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করলেন কাউন্সিলর রজব

গামছা লইবেন গামছা হরেক রকমের গামছা

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪১ বার পঠিত

মোঃ রুহুল আমিন :

আমাদের দেশের শহর থেকে গ্রাম আর গ্রাম থেকে শহরে এমন কোন মানুষ নেই যিনি গামছা চিনেন না। এটা বাঙ্গালী জাতীর একটি ঐতিহ্যের অংশ বলা চলে। এককালে বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ দুতি পড়তেন।

আমাদের ছোট বেলায় বাবা-চাচাদের দেখেছি দুতি পড়তে। এবিষয়ে বর্তমান প্রজন্ম বিশ্বাস করতে চাইবে না। যাঁদের জানা নেই তারা গত শতাব্দীর ৭০ দশকের আগের ইতিহাস পড়লে জানতে পারবেন। আসা যাক গামছা কাহিনীতে। আমাদের দেশে লুঙ্গি-গামছা তৈরি হয় পাবনা, নরসিন্দী, সোনার গাঁ কুষ্টিয়ার কুমারখালী সহ দেশের আরো কিছু এলাকায়। যতদূর জানা যায় গামছার প্রচলন থেকেই পরবর্তীতে তোয়ালে ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। তবে তোয়ালে ব্যবহারের প্রবনতা ধনীক শ্রেণির মানুষেরা বেশি করে বলে দেখা যায়।

ঢাকা সহ দেশের গ্রামে-গঞ্জে, শহর ও বন্দরে গামছা বিক্রি করতে দেখা যায়। আগে গ্রামের হাটবার দিন মানুষ গামছা ক্রয় করতেন। সময়ের ব্যবধানে এখন ফেরি করে বাসা-বাড়িতে গামছা বিক্রি করতে দেখা যায়। বাসা-বাড়িতে গামছা বিক্রি করতে আসা ফেরিওয়ালাদের প্রায় গলা ছেলে ডাকতে শুনা যায় ‘গামছা লইবেন গামছা হরেক রকমের গামছা’। গামছা কিনতে এখন আর আগেরমত হাটের দিনের জন্য হাটে গিয়ে কিনতে হয় না।

ঢাকা শহরের ফুটপাতে অফিস পাড়ায় বিশেষ করে মতিঝিল, দিলখুশা পুরানা পল্টনসহ অফিস পাড়াগুলিতে গামছা বিক্রি করতে দেখা যায়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন জনবহুল জায়গায় গামছা বিক্রি করতে দেখা যায়। ঢাকা শহরের মতিঝিল অফিস পাড়ার দৈনিক বাংলা মোড়ে বেশ কয়েকটি স্থানে গামছা বিক্রি করতে দেখা যায়।

এখানে এদেরই একজন নাম জালাল উদ্দিন। বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনার গাঁ উপজেলায়। বাবা গামছা তৈরি করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায়সহ ঢাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করতেন। জালালের বাবা বেশ কয়েক বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর পূর্বে বাবার সাথে জালালও মাঝে মধ্যে বাবার কাজে সাহায্যের জন্য শহরে আসতেন। বাবার সাথে আসা-যাওয়ার সুবাধে জালালও ব্যবসা বুঝে গেছেন। বাবার মৃত্যুর পর জালাল সংসারের হাল ধরেন। গামছা বিক্রি করে চলতো তাদের সংসার। এভাবে জালাল পৈত্রিক ব্যবসা শিখে ব্যবসা শুরু করেন।

ছয় ভাইয়ের মধ্যে জালাল মেঝো। বড় ভাই মহি উদ্দিন ও জালাল মিলে ভালোই আয় করছিলো। মাঝে গ্রামের এক আত্মীয়ের পরামর্শে পরিবারের স্বচ্চলতা ফিরিয়ে আনতে ব্যবসা ছেড়ে পাড়ি জমায় সৌদী আরব। ১৪ বছর বিদেশে ছিলেন। মাঝে একবার বছর সাতেক আগে দেশে এসে ঢাকা শহরের খিলগাঁয় বিয়ে করেন ফরিদা বানুকে। বিয়ে ছয়মাস পর আবারও বিদেশে পাড়ি জমান তিনি।

দুই বছর আগে জালাল দেশে ফিরে আসেন। আবারও দেশে ফেলে যাওয়া পৈত্রিক গামছার ব্যবসা শুরু করেন মতিঝিলে। জানতে চাইলাম বিদেশে গিয়ে কেমন আয় করলেন? জালাল জানালো দুই একর জমি ও বাড়িতে তিন তলা ফাউন্ডেশনের একটি দুই তলা বিল্ডিং করেছেন। হাতে লাখ তিনেক নগদ টাকা আছে তার। বললাম বিদেশইতো ভালো ছিলো।

জালাল বললো, আমার বৌ চায়না আমি আর বাহিরে থাকি। বৌ বলে দেশে না থাকায় আমাদের সন্তানাদি হয়না। আমি বছরের ৩৬৫ দিন এখানে বসে গামছা বিক্রি করি। এখানে ব্যবসা ছাড়াও ঢাকা শহরের বিভিন্ন মার্কেটে আমি পাইকারি গামছা সরবরাহ করি। মতিঝিলের ব্যবসা থেকে দৈনিক খরচ শেষে ১০০০-১২০০ টাকা থাকে। আর পাইকারি ব্যবসা থেকে মাসে ৩৫ হাজার টাকা আসে। মতিঝিলের ব্যবসার টাকায় আমার সংসার চলে। পাইকারি ব্যবসার টাকা জমা রাখি। ৬-৮ মাসের জমানো টাকা দিয়ে মাঠে জমি কিনে রাখি। বুঝলেন না কিছু না জমালে ভবিষ্যতে ছেলে-মেয়েদের কি করে লেখা-পড়া করামু। জানতে চাইলাম ছেলে-মেয়ে কয়জন? জবাবে জালাল বললো আমার ছেলে-মেয়ে নেই।

তবে, আগামি চারমাস পর হবে। এই বলে জালাল মুছকি হাসি দিয়ে বললো স্যার দোয় কইরেন। আমার ছেলে হলে আমি তার নাম রাখবো আমিন উদ্দিন। কেন আমিন উদ্দিন রাখবেন? এর জবাবে জালাল বিড় বিড় করে কি যেন বলতে চাইছিলো আমার আর বুঝা হলো না তার কথা।

রাত তখন সাড়ে দশটা এরই মধ্যে জালালের গামছা নেয়ার ভ্যান গাড়ি এসে দাঁড়ালো। আমারও বাসায় ফিরার সময় হলো। ফিরার পথে ভাবছিলাম একজন মানুষ ফুটপাতে গামছা বিক্রি করে মাসে ৩০ হাজারের বেশি আয় করে।

অথচ আমাদের দেশের এখনকার ছেলে-মেয়েরা অভিভাবকের টাকা খরচ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা-পড়া শেষে ১৫-২০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির জন্য হন্নে হয়ে নিয়োগ পেতে বছরের পর বছর পরিক্ষা দিয়েই যায়। মামা-খালু থাকলে চাকরি হয় না হয় বেকার থাকতে হয়।

অথচ জালালেরা দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখা-পড়া করে মাসে ফুটপাতে গামছা বিক্রি করে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় করে। আর পাইকারি ব্যবসার আয় ৩৫ হাজার মিলে মাসিক আয় ৭০ হাজারের বেশি।

আমাদের নতুন প্রজন্মকে এনিয়ে ভাবতে হবে কোন কাজই যে ছোট নয় এমন মানসিকতা ওদের মধ্যে তৈরি করতে হবে। দেশের জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে কিন্তু সেতুলনায় সরকারি চাকরির সংখ্যা বাড়ছে না। প্রত্যেক তরুনকে নিজের কর্মসংস্থান নিজেকে তৈরি করে স্বাবলম্বী হতে চেষ্টা করতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | যমুনাপ্রতিদিন.কম

Theme Customized BY LatestNews