1. butjetis@honeys.be : Akram :
  2. end497@eay.jp : alom :
  3. whomap@macr2.com : Ashif :
  4. postmaster@deliveryforfun.com : deltonsun :
  5. gertrude@gameconsole.site : hiltonsoutherlan :
  6. nelianjani34067@gmail.com : ignaciomounts7 :
  7. carrington@miki8.xyz : imayfe2724819 :
  8. admin@zahidit.com : Publisher :
  9. bfniibdsavg@rbufuo.xyz : kenchristenson :
  10. nihal.sultanul@gmail.com : Jamuna Protidin : নিউজ এডিটর
ফুটপাতে ফলের রস বিক্রেতা আমির হোসেনের জীবনের গল্প » Jamuna Protidin
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পঞ্চগড়ে প্রেসক্লাবে প্রতিদিন লেখা হবে বাংলা তারিখ ফেসবুক গ্রুপ প্রিয় খানসামা’র উদ্যোগে গরীব পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ শুরু গলাচিপায় করোনা থেকে মুক্তির আশায় চৈত্র সংক্রান্তিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের গঙ্গা পূঁজা রংপুরে লকডাউন কার্যকরে তৎপর রংপুর জেলা প্রশাসন ঝালকাঠিতে সর্বাত্মক লকডাউনে জনশূন্য !! কঠোর অবস্থানে প্রশাসন রামপালে যুবকের বিরুদ্ধে কিশোরীর আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে থাকবেনা কেউ, কঠোর অবস্থানে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মোংলায় করোনা সংক্রমণ রোধে আ.লীগ নেতা শেখ জসিমের মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব : আরও ৩৯ জন গ্রেফতার রাজশাহীতে পথচারী ও রোজাদারদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করলেন কাউন্সিলর রজব

ফুটপাতে ফলের রস বিক্রেতা আমির হোসেনের জীবনের গল্প

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৬০ বার পঠিত

মোঃ রুহুল আমিন :

ঢাকা শহরে ফলের রস বিক্রি করে জীবন ধারণ করেন কুমিলার লাঙ্গল কোটের আমির হোসেন। আমির হোসেনেরা দুই ভাই। বড় ভাই ভালোবেসে বিয়ে করে ঢাকা শহরে আলাদা সংসার পেতেছে।

বড় ভাই বাবা-মা’র তেমন একটা খোঁজ-খবর নেন না। আমির হোসেনের বাবার নিজের চাষাবাদের তেমন কোন জমি-জমা নেই। ছোট বেলায় আমির হোসেন দেখেছেন তার বাবা অন্যের জমি বর্গাচাষ করে সংসার চালাতেন।

বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় তেমন একটা লেখাপড়া করতে পারেননি তিনি। ছোট বেলা থেকে বাবার বর্গাচাষের কাজে আমির হোসেন সহযোগিতা করে আসছেন। অন্যের জমি বর্গা করে তেমন একটা লাভ হয়না। কোন রকমে সংসার চলে তাদের। সংসারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন আনতে তিনি ১৬ বছর বয়সে ঢাকায় চলে আসেন।

গ্রাম থেকে ঢাকায় শহরে আসার পর তেমন কোন আত্মীয়-স্বজন না থাকায় তিনি বাজারে মেন্তি হিসাবে ফকিরাপুল বাজারে কাজ শুরু করেন। কিন্তু এত কম বয়সে মেন্তির কাজ করা খুব পরিশ্রমের হওয়া সত্বেও যে আয় করেন তাদিয়ে নিজের খরচ চালিয়ে বাড়িতে বাবা-মা’কে তেমনে একটা টাকা-কড়ি পাঠাতে পারতেন না। এদিকে গ্রাম থেকে শহরে আসার পর প্রথম দিকে কয়েক মাস কমলাপুর রেল স্টেশনে রাত কাটিয়েছেন আমির হোসেন।

ইতিমধ্যে মেন্তির কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় নিজ এলাকার এক বড় ভাই আমিনের সাথে। আমিরের ঐ বড় ভাইটি ফকিরাপুল বাজার ও মতিঝিল অফিস পাড়ায় বছরের বিভিন্ন সময় মৌসুমী ফলের রস বিক্রি করতেন। আমির হোসেন মেন্তির কাজ করতে গিয়ে কখনো পানির পিপাসা মিটাতে প্রায়ই তার ঐ বড় ভাইয়ের দোকানে শরবত খেতো যেতেন। এভাবে তাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক সময় ঐ বড় ভাইয়ের পরামর্শে আমির নিজেই একটি বিভিন্ন ফল, পেঁপে, আখ সহ যখন যে মৌসুমে যে ফল পাওয়া যেতো তার রস মতিঝিল অফিস পাড়ার বর্তমানে ডাস বাংলা ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্যিক শাখার সামনে বসে বিক্রি করতে শুরু করেন।

জানতে চাইলাম, এখানে কতদিন যাবত এ ব্যবসা করেন? জবাবে সে বললো, গত দশ বছর যাবত আমি এখানে বসে ফলের রস বিক্রি করি। সপ্তাহে পাঁচদিন আমি এখানে বসি। দৈনিক গড় আয় করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার আগে ১২০০-১৪০০ টাকা ছিলো। তবে এখন ব্যবসা কমেছে। গত বছর করোনা শুরুর প্রথম দিকে আমির বাড়ি চলে যান। ৮-৯ মাস বাড়িতে ছিলে। জানতে চাইলাম আপনি যে ৮-৯ মাস বাড়ি ছিলেন এসময় কিভাবে চলছে আপনার সংসার? এপ্রশ্নের জবাবে আমির হোসেন জানালো তার কোন জমানো টাকা ছিলো না। বাড়ি যাওয়ার পর আমির রাজ মিস্তির যোগালী হিসাবে কাজ করেছেন। তার দুই মেয়ে ও বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে মাসে বর্তমান বাজার মূল্যে পনের হাজার টাকার কম আয় করলে চলে না। করোনার সময় এলাকায় কাজ করেছেন ঠিকই কিন্তু সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। তাই গত তিন মাস আগে আবারও ফলের রস বিক্রি করতে ঢাকায় ফিরে আসেন। এখন দৈনিক আয় হয় ৯০০-১০০০ টাকা। করোনার কারনে অনেকে এখন ফলের রস খেতে চায় না। তাই আগের তুলনায় আয ৩০০-৩৫০ টাকা কমে গেছে। সংসার চালতে খুব কষ্ট হয় এখন। জানতে চাইলাম ঢাকায় থাকেন কোথায়? জবাবে জানালো আরামবাগে। মেছে কয়েকজন মিলে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। সে বললো আমার স্ত্রী দুই মেয়ে ও বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। এক দেড় মাস পরপর একবার বাড়ি যান। সাধারণত শুক্র ও শনিবারকে সামনে রেখে বাড়ি যান তিনি। কারন মতিঝিলের প্রায় অফিসই শুক্র-শনিবার বন্ধ থাকে। জানতে চাইলাম এখানে বসলে কাউকে চাঁদা দিতে হয় কি-না? জবাবে একটু থেমে ইতস্ত করে বললো, স্যার কেউ শুনলে সমস্যা হবে! এখানে বসে ব্যবসা করতে হলে প্রতিদিন ১৫০/- টাকা চাঁদা দিতে হয়। কাদের এই চাঁদা দেন? এর জবাবে জানালেন, কেন লাইনম্যানকে। জানতে চাইলাম এই লাইনম্যান কারা? সে বললো, পুলিশের পক্ষে এলাকার এক শ্রেণির মাস্তান প্রতিদিন চাঁদা নিতে আসে। চাঁদার অর্ধেক টাকা যারা লাইনম্যান তারা পায় বাকী টাকা থানাকে দিতে হয়। এসময় তার মধ্যে একটা ভীতি লক্ষ্য করলাম। সে চারিদিকে তাকাচ্ছে আর কিযেন ভীড় ভীড় করে বলছে। এরপর একটু বিরক্তির স্বরে বললো, আপনি এত কথা জানতে চান কেন? আপনি কি আমার পেটে লাথি দিবেন? এবার আমি তাকে বললাম আমি আপনার সম্পর্কে লিখবো। জানতে চাইলো কি লিখবেন? বললাম আপনার ব্যবসা সম্পর্কে। একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো লিখে আর কি হবে স্যার? আমাদের কথাতো আর কেউ শুনতে চাইবে না। বললাম, শুনুক বা না শুনুক আমি আপনার ব্যবসা ও আপনার সম্পর্কে লিখতে চাই। সে বললো, ছবি সহ লেখা দিবেন বুঝি? বললাম হ্যাঁ, ছবি সহ দিবো। সে জানতে চাইলো আমি কিভাবে জানবো? বললাম, আমি ঢাকায় থাকলে আগামিকাল আপনি জানতে পারবেন। দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে বললো ঠিক আছে। আমাগো সংবাদ লিখলে আর কি হবে? বললাম সংবাদ লিখলে আপনার পেশা যে অনেক সন্মানের তা অনেকে জানবেন।

কথায় কথায় অনেক সময় গড়িয়ে গেলো সে তার বাসায় যাওয়ার জন্য তৈরি হলো আমিও আমার বাসার পথ ধরলাম। হাঁটতে হাঁটতে ভাবলাম মানুষের জীবন কত বৈচিত্রে ভরা! একেবারে কাছে না গেলে বুঝার কোন উপায় নেই। আমাদের বর্তমান প্রজন্ম এমন বৈচিত্রে ভরা জীবন সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখে কি? জীবন যে চলে জীবনের নিয়মে। কারো জীবন কারো জন্য বসে থাকে না সে হাজার কোটি টাকার মালিক হোক বা রাস্তার ভিখারি হোক।

লেখক : মোঃ রুহুল আমিন, শিক্ষক ও সাংবাদিক

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | যমুনাপ্রতিদিন.কম

Theme Customized BY LatestNews