যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাশনিবার , ২৪ এপ্রিল ২০২১
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা

“পৃথিবী বইয়ের হোক”

যমুনা প্রতিদিন
এপ্রিল ২৪, ২০২১ ২:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

“রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে

প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে
বই, সেতো অনন্ত যৌবনা।”
—ওমর খৈয়াম।

বই এমন একটি উপকরণ, যা একজন মানুষকে সহজেই আলোকিত করতে পারে। শিক্ষার আলো, নীতি-নৈতিকতা-আদর্শ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি-সভ্যতা, সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ সবকিছুই রয়েছে বইয়ের ভেতরে।

জ্ঞানার্জনের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বই। জীবনকে সফলতার আলোয় আলোকিত করার প্রধান উপায় হচ্ছে বই। বই পড়েই জ্ঞানার্জন করতে হবে। পৃথিবীতে যারা বড় হয়েছেন, জগদ্বিখ্যাত সফল মানুষ হয়েছেন, তারাই বেশি বেশি জ্ঞান অন্বেষণে সময় দিয়েছেন। পৃথিবীর যে কোনো বরেণ্য মনীষীদের জীবন ইতিহাস ঘাঁটলে এ কথার সত্যতা ধরা পড়ে। বই হচ্ছে শেখবার, জানবার ও জ্ঞানার্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দেশ ও জাতি গঠনে বইয়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। আর সহজ উপায়ে মানুষের মধ্যে শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো ছড়াতে সমাজের জন্য বই অপরিহার্য। বইয়ের বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না।

২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে। বই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো; বই পড়া, ছাপানো, এবং কপিরাইট সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন করা।

ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রেস। স্পেনের একজন লেখক। তিনি স্পেনের আরেক বিখ্যাত লেখক মিগেল দে থের্ভান্তেস এর ভাবশিষ্য। আন্দ্রেস এর ভাবগুরু থের্ভান্তেস ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। প্রিয় লেখক ও তাঁর সৃষ্টিকে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৯২৩ সালের ২৩ এপ্রিল ৩০৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রথম বই দিবস পালন করে আন্দ্রেস।

এরপর দাবি ওঠে প্রতিবছরই দিনটি বিশ্ব বই দিবস পালন করার। অবশ্য সে দাবি তখন নজরে আসেনি কারোর। অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়েছে বহুদিন।
অবশেষে ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং পালন করতে শুরু করে। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর ২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জ দ্বারা ঘোষিত বিভিন্ন দিবসের মধ্যে অন্যতম অজ্ঞাত এবং অনুজ্জাপিত দিবস হচ্ছে বিশ্ব বই দিবস। যা অত্যান্ত দুঃখের এবং বেদনার।

একটি সুস্থ, সুন্দর জাতি গঠন করতে হলে অবশ্যই বই পড়তে হবে। বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়। বড় মনের মানুষ হওয়ার জন্য বইয়ের সান্নিধ্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

বই শুধু মানুষের মেধা বা জ্ঞান বৃদ্ধি করে না, বরং বই পড়লে মানুষ হয়ে ওঠে কর্মোদ্যম, সহনশীল ও সহমর্মী। মানুষ বই পড়ে নিজেকে জানতে পারে এবং নিজের জীবনকে আলোকিত করে গড়তে পারে। একটি ভালো বই যে কোনো সময় যে কোনো মানুষকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে পারে।

দেশ গড়তে চাইলে, দেশকে ভালোবাসলে, নিজেকে ভালোবাসলে, জ্ঞানী হতে চাইলে, আলোকিত মানুষ হতে হলে অবশ্যই বই পড়তে হবে।

বই-ই হচ্ছে মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ । যার সাথে পার্থিব কোনো সম্পদের তুলনা হতে পারে না । একদিন হয়তো পার্থিব সব সম্পদ নষ্ট হয়ে যাবে , কিন্তু একটি ভালো বই থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান কখনও নিঃশেষ হবে না , তা চিরকাল হৃদয়ে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখবে।

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেনঃ
“জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন-
বই, বই এবং বই।”

তাই আসুন, বিশ্ব বই দিবসে শপথ নিই;
“পৃথিবী বইয়ের হোক।”

লেখকঃ
নাফিউল হক নাফিউ
-সাংস্কৃতিক কর্মী।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com