1. jamunaprotidin@gmail.com : যমুনা প্রতিদিন : Nihal Khan
  2. info@jamunaprotidin.com : যমুনা প্রতিদিন :
"একটি গ্রাম, একটি পাঠাগার!" » Jamuna Protidin
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
৫ নং চারঘাট ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ও ব্যাগ বিতরণ রূপগঞ্জে গুড়িয়ে দেয়া হলো বেলদী বাজারসহ অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব থেকে প্রাপ্ত ১০টি ফুটবল রাজশাহী কিশোর ফুটবল একাডেমিকে দিলেন রাসিক মেয়র সুন্দরবনের খরমা নদী থেকে জেলের ভাসমান লাশ উদ্ধার শরৎ হাসি বেলকুচিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রান বিতরণ করলেন মেয়র সাজ্জাদুল রেজা আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময়ই অত্যন্ত শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দল -কৃষিমন্ত্রী মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেলেন ৪৯ সাংবাদিক গ্লোবাল বিজনেস সামিটে অংশ নিতে ২৭ সেপ্টেম্বর ১৬ দিনের সফরে দুবাই যাচ্ছেন নিরব জয়পুরহাটে বিশুদ্ধ খাবার দোকানের শুভ উদ্বোধন

“একটি গ্রাম, একটি পাঠাগার!”

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • প্রকাশের সময় মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
  • ৬৬ বার পঠিত

মানুষ সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উপলব্ধি করতে পারছে শুধু বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য নয়, মনের জন্যও খাদ্য প্রয়োজন। পাঠাগার মানুষের ক্লান্ত ও বুভুক্ষু মনকে প্রফুল্ল করতে পারে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, যিশুখ্রিষ্টের জন্মের বহু আগে মিশরে, প্রাচীন গ্রিসেও পাঠাগারের অস্তিত্ব ছিল। ভারতে প্রাচীনকালে পণ্ডিতদের ব্যক্তিগত পাঠাগার ছিল।

জাতীয় জীবনে পাঠাগারের এ গুরুত্বের কথা অনুধাবন করে প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, “আমি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিই এই কারণে যে, এ স্থলে লোকে স্বেচ্ছায় স্বাচ্ছন্দ্য চিত্তে সশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়; প্রতিটি লোক তার স্বীয়শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। স্কুল-কলেজ বর্তমানে আমাদের যে অপকার করছে, সে অপকারের প্রতিকারের জন্য শুধু নগরে নগরে নয়, গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠা করা কর্তব্য। আমি আগেও বলেছি যে, লাইব্রেরি হাসপাতালের চাইতে কম উপকারী নয়, তার কারণ আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি হচ্ছে একরকম মনের হাসপাতাল।”

পাঠাগারের ইতিহাস বেশ পুরনো। মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের অনেক আগে থেকেই পাঠাগারের প্রচলন ছিল। তখন মানুষের জ্ঞান সংরক্ষিত হতো পাথর,পোড়া মাটি,পাহাড়ের গাঁ,প্যাপিরাস,ভূর্জপত্র বা চামড়ায়। আর এগুলো সংরক্ষণ করা হতো লেখকের নিজ বাড়িতে,মন্দির,উপাসনালয় বা রাজকীয় ভবনে। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া, ইরাকের বাগদাদ, দামেস্ক, প্রাচীন গ্রিস ও রোমে প্রাচীন পাঠাগারের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। ৫০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মিশরে পাঠাগারের অস্তিত্ব ছিল। ভারতে প্রাচীনকালে পন্ডিতদের ব্যক্তিগত পাঠাগার ছিল। উপমহাদেশের তক্ষলীলায় এবং নালন্দায় সমৃদ্ধ পাঠাগার গড়ে উঠেছিল। আব্বাসীয় ও উমাইয়া শাসনামলে ‘দারুল হকিমা’ নামক গ্রন্থাগার ইউরোপকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করেছে।সমকালীন মিশরের ‘বাইতুল হিকমা’ ও অনুরূপ ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া বাগদাদ, আসিরিয়া, চীন, তিব্বতসহ অনেক স্থানে পৃথিবী বিখ্যাত পাঠাগারের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।আর এভাবে ক্রমেই চলে এসেছে আধুনিক পাঠাগার।

বেঁচে থাকার জন্য মানুষের যেমন খাবার দরকার, তেমনি জীবনকে গতিময় করার জন্য দরকার জ্ঞান। কারণ জ্ঞান হলো মনের খোরাক বা খাবার। জ্ঞানের আঁধার হলো বই আর বইয়ের আবাসস্থল হলো পাঠাগার। প্রতিটা সমাজে যেমন উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল দরকার তেমনি পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। পাঠাগার মানুষের বয়স, রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ করে থাকে। আর তাই সচেতন মানুষ মাত্রই পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। পৃথিবীর যতো মহান মনীষী আছেন তাদের সবাই জীবনের একটা বড় সময় পাঠাগারে কাটিয়েছেন। সাহিত্য-শিল্প, বিজ্ঞান, সংস্কৃতিসহ সব ধরণের জ্ঞানের আঁধার হতে পারে একটি গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগার একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির মানদন্ড। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ছাড়া জাতীয় চেতনার জাগরণ হয় না। আর তাই গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। পৃথিবীর বহুদেশ পাঠকের চাহিদা পূরণের জন্য গড়ে তুলেছে অগণিত গ্রন্থাগার। শিক্ষার আলো বঞ্চিত কোনো জাতি পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। শিক্ষার বাতিঘর বলা হয় গ্রন্থাগারকে। গ্রন্থাগার ছাড়া কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র তার নাগরিককে পরিপূর্ণ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না। গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা তাই প্রতিটি সমাজে অনিবার্য।পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিচারপতি হাবিবুর রহমান বলেছেন,’’গ্রন্থাগারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে সংহতি যা দেশ গড়া কিংবা রক্ষার কাজে অমূল্য অবদান।‘’বই পড়ার যে আনন্দ মানুষের মনে,তাকে জাগ্রত করে তুলতে আজ সব ধরণের পাঠাগারের ব্যপক প্রসার প্রয়োজন।

শিক্ষার আলোবঞ্চিত কোনো জাতি পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। পাঠাগারকে শিক্ষার বাতিঘর বলা হয়। অনেকেরই বই পড়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও টাকার অভাবে বই কিনতে পারে না। পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা তাই প্রতিটি সমাজে অনিবার্য।
পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিচারপতি হাবিবুর রহমান বলেছেন, পাঠাগারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে সংহতি, যা দেশ গড়া কিংবা রক্ষার কাজে অমূল্য অবদান রাখে। বই পড়ার যে আনন্দ মানুষের মনে, তাকে জাগ্রত করে তুলতে আজ সব ধরনের পাঠাগারের ব্যাপক প্রসার প্রয়োজন।

পাঠাগার হলো মানবসভ্যতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আর সেই সম্পদের যথোপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে তার প্রকৃত উপকার ভোগ করা যায়। জীবনে পরিপূর্ণতার জন্য জ্ঞানের বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করতে প্রয়োজন পাঠাগার। একটি সমাজের রূপরেখা বদলে দিতে পারে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। গবেষকরা মনে করেন, মনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পাঠাগারের অবদান অনস্বীকার্য। তাই, প্রতিটি গ্রামে একটি করে পাঠাগার গড়ে তোলা প্রয়োজন।

লেখাঃ নাফিউল হক নাফিউ
কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ







© All rights reserved © 2021 

এই সাইটে নিজম্ব সংবাদ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি।তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ,আলোকচিত্র ব্যবহার করা বেআইনি।

Theme Customized BY Sky Host BD