যমুনা প্রতিদিন
ঢাকারবিবার , ২ মে ২০২১
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনায় ব্যাংকারদের ঝুঁকি ভাতা সময়ের দাবি

যমুনা প্রতিদিন
মে ২, ২০২১ ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কে এম মাসুম বিল্লাহঃ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ১৪ এপ্রিল থেকে পুনরায় সারাদেশে কঠোর লকডাউন শুরু হয়। এতে জরুরী সেবা ব্যতিত সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

দেশের সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এর আওতাভুক্ত থাকবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ বিবেচনায় ব্যাংক খোলা রাখার জন্য মন্ত্রীপরিষদের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সীমিত আকারে ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে পরবর্তী দিন পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে কিছুটা বিপাকে পরে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

গনপরিবহন বন্ধ থাকায় এবং ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়তে হয় সাধারন ব্যাংকারদের। একদিকে গনপরিবহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তি ও অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ব্যাংকে আসা যাওয়া অন্য দিকে করোনার কারনে যখন মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছিলো তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়া কর্মস্থলে যাওয়াটাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায়।

এছাড়াও সরাসরি জনগনকে সেবা দেয়া ও অতিরিক্ত জনসমাগম হওয়ার কারনে কর্মস্থলেও করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তো থেকেই যাচ্ছে।

গত বছর মার্চে শুরু হওয়া করোনা মহামারীর কারনে দেশে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, মৃত্যুর মিছিল হচ্ছে দীর্ঘ্যতর! ব্যাংকারদের মধ্যে কয়েক হাজার কর্মকর্তা ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যুর সংখ্যাও শতাধিকের।

গত বছর ব্যাংকারদের জন্য প্রনোদোনার ঘোষণা দেয়া হয়, এছাড়াও জীবন বীমার আওতায় আনা হয় ব্যাংকারদের। তবে পরবর্তীতে কিছু জটিলতার কারনে প্রনোদনা দেয়াও বন্ধ করে দেয়া হয়, এছাড়াও করোনা আক্রান্ত অনেক কর্মকর্তারাও এখনো ঘোষণা অনুযায়ী পাননি বীমার টাকা।

করোনা মহামারীর কারনে গত বছর থেকেই অধিকাংশ সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের সেবাসমূহ চলমান রেখেছে তাদের মধ্যে ব্যাংক অন্যতম।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এর মধ্যেও চলছে ব্যাংকিং কার্যক্রম। এরফলে ব্যাংকারদের করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকছে।

বাংলাদের প্রথম ব্যাংক ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল “ব্যাংক নিউজ বাংলাদেশ” এর তথ্য অনুযায়ী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এ গত ১০ দিনে ১৫ জনের মত ব্যাংক কর্মকর্তা প্রান হারিয়েছেন এবং আক্রান্ত হয়েছেন আরো সহশ্রাধিক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে জনসমাগম সাধারনত খুবই বেশি হয়, অধিকাংশ মফস্বলের শাখাগুলোতে জনসাধারনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার অনীহার কারনে ব্যাংকাররা থাকেন চরম ঝুঁকির মধ্যে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনরায় ব্যাংকারদের জন্য জীবন বীমার ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংকের একজন প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার পরিবার ৫০ লাখ টাকা পাবেন, ১ম শ্রেনী ব্যতিত অন্যান্য কর্মকর্তারা পাবেন ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়াও যেসকল শাখার নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই সেসব শাখার কর্মকর্তাদের পরিবহন ভাতা দেবার জন্যও বলা হয়েছে যা এখনো আলোচনাধীন। তবে এই মুহূর্তে ব্যাংকারদের মনোবল ধরে রাখতে সবথেকে বেশি প্রয়োজন ঝুঁকি ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও দেশের অর্থনীতির “রক্ত সঞ্চালক” নামে পরিচিত ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিটি সাধারন ব্যাংকার। করোনা মহামারীর মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের অর্থনিতীর জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাই জীবন বীমার পাশাপাশি ব্যাংকারদের জন্য ঝুঁকি ভাতা প্রদান এখন সময়ের যৌক্তিক দাবি।

ব্যাংক কর্মকর্তা,কলাম লেখক

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com