যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাশনিবার , ৮ মে ২০২১
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুমকিতে শ্রমিক সঙ্কটে বিপাকে মুগডাল চাষিরা

মোঃ সুমন মৃধা,দুমকি(পটুয়াখালী)
মে ৮, ২০২১ ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পটুয়াখালীর দুমকিতে শ্রমিক সঙ্কটে খেতের মুগডাল খেতেই ঝরে যাচ্ছে। এতে ডাল ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। তাপদাহে মাঠে কাজ করতে পারছেন না শ্রমিকরা। ফলে ক্ষেতের ডাল ক্ষেতেই ঝরে যাচ্ছে।

স্থানীয় কয়েক কৃষক জানান, রৌদ্রের প্রচন্ড তাপদাহ আর শ্রমিক সঙ্কট থাকায় এ এলকার চাষিরা পড়েছে বিপাকে।

ডাল চাষি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের মিলন মিয়া বলেন, ‘শ্রমিকদের অধিক মুজুরি দিয়েও ক্ষেত থেকে ডাল তোলানো যাচ্ছে না। দুই দিন ধরে এলাকার কিছু নারী শ্রমিকদের সাথে চার ভাগের এক ভাগ ডাল বিনিময় চুক্তিতে শ্রমিকরা ক্ষেত থেকে ডাল তুলছেন। তাও আবার ভোর বেলা সূর্য ওঠার আগে থেকে শুরু করে সকাল সারে সাতটা আটটার মধ্যে শেষ করে। কারণ এরপড় যে রৌদ্রের তাপ শুরু হয় সেই তাপের মধ্যে ক্ষেতে বসে থাকা সম্ভব হয় না।’

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঝাটরা গ্রামের রাকিব বলেন, ‘আগে ক্ষেত থেকে ডাল তুলে দিলে নারী শ্রমিকদের দৈনিক ৮-১০ ঘন্টা কাজে সাত ভাগের এক ভাগ ডাল দিলে শ্রমিকের অভাব হতো না। অথচ এ বছর প্রচন্ড রৌদ্রের তাপের কারনে শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে তার সংগ্রহের চার ভাগের এক ভাগ ডাল। এতে করে চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

একই এলাকার আরেক চাষি মিরাজ গাজী বলেন, ‘মুই(আমি) এক যোস্ঠ (একর) জমিতে উচ্চ ফলনশীল প্রজাতীর পোনরো স্যার(পনেরো কেজি) মুগডাল চাষ করেছি। ব্যায় হয়েছে প্রায় সারে সাত হাজার টাকা। গাছে যে ভাবে ফল এসেছিল তাতে প্রতি একরে আটমন ডাল পাওয়া যেত। বর্তমান বাজার মূল্যেও ভালো। ক্ষেতে প্রথমে দেখা দেয় লেদা পোকার আক্রমণ। পোকায় ক্ষেতের অনেক ডাল বিনষ্ট করে ফেললে ওষুধ ছিটিয়ে কিছু ডাল রক্ষা হয়। কিন্তু বর্তমানে শ্রমিক সঙ্কটে ডাল পেকে ক্ষেতে ঝড়ে পড়ার উপক্রম। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকদের সাথে বিগত বছরের চেয়ে অধিক বিনিময় চুক্তি করে ক্ষেত থেকে ডাল তুলতে হচ্ছে।’

ক্ষেত থেকে ডাল তুলছেন এমন কয়েকজন নারী শ্রমিক শিল্পি বেগম,কাজল রেখা,রিনা বোগম ও ময়নার মা বলেন, রোদের এই তাপে কোনো ভাবেই এক সাথে ত্রিশ মিনিট বসা যায় না। ভোরে সাহরি খেয়ে নামাজ পড়ে আলো হলেই ক্ষেতে আসেন। সকালে রোদের তাপ বাড়লেই বাড়ি চলে যান।’

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা জানান, ‘এটা একটা প্রকৃতিক দুর্যোগ বলতে পারেন। এ সময় কোনো বৃষ্টি না হওয়ায় রৌদ্রের তাপদাহে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারপড়েও কৃষকদের বলা হয়েছে শ্রমিক মুজুরি যদি বেশি যায় তবুও ক্ষেত থেকে ডাল তুলে ফেলুন। তাতেও কৃষকদের লোকসান হবে না। কারণ বিগত বছরের চেয়ে এ বছর ডালের দাম অনেক বেশি।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com