যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাশনিবার , ৮ মে ২০২১
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যমুনায় বিলীন চৌহালী উপজেলা পরিষদ, ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম

Link Copied!

যমুনা নদীর প্রবল ভাঙনে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা পরিষদের সকল স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে অনেক আগেই । নানা ভোগান্তির মধ্যে সরকারি কার্যালয়গুলোর কার্যক্রম চলছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

বিলীন হয়ে গেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিও। এ কারণে বর্তমানে চিকিৎসা সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ।

যমুনার দুপাড়ে সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মানচিত্র এখন অনেক ছোট হয়ে গেছে। দেড় লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ উপজেলার আয়তন প্রায় ২১০ বর্গকিলোমিটার, ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯৮ হাজার।

উপজেলা কার্যালয় থেকে জানা যায়, নদীর পূর্ব পাড়ের খাসকাউলিয়া, বাঘুটিয়া, উমরপুর, খাসপুকুরিয়া ও ঘোড়জান এবং পশ্চিমপাড়ের সোদিয়া ও চাঁদপুর ইউনিয়ন নিয়ে চৌহালী উপজেলা গঠিত।

গত ৮ বছর নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে পূর্বপাড়ের উপজেলা সদর হিসেবে পরিচিত খাসকাউলিয়া ইউনিয়ন আংশিক এবং বাঘুটিয়া ইউনিয়নের অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পাশাপাশি তিন শতাধিক ঘরবাড়ি, অসংখ্য গাছপালা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তা-ঘাট নদীগর্ভে চলে গেছে কয়েক বছর হলো ।

এখন আর এই মানচিত্রের মত নেই চৌহালী উপজেলার ভৌগলিক অবস্থা

এ অবস্থায় চৌহালী সরকারি কলেজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও কোদালিয়া দাখিল মাদ্রাসায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, চৌহালী ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় তলায় থানা, অন্যান্য কক্ষে উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), কৃষি, মহিলা বিষয়ক, যুব উন্নয়ন ও সমবায় কার্যালয়ের কাজ চলছে।

কলেজের পরিত্যক্ত আবাসিক কোয়ার্টারে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়, প্রকৌশলীর কার্যালয়, হোস্টেলে বিআরডিবি, পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প, উপজেলা প্রধান পোস্ট অফিস।

কলেজ ছাত্র সংসদে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, খাসকাউলিয়া সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ,৩০ নং খাষকাউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনসার ভিডিপি ও চৌহালী সরকারি কলেজে অবস্থা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্যক্রম চলছে।

এছাড়া খারিজিয়া মাদ্রাসা মোড়ে অবস্থিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে মৎস্য অফিসের কার্যক্রম চলছে কুরকীতে । আর চৌহালী ডিগ্রি কলেজে সোনালী ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের শাখা স্থানান্তর করা হয়।

উপজেলার বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কাহ্হার সিদ্দিকী ও উমারপুর ভা: ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আব্দুল হাকিম বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে লণ্ডভণ্ড চৌহালী উপজেলার কোন অফিস কোথায় স্থানান্তর করা হয়েছে তা এখনও অনেকেই জানে না ।

পর্যায়ক্রমে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হতে হতে চৌহালী উপজেলার সকল সরকারি স্থাপনা এখন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

এ অবস্থায় দুর্গম চরাঞ্চল থেকে সেবা নিতে আসা শত শত মানুষ প্রতিদিন নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানান তারা।

চরধীতপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‍‍‍”উপজেলা হেডকোয়ার্টার অনেক সাজানো গোছানো ছিল। পাশেই ছিল থানা পুলিশ ও হাসপাতাল। যমুনার ভাঙনের কারণে এখন অফিসগুলো ছিন্নভিন্ন,নতুন অফিস যা খুঁজে বের করতেই দিন কেটে যায়। কাজ করব কখন?”

চৌহালী ডিগ্রি কলেজের (ভা:) অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান বলেন, “সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের বিভিন্ন অফিস কলেজে স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদ কলেজের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুটি টিনের ঘর তুলে দিয়েছে। সেখানে আপাতত পাঠদান চলছে।”

এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নদীতে বিলীনের পর খাসকাউলিয়া সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার টিনের ঘরে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে এখনও জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চালু হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন প্রামাণিক বলেন, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ছোট্ট একটি কক্ষে শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম চলছে। চরাঞ্চলের শিক্ষকরা অফিসিয়াল কাজে এখানে আসলেও তাদের বসার পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। স্টাফদের নিয়ে নানা সমস্যায় অফিস করতে হচ্ছে।

চৌহালী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‍”থানা কমপ্লেক্স নদীতে বিলীনের পর ডিগ্রি কলেজ থেকে অনেক কষ্ট করে জনগণকে আইনি সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এভাবে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যা হচ্ছে। নিজেদের থাকার জায়গা নেই। যেখানে অফিস, সেখানেই থাকতে হচ্ছে। কোনো আসামি ধরলেও তাকে রাখার জায়গা নেই।”

চৌহালী উপজেলার সহকারী কমিশনার ভুমি মাহিদ-আল হাসান বলেন, উপজেলা পরিষদের প্রায় সকল স্থাপনা যমুনা গর্ভে চলে যাওয়ায় অনেকটা ভ্রাম্যমাণভাবেই চলছে অফিসিয়াল সব কার্যক্রম। সকলের ভোগান্তি দূর করতে নিরাপদ স্থানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণ করা প্রয়োজন।” আমি এই উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি এর বেশি জানিনা ৷

পর্যায়ক্রমে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হতে হতে চৌহালী উপজেলার সকল সরকারি স্থাপনা এখন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

পর্যায়ক্রমে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হতে হতে চৌহালী উপজেলার সকল সরকারি স্থাপনা এখন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

চৌহালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, “এ উপজেলাটি এখন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ার উপক্রম। এ অবস্থার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড দায় এড়াতে পারে না। সঠিক নিয়মে কাজ করলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। তাদের গাফিলতির কারণে উপজেলা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি সে সময়ে ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাঙ্গাইলের (চৌহালী উপজেলা এর আওতাধীন) নির্বাহী প্রকৌশলী সেরাজুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর গতি-প্রকৃতি বোঝা মুশকিল। ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করা হলেও তা রোধ করা যায়নি। দাতা সংস্থার অর্থায়নে এ বছরই যমুনা-মেঘনা মিটিগেশন প্রকল্পের আওতায় যমুনার তীর রক্ষায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক ড.ফারুক আহমদ বলেন, পুনরায় চৌহালী উপজেলা পরিষদ স্থাপনের জন্য উপজেলার খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের চরকোদালিয়া মৌজায় ছয় একর জায়গা অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷নির্মিত হবে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন ৷

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com