ঢাকাবুধবার , ২৪ নভেম্বর ২০২১
  1. Entertainment
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম ও জীবন
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. ছবিঘর
  10. জাতীয়
  11. জেলার খবর
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. দেশজুড়ে
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রচ্ছদ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাহজাদপুরে ঝুরি তৈরি করে স্বাবলম্বী শ’তাধিক নারী!

মাহবুবুল আলম,শাহজাদপুর প্রতিনিধি
নভেম্বর ২৪, ২০২১ ১:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যমুনার ভাঙনে নিঃস্ব সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের দুর্গম হাটপাঁচিল গ্রামের শ’তাধিক উদ্বাস্তু ছিন্নমূল নারীরা আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা পালা-পার্বনে,উৎসবে,গ্রামীণ মেলায় বহুল প্রচলিত মুখরোচক খাবার ঝুরি তৈরি করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।

ছিন্নমূল,আত্মপ্রত্যয়ী কর্মঠ এসব নারীরা পরনীর্ভরশীলতার নাগপাশ ডিঙিয়ে স্ব-নীর্ভর ও স্বাবলম্বী হয়েছেন।তাদের সাফল্যগাথা স্ব-নীর্ভর জীবনকাহিনী শুনতে অনেকটা কল্পকথা মনে হলেও বাস্তবতা অনেক সময় কঠিন কল্পনাকেও হার মানাতে পারে-এমনই জ্বাজল্যমান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুগর্ম হাটপাঁচিল গ্রামের শ’তাধিক ঝুরি প্রস্তুতকারক স্বাবলম্বী নারীরা।

ঝুরি প্রস্তুতকারীরা সরেজমিন হাটপাঁচিল গ্রাম পরিদর্শনকালে ওই গ্রামের বয়োবৃদ্ধা মইতন, সুফিয়া, মমতাসহ বেশ কয়েকজন ঝুরি প্রস্তুতকারক নারীরা জানান,তাদের বাড়িঘর,জমিজমা,সহায়-সম্বল তিন থেকে চারবার রাক্ষুসী যমুনার কড়াল গ্রাসে বিলীন হওয়ায় কালের বিবর্তনে সময়ের পরিধিতে তারা উদ্বাস্তু ও দুস্থে পরিণত হয়েছিলো।

যমুনার তীরবর্তী এ গ্রামটি বালুর চরাঞ্চল হওয়ায় এখানে কোন ফসলের আবাদও হয়না।পাশের গ্রামগুলোতেও জীবীকা নির্বাহের জন্য উল্লেখযোগ্য কোন কাজও সচারচার পাওয়া যায়না।যমুনার ভাঙনে তাদের মতো কর্মহীন নারীর দিন কাটছিলো অতিকষ্টে,অর্ধাহারে, অনাহারে।দিনে দিনে যমুনায় সব হারিয়ে একে এক তারা পথের ভিখারীতে পরিণত হয়েছিলো।

এমতাবস্থায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের যোগান দেয়াটাই তাদের জন্য হয়ে উঠেছিলো অন্তরায় ও কষ্টসাধ্য, রীতিমতো অসাধ্য ব্যাপার!

এর মধ্যেও ‘মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ!’এর মতোই পুরুষপ্রধান পরিবারের অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রী পরিজন ফেলে ঘর বেঁধে বছরের পর বছর অন্যত্র অবস্থান করায় স্বামী পরিত্যাক্তা অনেক নারী ও পরিজনের জীবন-জীবীকা ধুঁকে ধুঁকে নিদারুণ কষ্টেই চলছিলো!

জীবীকার তাগিদে তারা ঝুরি তৈরির ও বিক্রির কাজ বেছে নেয়।এরপরেই তাদের জীবনে দিনবদলের পালা শুরু হয়।ঝুঁরি বিক্রি করে তারা লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন।এরপর থেকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি তাদের।

এভাবেই হাটপাঁচিল গ্রামের শ’তাধিক নারীরা ঝুরি তৈরির কাজ করে বর্তমানে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন।নারী হয়েও আয় করে পরিবারের জীবীকা নির্বাহ করার পাশাপাশি অনেকেই তাদের সন্তান-সন্তানাদিকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন শিক্ষিত করে তুলতে।আবার অনেকেই ঝুরি তৈরির পাশাপাশি বাড়িতে গরু-বাছুর,ভেড়া-ছাগল প্রতিপালন করে অধিক মুনাফা আয় করছেন।’

এ গ্রামের ঝুরি প্রস্তুতকারক আরও জানান,শাহজাদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের তৈরি ঝুরির বেশ চাহিদা থাকায় বিক্রিতে কোন বেগ পোহাতেও হচ্ছেনা।ঝুরি প্রস্তুতের প্রধান কাঁচামাল আলা চালের দাম বাজারে একটু বৃদ্ধি পাওয়ায় অতীতের তুলনায় বর্তমানে তাদের লাভ একটু কম হচ্ছে।

তাদের ভাষ্যমতে,‘ঝুরি বিক্রির নীট মুনাফা হিসেবে যা থাকছে তা দিয়ে গ্রামের শ’তাধিক দুস্থ নারী পরিবার তাদের পরিজন নিয়ে বর্তমানে বেশ ভালোভাবেই দিন অতিবাহিত করছেন ও নিজেদের ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করছেন।লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে কোমলমতিরাও ঝুরি তৈরির কাজে বড়দের সহযোগীতা করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেখামনি পারভিন জানান,আমরা নারীরা যে স্বপ্ন দেখি সরকার যে স্বপ্ন দেখতেছেন নারীর ক্ষমতায়নের বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে আমরা মনে তার দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছি।যে এত প্রত্যন্ত অঞ্চলে একজন মহিলা যদি বুঝতে পারে তাকে স্বাবলম্বী হতে হবে তা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা জানান,এক সময়ে এ এলাকার মানুষেরা বিভিন্ন ক্রাইমের সাথে জড়িত ছিলো আজ তারা পেশা পরিবর্তন করে এই ঝুরি তৈরিতে সংসার চালাচ্ছে এক্ষেত্রে সরকারিভাবে যে সকল সুযোগ সুবিধা আছে তা থেকে তাদের সহজ শর্তে পুজির যোগান দিতে পারি।

যেকোনো সংবাদ পাঠান এই ইমেইলে [email protected]