যমুনা প্রতিদিন
ঢাকারবিবার , ৯ জানুয়ারি ২০২২
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পত্নীতলায় উদীয়মান গীতিকার আল আমিন কবির

মাসুদ রানা,পত্নীতলা (নওগাঁ)
জানুয়ারি ৯, ২০২২ ৮:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আল আমিন কবির ছোট থেকেই সাংস্কৃতিমনা, যেখানেই গান বাজনা বিচিত্রা অনুষ্ঠান,কনসার্ট হতো শুনলেই বাড়ী থেকে বা স্কুল থেকে নানা অজুহাতে তার যেতেই হবে সেখানে সেসব অনুষ্ঠানে অনেককে অনুরোধ করিয়ে গান কবিতা আবৃত্তি ও করতেন।

পাড়ার বা এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপনাও করতে দেখা যেত তাকে।সুন্দর বাচনভঙ্গি,কথা মিলেয়ে নানা ভঙ্গিতে উপস্থাপনা করে নজড় করতেন অনেকেরই।

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা সদর নজিপুর ব্রীজ পাড়া এলাকার মৃত মাসুম মিয়া ও মরহুমা আলেয়া বেগমের ছোট সন্তান বর্তমানে ভ্যাটেনারী প্র্যাকটিস করছেন কিন্তু ছোট বেলা থেকে শিল্পমনা,কাজের ফাঁকে সময় পেলেই গান কবিতা গল্প লেখেন।

আপনার লিখা গান কোথাও প্রকাশ হয়েছ? আল আমিন বলেন আমার গান এসএ বিনোদন চ্যানেলটির ক্রয় করেন আমার কথা ও সুর হৃদয়ের আয়নাতে গানটি ২০১৮ সালে প্রথম যাত্রা শুরু করে গানটি গেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী মেহেদী হাসান।

এমনিভাবে ২০১৯ -২১ সালে পর্যায়ক্রমে আমার কথা ও সুর রিলিজ হতে লাগলো বর্তমান আমার ১৩টি গান রিলিজ হয়েছে,৬ টি গানের কন্ট্রাক্ট হয়েছে,হাতে আছে২৮ টি গান সংরক্ষন আছে।কিছু গানের পান্ডুলিপি বেতারেও পাঠিয়েছি।

জেলা উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পয়েছেন অনেক পুরস্কার সাম্প্রতিক সময়ে ডি এ তায়েফ ফ্যান ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে সেরা দশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সুরকারও গীতিকারের সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

ভবিষ্যৎ আরো অনেক গান করতে চান মাটি ও মানুষের গান লিখতে চান সেজন্য সকলের দোয়া কামনা করছেন এই তরুন গীতিকার।

একান্ত আলাপ চারিতায় আাল আমিন কবির বলেন ছোটবেলাতে সংগীত বিনোদন টা তার কাছে প্রিয় ছিল পড়াশোনার ফাঁকে পেলেই রেডিও ডেকসেট ক্যাসেট কিংবা টিভির সামনে বসে থাকতো আর কল্পনায় মেতে উঠতো সঙ্গীতের ভূবনে।

আল আমিন আরো বলেন জীবনের প্রথম সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম ছবিটির নাম ছিল “আবে হায়াত” সাদাকালো ছবি।তারপর দেখেছি চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা আংশিক রঙ্গিন।এগুলো ছবি দেখে আমার আবেগ আরো বেড়ে যায় তখন আমার বাল্যবন্ধু মিজানকে নিয়ে আমরা কাউকে না জানিয়ে চুপি চুপি দুজন সিনেমা দেখতাম আর সিনেমা শেষ হয়ে গেলে দুজনে মিলে রিকশায় চড়ে গান গাইতে গাইতে বাসায় আসতাম।

বাবা একদিন আমাকে নিয়ে নাটোরে বেড়াতে নিয়ে যায়, সেখানে থাকেন আমার চাচাতো ভাই উপজেলা অডিট অফিসার উনার ছেলে আমার ভাতিজার নাম মিলটন কাগজ-কলম নিয়ে বসলো ১৫-২০ মিনিটে কবিতা লিখে ফেলো বাবা তার খুব প্রশংসা করত যদিও আমি বিষয়টি অবাক হয়ে যাই তবুও মনে মনে ভাবি আমি যদি ওর মতো করে লিখতে পারতাম, আমারা ওখান থেকে বাসায় ফিরে আসি তখন থেকে আমি কবিতা লেখার চেষ্টা করি যাতে বাবা আমার লেখা কবিতা পড়ে মুগ্ধ হয়ে যায় কবিতা লিখি আর পাতা ছিঁড়ে ফেলি কোনোভাবেই তা সম্ভব হয়না দুশ্চিন্তায় পড়লাম আসলে আমার হবে না একদিন দুপুরবেলা দুতালায় বসে আছি হঠাৎ কবিতার কথা মনে পড়ে গেল একটি কবিতা পাঠ করলাম আজকে কবিতা লিখবো হ্যাঁ শুরু করলাম কবিতা, দুপুর গড়িয়ে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা তবে শেষ হলো সেই কবিতা এমনিভাবে চার-পাঁচটি কবিতা লিখলাম বাবাকে একদিন দেখলাম বাবা মিটমিট করে হাসছে আর কবিতা পড়ছে মাঝে মধ্যে আমার দিকে দেখছে পরিশেষে বাবা বললো আরো চেষ্টা করতে হবে আমি ভাবলাম বাবার খুব একটা পছন্দ হয়নাই মনে ইচ্ছে জাগলো আরো ভালো কিছু করতে হবে একদিন পত্রিকায় খবর পড়ে ভাবলাম একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কবিতা প্রকাশিত হবে এবং প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত করা হবে আমি পত্রিকায় অংশগ্রহণ করেছি আমার কবিতা প্রকাশিত হয়েছে এবং আমাকে কর্তৃপক্ষ পরিষ্কৃত করেন বাবা-মা জেনে খুশি হন।

১৯৯৫ সালে আমার ঢাকার দুলাভাইয়ের বন্ধু বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের পরিচালকের সাথে এফডিসিতে ঘুরতে গেছিলাম সেখানে যেয়ে মনে ইচ্ছে আমি যদি ফিল্মে কাজ করতে পারতাম তবে কত না ভালো হতো ওখান থেকে ফিরে এসে বাসায় সবার সাথে শেয়ার করলাম পরিবার থেকে নাখোশ তখন পরিবারের কথা চিন্তা করে মনে মনে ভাবলাম কবিতার পাশাপাশি গান লিখব।শুরু করলাম গান মাঝখানে পড়াশোনা ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় বিরোতি টানলাম অবশেষে ২০১৬ সাল থেকে মনের টানে আবারও গান লিখতে শুরু করলাম।

যেকোনো সংবাদ পাঠান এই ইমেইলে jamunaprotidin@gmail.com