যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৩ জানুয়ারি ২০২২
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাকেরগঞ্জ পৌরসভা উন্নয়ন ও আধুনিকতার ছোঁয়ার ধারক বাহক জননেতা মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া

খান মোঃ মেহেদী,নিজস্ব প্রতিনিধি
জানুয়ারি ১৩, ২০২২ ২:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক,খান মেহেদীঃ

বরিশাল জেলার একটি উপজেলা বাকেরগঞ্জ।একসময় বাকেরগঞ্জই জেলা ছিল।বরিশাল ছিল বাকেরগঞ্জের আওতায়।ছোট এই শহরটি শ্রীমন্ত নদীর তীরে অবস্থিত। সেই জেলা পরবর্তীকালে বরিশাল নিয়ে যাওয়া হয়।

আগা বাকের খান নামে এক প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন।তার নামে বাকেরগঞ্জের নামকরণ করা হয়।তিনি এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেন।এখানে ধীরে ধীরে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার লাভ করে।চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবী লোকের বসবাস বৃদ্ধি পেয়ে বাকেরগঞ্জ শহরে পরিণত হয়।বাকেরগঞ্জ বরিশাল-৬ নির্বাচনী এলাকার একটি অংশ।

বাকেরগঞ্জ রঙ্গশ্রী এবং ভরপাশা ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে ১৯৯০ সালে বাকেরগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়।এ পৌরসভায় মোট ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে।এ পৌরসভা শহরটি শ্রীমন্ত নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি জনবহুল এবং ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত।

বাকেরগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ও পূর্ব দিকে রয়েছে তুলাতলী নদী।এ পৌরসভায় আছে স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার।এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো হলো-বাকেরগঞ্জ বন্দর,দুর্গা মন্দির,হ্যালিপ্যাড,তুলাতলী নদীর ব্রিজ,শ্রীমন্ত নদী ইত্যাদি।

বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় ২টি ডিগ্রি কলেজ,৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়,৩টি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন স্কুল, নূরানি মাদ্রাসা,এতিমখানা ও হেফজখানা রয়েছে।

বাকেরগঞ্জ পৌরসভার মোট আয়তন ৬.২৫ বর্গ কিলোমিটার।১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পৌরসভার ৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৪০ কিলোমিটার সড়ক পাকা এবং ১০ কিলোমিটার সড়ক আধা কাঁচা ও কাঁচা।সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী পৌরসভার লোকসংখ্যা ১৫ হাজার ৪১৮ জন।সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৭ শতাংশ।এ পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত হলেও পৌরবাসীর কিছু সমস্যা রয়েছে।

পৌরসভার বর্তমান মেয়র মো. লোকমান হোসেন ডাকুয়া।তিনি এর আগেও দুবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।তিনি বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজের ভিপি,বাকেরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।তিনি বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

পৌরসভার কাউন্সিলর রিপন খন্দকার বলেন, তার সুনাম শুধু পৌরসভায়ই নয়,বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।কাউন্সিলর মোকলেচুর রহমান বলেন,মেয়র আমাদের সব কাউন্সিলরের সমন্বয় উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকেন।

সেই জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার যমুনা প্রতিদিন পএিকার সাংবাদিক খান মেহেদী।তার সঙ্গে পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন,সমস্যা ও সমাধান নিয়ে কথা হয়েছে।

পৌর মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার পর কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন জানতে চাইলে পৌর মেয়র বলেন,২০১১ সালে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই এলোমেলো বাকেরগঞ্জকে সাজাতে শুরু করি। বাকেরগঞ্জ পৌরসভাকে ‘গ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করেছি।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও হাটবাজারের উন্নয়ন করেছি।সড়কবাতি,পানি সরবরাহ,রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের কাজ করেছি।জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণ করেছি।পানি সমস্যার সমাধান,নতুন রাস্তা নির্মাণ, আধুনিক পৌর ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।এছাড়া পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণ,পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণ,পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ পৌরসভা শ্রীমন্ত নদীর তীরে অবস্থিত।শ্রীমন্ত নদীটি ভরাট হওয়ার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল।সেই শ্রীমন্ত নদী খনন,দুই ধারে বেড়িবাঁধ ও ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। সোলার লাইট স্থাপন ও গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

পৌরসভার নাগরিক উন্নয়নে নির্বাচনী প্রতিশ্রতি কীভাবে বাস্তবায়ন জানতে চাইলে পৌর মেয়র বলেন,ইতোমধ্যে বেশির ভাগ প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন করেছি।পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল : মুসলিম গোরস্থান ও হিন্দুদের শ্মশান ঘাট নির্মাণ।পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে ৮০ শতাংশ জমি উপর মুসলিম গোরস্তান ও ৩৬ শতাংশ জমির ওপর শ্মশান ঘাট নির্মাণকাজ করেছি।

বয়স্ক-বিধবা-স্বামী পরিত্যক্ত ভাতার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন জানতে চাইলে পৌর মেয়র বলেন,সব কাউন্সিলর,জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এসব সহায়তা প্রধান করা হতো।বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ১০০ ভাগ এসব ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।যার কাজ চলমান রয়েছে।

পাবলিক লাইব্রেরি করার পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে পৌর মেয়র বলেন,জ্ঞান চর্চার জন্য পাবলিক লাইব্রেরি অতি জরুরি।আমরা দ্রুত লাইব্রেরির জন্য স্থান নির্ধারণ করে কাজ শুরু করব।

জলাবন্ধতা নিরসন বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে অনেক ড্রেনের কাজ শেষ হয়েছে।বাকি কাজগুলো চলমান রয়েছে।যত দ্রুত পারি শেষ করব।শিশুদের বিনোদনের জন্য সাহেবগঞ্জ তুলাতলী নদীর পাশ ঘিরে পার্ক নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন আছে।

সংকট,সীমাবদ্ধতা ও নাগরিক অসুবিধা আছে স্বীকার করে মেয়র বলেন,আমরা শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান করব।

মেয়র মো. লোকমান হোসেন ডাকুয়া সব শেষে বলেন, আমি পৌরবাসীদের সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে তাদের সার্বিক উন্নয়নে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে বাকেরগঞ্জ পৌরসভাকে আধুনিক ও মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়তে চাই।

যেকোনো সংবাদ পাঠান এই ইমেইলে jamunaprotidin@gmail.com