যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাশনিবার , ২৪ এপ্রিল ২০২১
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মোদী বিরোধী আন্দোলন ও পক্ষ-বিপক্ষে কিছু যৌক্তিক তর্কবিতর্ক…

যমুনা প্রতিদিন
এপ্রিল ২৪, ২০২১ ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইমরান হোসাইন

শিক্ষার্থীঃ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া।

একদিকে সরকারি স্থাপনাগুলো ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে হারিয়ে গেছে কিছু মায়ের অতি আদরের কিছু নয়ণমনি। আবার মোদী বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ও অপ্রত্যাশিত তান্ডবের জেরে ওলামায়ে কেরামের ছোট্ট কাফেলাটি দিন দিন তাদের সদস্য খুইয়ে ফেলছেন।

জাতির যখন এহেন ক্লান্তিলগ্ন, তখন কিছু মানুষ সরকারের ভূমিকার পক্ষে আর কিছু মানুষ আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে এমনভাবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন, যেন আন্দোলনরত শাহাদাত বরণকারী ছাত্ররা অপরাধী, আবার কেউ কেউ যুক্তির মাধ্যমে প্রামান করেন সরকারি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা বৈধ। এই দুই পক্ষের তর্কবিতর্ক সরকারি স্থাপনাগুলোর ভাঙ্গা টুকরা আর শহীদদের তাজা রক্তে রসালো হয়ে উঠে। জাতির এই ক্লান্তিলগ্নে তর্ক-বিতর্কে না জড়িয়ে আমাদের ভূমিকা কিরূপ থাকা উচিত সে বিষয়টি খোলাসা করার নিমিত্তেই আজকের এই প্রবন্ধটি।

মোদি বিরুধী আন্দোলন ও আন্দোলনের মূল হেতু…
একজন শিক্ষিত পরিপাটি লোক এক ভদ্রলোককে ইঙ্গিত করে বললো, মোদীর আগমণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা পাগলামি ও মূর্খতা ছাড়া কিছু নয়। মোদীর আগমনে আমাদের দেশ উপকৃতই হয়েছে।
ভদ্রলোকটি মুচকী হেসে বললো, কতটুকু উপকার হয়েছে তা আপনি আমার থেকে ভালো জানেন। আল্লাহর কৃপায় আমাদের কপাল ভালো ছিলো বলে হয়তো বাংলাদেশ-ভারত সমান-সমান লাভবান হয়েছে অর্থাৎ আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হইনি। অন্যথায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবণাই বেশি ছিলো। এবার আসুন মোদির কর্মকাণ্ড নিয়ে কিছু আলোচনা করি। কিছুদিন আগে ভারতে গরু জবাই নিষিদ্ধ এই মোদী সরকারি করেছিলো। তখন মুসলমানরা ঈদুল আজহাতে গরু জবাইয়ের মাধ্যমে তাদের কোরবানি করতে পারেনি।
যারা চেষ্টা করেছে তারা নির্যাতিত ও অত্যারিত হয়েছে। গরুর গোস্ত খাওয়ার অপরাধে মুসলিম ভায়ের জিহ্বা কেটে ফেলা হয়েছে। গরু জবাইয়ের অপরাধে অনেক মুসলিম ভাইকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এসবের পেঁছনে মোদী সরকারেরই হাত ছিলো। আপনি নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন যে, মোদী সরকারের এক মন্ত্রী প্রকাশ্যে মুসলিম মেয়েদেরকে ধর্ষণের অনুমতি দিয়েছে। এই ধর্ষণের শিকার যদি আপনার বোন কিংবা অন্য কোন নিকটাত্মীয় হতো তখন কী আপনি নরেন্দ্র মোদীকে আপনার দেশে আমন্ত্রণ করতেন? না, করতেন না। আপনি এই লোকটাকে স্বাভাবিকভাবেও নিমন্ত্রণ জানাতেন না। অথচ আমাদের সরকার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে, কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন বঙ্গবন্ধুর শত জন্মবার্ষিকীতে এই ব্যক্তিকে চীফ গেস্ট হিসেবে আমাদের দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আপনি কী জানেন, গুজরাটে শত শত মুসলিম হত্যার নেতৃত্ব কারা দিয়েছে? নরেন্দ্র মোদী যে সেই নেতৃস্থানীয় লোকদেরই একজন ছিলো তা কি আপনি জানেন?
বাবরী মসজিদ ভেঙে মসজিদের স্থানে মন্দির তৈরী করা হচ্ছে কোন সরকারের আমলে বলতে পারবেন? বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার প্রকাশ্যে বলা হয়েছিলো যে তারা ক্ষমতায় আসলে বাবরী মসজিদকে মন্দির বানাবে, তারা তা করে দেখিয়েছে। আজো বিজেপি সরকারের হাতে এমন অনেক মসজিদের লিস্ট রয়েছে, যেগুলোকে মন্দিরে রূপান্তরিত করার পায়তারা চলছে। আর নরেন্দ্র মোদী সেই বিজেপি সরকারেরই প্রধানমন্ত্রী। বলা যায় এসবের মূল হোতা তিনিই। যদি আমরা উপরোক্ত বিষয়গুলোকে সাম্প্রদায়িক চেতনা বলে উপেক্ষা করি, তবুও মোদি বিরুধী আন্দোলন যৌক্তিক। কারণ, মোদি সরকারের দুই মেয়াদে ক্ষমতায় আরোহণের সময় শেষ হওয়ার উপক্রম হলেও সীমান্তে বাঙ্গালি নিরীহ মানুষ হত্যা এখনো বন্ধ হয়নি। তিস্তা পানি বন্টন চুক্তিতে এখনো বাংলাদেশ কিঞ্চিৎ পরিমাণ ও লাভবান হয়নি। মোদী বিরুধী আন্দোলনের মূল হেতু এগুলোই।

এতক্ষণ শিক্ষিত ও পরিপাটি লোকটি কথা বলার জন্য সুযোগ খুঁজছিলো, ভদ্রলোকটির বকবকানি একরকম তাঁকে বিরক্ত করে তুলেছে। শিক্ষিত লোকটি বললো, ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ অনেক সময়ে আমরা তাঁদের সহযোগিতা পেয়েছি। সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশে আসবে এতে অসুবিধে কোথায়।

আর যদি ধরে নেই যে ভারত আমাদের বন্ধু নয়, তবুওতো মোদির বিরুদ্ধে আন্দোলন করা উচিত হয়নি। শত্রুকেওতো দাওয়াত করে খাওয়ানো যায়। ভদ্রলোকটি আবারো মুচকি হেসে উঠে বললো, আন্দোলনকারীদের আপত্তি দাওয়াত করে খাওয়ানোতে নয়, তারা আপত্তি তুলেছিলো মুসলমান প্রধান দেশে একজন মুসলিম বিদ্বেষীকে চীফ গেস্ট বানিয়ে তাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে তাদের কিংবদন্তী নেতার জন্ম শত বার্ষিকিতে নিমন্ত্রণ জানানোর কারনে। আর আপনি বলছেন ৭১ এর কথা, ভারতের সহযোগিতায় আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কথাটি কোন দিক থেকেই আমি ভুল মনে করি না।

তবে আমরা ৪৭ এর পর থেকে ৭১ পর্যন্ত ইতিহাস ঘাটলে বুঝতে পারি, আমাদের দেশের স্বাধীনতা আমরা যতটুকু না চেয়েছি তার চেয়ে বেশি চেয়েছে ভারত। স্বাধীনতার পরবর্তী আমাদের না থাকার মধ্যে যে সামান্য সম্পদ ছিলো এর অনেকটাই ভারত লুটে নিয়েছে। আমাদের প্রতি ভারতের ৭১ এর করুণা ছাড়া আর কোন করুণাতো আমি দেখি না। আপনি কোথেকে বললেন, “আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ অনেক সময়ে আমরা তাদের সহযোগিতা পেয়েছি।”

শিক্ষিত লোকটির মুখে একরাশ হাসি ফুটে উঠলো, ভদ্রলোকটিকে বললো, আপনিতো দেখছি আমার সাথে কথা বলার জন্য পুরো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন। ভদ্রলোকটি জবাব দিলো, না ভাই, আপনার সাথে দেখা হবে তাও আমি জানতাম না, আর আলোচনা করাতো আমার জন্য সৌভাগ্যের।

শিক্ষিত লোকটি বললো, বলেনতো সরকারি স্থাপনাগুলো ভাঙ্গা কী আন্দোলনকারীদের উচিত হয়েছে? ভদ্রলোকটি বললো, না, এটা ঠিক হয়নি, কস্মিনকালেও ঠিক হওয়ার কথা নয়। দেশের প্রকৃত নাগরিক শত কষ্ট-ক্লেশের পরও দেশের সম্পদ রক্ষা করতে সদা সচেষ্ট থাকে। তবে এর সূত্রপাত হয়েছিলো বায়তুল মোকার্রমে আন্দোলনকারীদের প্রতি হামলার জের ধরে। আর চরম আকার ধারণ করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের গুলিতে এক ছাত্র হত্যার পর থেকে।

এইতো গতকাল অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ স্যারের এক সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম, তিনি বলেছেন, আন্দোলনকারীদের আন্দোলন যদি ভুল হয়, তাহলেও সরকার তাদের উপর আক্রমণ করতে পারে না। এমন অবস্থাতেও তাদের নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের দায়িত্ব ও কর্তৃব্য।

এই আন্দোলনে ১৯ থেকে ২০ জন ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন। কিন্তু এর প্রতিবাদে তেমন কোন বড় বিক্ষোভ কী হয়েছে? যেখানে একজন সাধারণ মানুষের হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশ স্ফুলিঙ্গ হয়ে উঠার কথা, সেখানে এমন তান্ডব কী ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে হালকা মৃদু বাতাস বয়ে যাওয়ার মত নয়?

শিক্ষিত পরিপাটি লোকটি বললো, ভাই আপনি কথাগুলো ঠিক বলেছেন ও খুব সুন্দর করে বলেছেন। আমাদের সকলের এখন উচিত হবে সরকারের কাছে দাবী জানানো যে, আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি সরকার যেন সর্বোচ্চ সমবেদনা প্রকাশ করে এবং দেশের জনগণকে সরকার আশ্বস্ত করে যে, আর কোন আন্দোলনে কোন মায়ের বুক খালি হবে না, কোন ওলামায়ে কেরামকে গ্রেফতার করা হবে না, যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে, শীগ্রই তাদেরকে মুক্তি দেয়া হবে। তাহলে হয়তো হারিয়ে যাওয়া প্রাণগুলো তাদের প্রাণত্যাগের কিছুটা স্বার্থকতা খুঁজে পাবে।

১১ রমজান ২০২১ইং
ভোর ছয়টা…

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com