যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাশুক্রবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২২
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের প্রয়াণ দিবস

যমুনা প্রতিদিন অফিস
জানুয়ারি ১৪, ২০২২ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলা নাটকে নতুন ধারার প্রবর্তক নাট্যাচার্য ড. সেলিম আল দীন।ঔপনিবেশিক সাহিত্যধারার বিপরীতে গিয়ে নাটককে আবহমান বাংলার গতিধারায় ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি।বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের স্বপ্নদ্রষ্টা এই মহারথী।তিনি ঢাকা থিয়েটারেরও প্রাণপুরুষ।

আধুনিক বাংলা নাটকের পথদ্রষ্টা নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের চতুর্দশ প্রয়াণ দিবস আজ শুক্রবার।নানা পদকে ভূষিত এই নাট্যকারের প্রয়াণ দিবস করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে পালন করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে ‘এই মুখ তোমার মুখ, একাকার একাকার’ স্লোগান নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেলিম আল দীন।যুক্ত হন ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে।প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষে কপি রাইটার হিসাবে যোগ দেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা বিটপীতে।১৯৭৪ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন।

তিনি বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সপ্নদ্রষ্টা।ঢাকা থিয়েটার ও গ্রাম থিয়েটারের কাজ করার পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।শুধু তাই নয় ‌‌‘আমরা নাট্য শ্রমিক, নাটক আমাদের শ্রম ও ঘামের ফসল’- এই স্লোগানটিও তার লেখা।

সাংস্কৃতিক কর্মীদের তীর্থস্থান ‘সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চ’র (পূর্বে যার নাম ছিল শুধু মুক্তমঞ্চ) পরিকল্পনাকারী নাট্যচার্য সেলিম আল দীন।ঢাকা ও গ্রাম থিয়েটারের পাশাপাশি নাটককে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়ার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ।এই বিভাগে শিক্ষকতার পাশাপাশি দ্বৈতা-দ্বৈতাবাদের আলোকে লেখেন কালজয়ী সব নাটক।বাংলা নাটকের ইতিহাসে তিনি প্রথম বাংলা নাট্যকোষ রচনা করেছেন।

সেলিম আল দীন রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে আছে ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’, ‘মুনতাসির’, ‘শকুন্তলা’ ও ‘কীত্তনখোলা’।এছাড়া ‘কেরামত মন্ডল’, ‘যৈবতি কন্যার মন’, ‘চাকা’, ‘হরগজ’, ‘প্রাচ্য’, ‘হাতহদাই’, ‘মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য (গবেষণা)’, ‘একটি মারমা রুপকথা’, ‘বনপাংশুল’, ‘নিমজ্জন’, ‘ধাবমান’, ‘স্বর্ণবোয়াল’, ‘পুত্র’।

তার লেখা বেশ কয়েকটি নাটক থেকে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র।সেসবের মধ্যে ১৯৯৪ সালে নির্মিত হয় ‘চাকা’, ‘কীত্তনখোলা’ নাটক থেকে চলচ্চিত্র নির্মিত হয় ২০০০ সালে।এছাড়া তিনি ‘একাত্তরের যীশু’ চলচ্চিত্রের সংলাপ রচনা করেন।সবশেষ তার নাটক ‘যৈবতি কন্যার মন’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।যেটি মুক্তির অপেক্ষায় আছে।

সেলিম আল দীনের লেখনিতে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে সবসময়।তিনি তার নাটকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা বলেছেন।সেই সাথে তার লেখায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার স্ফুরণ ঘটেছে।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সেলিম আল দীন অর্জন করেন একুশে পদক,বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার।তার রচনা বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন সেলিম আল দীন।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়।

যেকোনো সংবাদ পাঠান এই ইমেইলে jamunaprotidin@gmail.com