যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাশুক্রবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২২
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছদ্মবেশে ২০ বছর কাটানোর পরে’ অবশেষে র‍্যাবের হাতে ধরা পড়লেন ফাঁসির আসামি সৈয়দ আহমেদ!

রুহুল আমীন খন্দকার,স্টাফ রিপোর্টার
জানুয়ারি ২৮, ২০২২ ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কখনো উদ্বাস্তু, কখনো বাবুর্চি, কখনোবা নিরাপত্তাকর্মীর ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন চট্টগ্রাম নগরে।তাঁর নাম সৈয়দ আহমেদ।তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আলোচিত ব্যবসায়ী জানে আলম হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

২০ বছর ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।অবশেষ ধরা পড়েছেন।গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত-রাতে নগরের আকবর শাহ থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন র‍্যাব।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) নুরুল আবসার আজ শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) ২০২২ ইং দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন,গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সৈয়দ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশঃ- ২০০২ সালের ৩০ মার্চ সকালে জানে আলমকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বড় ছেলে তজবিরুল আলম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানায় ২১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই বিচারিক আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এরপর রায়ে সৈয়দ আহমেদসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ৮ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করেন। আপিলে সৈয়দ আহমেদসহ ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২ জনকে যাবজ্জীবন ও বাকিদের খালাস দেওয়া হয়।

র‍্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবসার বলেন, গ্রেপ্তারের পর সৈয়দ আহমেদকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তাঁর পলাতক জীবন সম্পর্কে বিবরণ দিয়েছেন।

ছদ্মবেশে ২০ বছরে সৈয়দ আহমেদ জানিয়েছেন,জানে আলম হত্যাকাণ্ডের পরপরই তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ডাকাত দলের সঙ্গে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আত্মগোপন করেন।প্রথম চার থেকে পাঁচ বছর সৈয়দ আহমেদ তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজন ছেড়ে বাঁশখালী, আনোয়ারা, কুতুবদিয়া, পেকুয়ায়ার সাগর কূলবর্তী এলাকায় থাকতে শুরু করেন। পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় উদ্বাস্তু হিসেবে অবস্থান করেন।সৈয়দ আহমেদ একপর্যায়ে জঙ্গল ছলিমপুরে মশিউর বাহিনীর প্রধান মশিউরের ছত্রচ্ছায়া ও সহযোগিতায় সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের কারণে ওই এলাকায় থাকা নিজের জন্য নিরাপদ মনে করছিলেন না সৈয়দ আহমেদ।এবার তিনি চট্টগ্রামে বিভিন্ন মাজার এলাকায় বাবুর্চির কাজ শুরু করেন।

একপর্যায়ে সৈয়দ আহমেদ চট্টগ্রাম মহানগরের আকবরশাহ থানা এলাকার একটি বাড়িতে নিরাপত্তাকর্মীর ছদ্মবেশে কাজ নেন।তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

র‍্যাব জানায়, পলাতক থাকাকালে সৈয়দ আহমেদ দুটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র বানান।তিনি তাঁর পরিবার, পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখেন।ফলে তাঁকে কোনোভাবেই শনাক্ত করা যাচ্ছিল না।গ্রেপ্তারকৃত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী সৈয়দ আহমেদকে লোহাগাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর,খবরের পিছনের খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন।আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব। jamunaprotidin@gmail.com