যমুনা প্রতিদিন
ঢাকারবিবার , ২৫ এপ্রিল ২০২১
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা

নকল ওষুধ কারখানায় সফল অভিযান,আরএমপি কমিশনারের পুরস্কার পেলেন ডিবি পুলিশ

রুহুল আমীন খন্দকার, স্টাফ রিপোর্টার
এপ্রিল ২৫, ২০২১ ৭:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ নকল ঔষধ, ঔষধ তৈরীর কাঁচামাল, ঔষধ তৈরীর একটি মেশিন জব্দ’সহ ০২ জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে পুরস্কার প্রদান করেছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

আজ রবিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১২ টায়লর দিকে আরএমপি সদর দপ্তরে ভাল কাজের উৎসাহ প্রদানের লক্ষে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি পুলিশ কমিশনার রাকিবুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল হাসান’সহ অভিযানে অংশগ্রহণকরী সকল সদস্যদেরকে পুরস্কার প্রদান করেন আরএমপি কমিশনার।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ আরেফিন জুয়েল’সহ নগর পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ।

উল্লেখিত ঘটনা সুত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর ভদ্রা জামালপুর এলাকায় নকল ঔষধ তৈরির ওই কারখানার (বাসায়) অভিযান চালায় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় বিপুল পরিমাণ নকল ঔষধ, ঔষধ তৈরীর কাঁচামাল, একটি মেশিন জব্দ’সহ কারখানার মালিক শফিকুল ইসলাম আনিস (৪৬) ও তার সহযোগী রবিউল ইসলাম (৩২) কে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

পরদিন শনিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে নকল ওষুধের কারখানার সন্ধানের সার্বিক তথ্য জানাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দীক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি জানান, রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভদ্রা জামালপুর এলাকার নিজ বাড়িতেই আনিস নামের ওই ব্যক্তি গড়ে তুলেছিলেন নকল ওষুধের কারখানা। বাড়িটির একটি ঘরে মেশিন বসিয়ে নামি-দামি কোম্পানির এন্টিবায়েটিক, জৌন উত্তেজক ও গ্যাসের’সহ নানা ধরনের নকল ওষুধ তৈরী করতো সে। গত দুই’বছর ধরে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ বাজারজাত করেছে তারা। যা এখনো রাজশাহী’সহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযানে সব মিলিয়ে ৭০ লাখ ৯৭ হাজার ৩০০ টাকার বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, স্কয়ার কোম্পানির নকল সেকলো ১৮৬৪ প্যাকেট যাহার আনুমানিক মূল্য প্রায় (১৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা) এস.বি-ল্যাবরেটরীজ কোম্পানির নকল পাওয়ার-৩০ (মোড়কসহ) ৭৬৯ প্যাকেট, যাহার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৫০টাকা) এস.বি-ল্যাবরেটরীজ কোম্পানির নকল পাওয়ার-৩০ (মোড়ক ছাড়া) ৫১৮৮ প্যাকেট, যাহার আনুমানিক মূল্য প্রায় (মূল্য অনুমান-১৮ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা),

এস.বি ল্যাবরেটরীজ কোম্পানির নকল পাওয়ার-৩০ (সবুজ রং) ৬৫ পাতা, যাহার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২২ হাজার ৭৫০টাকা), এস.বিল্যাবরেটরীজ কোম্পানির নকল পাওয়ার-৩০ (খোলা) ১৬ কেজি (মূল্য অনুমান-১০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা) নাভানা কোম্পানির নকল পিজোফেন ১৩৫৬ পাতা (মূল্য অনুমান-৯৪ হাজার ৯২০ টাকা), রিলায়েন্স কোম্পানির নকল ইলিক্সিম ১২৫ পাতা (মূল্য অনুমান-১৭ হাজার ৫০০ টাকা), রিলায়েন্স কোম্পানির নকল রিলাম ২২ পাতা (মূল্য অনুমান-১ হাজার ১০০ টাকা), স্কয়ার কোম্পানির নকল সেকলোর খালি মোড়ক ০৬ কার্টন যার আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকা। এসময় ভেজাল ওষুধ তৈরির মেশিন বিলিস্টারও জব্দ করা হয়। এই মেশিনের আনুমানিক মূল্য ২২ লাখ টাকা, কমপ্রেশার মেশিন মূল্য-২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

ডিবি পুলিশ কতৃক আটকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের এক পর্যায়ে অবৈধ ঔষধ তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে প্রশাসনের লোকজন, সাংবাদিক’সহ বিভিন্ন শ্রেণির লোকেদের মাসোয়ারা দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন নকল এই কারখানার মালিক আনিস।

তিনি জানান, সাংবাদিক, থানা ও স্থানীয় ফাঁড়িকে ম্যানেজ করেই তার নকল ওষুধের কারখানাটি পরিচালিত হতো। ২ হাজার, ৩ হাজার , ৫ হাজার আর থানায় ১০ থেকে ১২ হাজার এভাবে সব মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা দেয়া লাগতো বলেও গ্রেফতারকৃত কারখানার মালিক আনিস।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com