যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাশনিবার , ১১ জুন ২০২২
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের তিন কর্মকর্তা ‌‍বহাল তবিয়তে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
জুন ১১, ২০২২ ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এবং দুদকের করা মামলার আসামীরা স্বপদে বহাল তবিয়তে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে দুদক মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি যথাযথ ব্যবস্থা। করা হয়নি সাময়িক বরখাস্ত। এতে শিক্ষা বোর্ড আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত অভিযুক্ত সেই কর্মকর্তা হলে, (ভান্ডার)উপ সচিব মানিক চন্দ্র সেন, উপ-সচিব নেসার উদ্দিন আহম্মেদ, সহকারী সচিব-গোলাম ছরোয়ার।

আইন অনুযায়ী দূর্নীতির কারণে সরকার কর্তৃক পাবলিক সার্ভেন্টদের বিরুদ্ধে অভিযুক্তকরণার্থে প্রদত্ত মঞ্জুরীর ফলে তাঁদের সাময়িকভাবে বরখাস্তকরণ আবশ্যিক। আইনে বলা আছে,,দূর্নীতিমূলক মামলায় যে কোন পাবলিক সার্ভেন্ট অভিযুক্ত হয়ে যদি গ্রেফতার হয় বা কোর্টে আত্মসমর্পণ করেন, তাকে গ্রেফতার করা বা জামিন পাওয়ার দিন থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মামলায় অভিযুক্তরা আদালতে জামিন নিলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। বরং তাদের স্বপদে বহাল তবিয়তে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান বোর্ড চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় দূর্নীতির মামলার আসামীরা এখনো বহাল তবিয়তে আছে এবং তাদের রক্ষার চেষ্টায় মরিয়া হয়েছেন তিনি। দূর্নীতিবাজ ঐ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে রেখে বর্তমান চেয়ারম্যান আবারও দূর্নীতির পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক সচিব ড. আনারুল হকসহ ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ২৩ সেপ্টেম্বর-২০২০ সালে বুধবার মামলাটি দায়ের করেন দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আল-আমিন।

মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে বোর্ডের বিভিন্ন স্থাপনা মেরামত, সংস্কার ও নির্মাণের কাজ না করে ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আসামীরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ্য করা হয়েছে।
মামলার অপর আসামীরা হলেন, উপসচিব (ভান্ডার) মোছাঃ সেলিনা পারভীন (৫৩), নিরাপত্তা অফিসার গোলাম ছরওয়ার (৫১), ঠিকাদার শওকত আলী (৫৪),, ঠিকাদার ইসরাফিল হোসেন (৩৩), উপসচিব (ভান্ডার) নেসার উদ্দিন আহম্মেদ (৫২), উপবিদ্যালয় পরিদর্শক মানিক চন্দ্র সেন (৪৮), সহকারী প্রোগ্রামার ফরমান আলী (৪৬), সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জহিরুল হক (৫১), মসজিদের ইমাম আবুল হাশেম মোঃ রহমতুল্লাহ (৪৫), ডাটা এন্ট্রি/কন্ট্রোল অপারেটর আজহার আলী (৩৬), ঠিকাদার রওশন রেজভী (আলম) (৪৩), ও ঠিকাদার রিপন রায় (কুশ) (৩৫)।

মামলাটি সে সময় দুদক কার্যালয়ে রুজু করা হয়। মামলায় নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছিলো।

মামলায় আসামীরা ব্যক্তিতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য একে অপরের সহায়তায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নয়টি কাজের নামে ২০১৫-২০১৬ হতে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ টাকা আত্মসাত করে।

বিগত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদসহ মোট ১২ জনের নামে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাজশাহীর করা প্রায় সাড়ে আঠারও লাখ টাকার দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া ও ‘এনওসি’ পাওয়ার আশায় উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সে সময়ের চেয়ারম্যানের যোগসাজোশে বড় পরিসরের রদবদলের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকে। জানা গেছে, এরই মধ্যে গতবছর ৯ সেপ্টেম্বর নগরীর গ্রেটাররোড সোনালী ব্যাংক শাখাতে শওকত নামের এক ব্যক্তি শিক্ষা বোর্ডের তিনটি হিসাবে দুর্নীতির সমপরিমাণ অর্থ জমা দিলেও বিগত চেয়ারম্যান প্রফেসর মকবুল হোসেনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত করেননি। গেল মাসের শেষের দিকে শিক্ষা বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন দায়িত্ব নেয়া কর্তাকে বিষয়টি ব্যাংক থেকে দাফতরিকভাবে জানানো হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও বোর্ডের হিসাব শাখার এই ধরনের লুকোচুরির বিষয়গুলোও বিশাল পরিসরের এই বদলির বিষয়টিকে সন্দেহের দিকেই ধাবিত করছে বলে মন্তব্য বোর্ডে কর্মরতদের।

এবিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমানের মুঠোফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর মিটিং এ আছি পরে কথা হবে বলে ফোন কেটে দেন। প্রায় ২ ঘন্টা পর তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com