যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাসোমবার , ২৫ জুলাই ২০২২
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা

পাইকগাছায় পানি আটকে শহর রক্ষা বাঁধের কারণে মরছে শত শত বিঘা বনের গাছ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জুলাই ২৫, ২০২২ ১:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ ফসিয়ার রহমান,পাইকগাছা(খুলনা) :

পাইকগাছায় শহর রক্ষা বাঁধের কারণে শত শত বিঘা বনের গাছ মরে যাচ্ছে।জোয়ার-ভাটা না থাকায় ওই শহর রক্ষা বাঁধের ভেতরের বদ্ধ পানিতে এ গাছগুলো মরে যাচ্ছে বলে বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।বাঁধ নির্মাণের আগে নিয়মিত জোয়ার-ভাটায় এসব গাছ সতেজ ও স্বাভাবিক ছিল।

জানা গেছে,গত ২৩ এপ্রিল পাইকগাছা-কয়রার সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু শহর রক্ষা এ বাঁধের উদ্বোধন করেন।এরপর থেকে গাছগুলো বৃষ্টির পানিতে আবদ্ধ হয়ে আছে।এখন গাছ মরতে শুরু করেছে।

গাছ বাঁচাতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার পৌরসভাকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন।

১৯৯৭ সালে পাইকগাছা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পৌরসভা শিবসা নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত।এ পৌরসভায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নেই কোনো শহর রক্ষা বাঁধ।সে কারণে পৌর সদরের বাজারগুলো পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় পানি বৃদ্ধি পেলে জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকে।তখন জনভোগান্তির আর শেষ থাকে না।

এ কথা চিন্তা করে ২৩ এপ্রিল শহর রক্ষা বাঁধের উদ্বোধন করা হয়।এর প্রায় এক মাস পরে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু ৯০০ মিটার বাঁধের আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ দেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ,বাঁধ দেওয়ার কারণে বনায়নের গাছ মরে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায় জানান,শিবসা নদীর চর ভরাটি জায়গায় বনায়ন করা হয়েছে।এ গাছগুলো জোয়ার-ভাটার সঙ্গে সম্পর্কিত।যদি বাঁধ দিয়ে জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়,তা হলে সব গাছ মরে যাবে। ইতিমধ্যে গাছ মরা শুরু করেছে।

নাগরিক কমিটির ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর বলেন,শহর রক্ষা বাঁধটি অপরিকল্পিতভাবে দেওয়া হয়েছে।যদি শহরের জনবসতির পাশ দিয়ে বাঁধটি দেওয়া হতো,তা হলে বনায়নের গাছগুলো বেঁচে যেত।বনায়নে বাইন, কেওড়া, ওঁড়া, সুন্দরী ও গোলপাতাগাছ রয়েছে।যে গাছগুলোর সঙ্গে নদীর পানির সম্পর্ক।

তিনি আরও বলেন,‘যখনই শহর রক্ষা বাঁধ দেওয়া হয়েছে, তখন আর নদীর পানি বনায়নের ভেতর যেতে পারছে না। সে কারণে বদ্ধ পানিতে গাছগুলো মারা যাচ্ছে।আমরা পৌর মেয়রের কাছে দাবি জানাই বাঁধটি অপসারণ করে জনবসতির পাশ দিয়ে বাঁধটি দেওয়ার জন্য।আমাদের শহর রক্ষার বাঁধেরও দরকার আছে।তা না হলে জোয়ারের পানিতে পৌর সদর তলিয়ে যাবে।’

পৌরসভার প্যানেল মেয়র শেখ মাহবুবুর রহমান রঞ্জু বলেন,‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাঁধ অপসারণের কথা বলেছে।আমরা বাঁধ খুব তাড়াতাড়ি সোজা করে দেব।আমরা গাছ মারতে চাই না।’

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন,‘নদীর জায়গা দখল করে শহর রক্ষা বাঁধ দেওয়া যাবে না।শহর রক্ষা বাঁধের দরকার রয়েছে।তবে সেটি হবে শহরের পাশ দিয়ে।বনায়ন ও নদীর ক্ষতি করে এমনভাবে বাঁধ দেওয়া যাবে না।আমি পৌরসভাকে সাত দিনের সময় দিয়েছি।যদি বাঁধ অপসারণ না করে তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তা ভেঙে দেওয়া হবে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু বলেন, ‘আমি শহর রক্ষা বাঁধ উদ্বোধন করেছিলাম।কিন্তু নদীর মধ্য দিয়ে বাঁধটি করতে আমি বলিনি।তবে শহর রক্ষা বাঁধেরও দরকার আছে।কিন্তু বনায়ন ও নদীর ক্ষতি না করে তা করতে হবে।’

গত ২৩ এপ্রিল পাইকগাছা-কয়রার সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু শহর রক্ষা এ বাঁধের উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে গাছগুলো বৃষ্টির পানিতে আবদ্ধ হয়ে আছে।এখন গাছ মরতে শুরু করেছে।গাছ বাঁচাতে ইউএনও বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার পৌরসভাকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com