যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাসোমবার , ২৫ জুলাই ২০২২
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হালদা নদী দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র নয় : ড. শফিকুল ইসলাম

ড. মো. শফিকুল ইসলাম
জুলাই ২৫, ২০২২ ২:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ড. মো. শফিকুল ইসলামঃ

বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ নামে পরিচিত হালদা নদী নিয়ে বহুল প্রচারিত একটি ভূল মতবাদ রয়েছে।মতবাদটি হলোঃ”হালদা নদী দক্ষিণ এশিয়া/ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র”।

যার অর্থ হলো এশিয়া বা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো নদীতে মাছ/ মেজর কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন হয়না। সম্পুর্ণ ভুল একটি তথ্য যার বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই বললেন পিএইচডি ডিগ্রিধারী হালদা গবেষক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

আমার প্রশ্ন হলো এই মতাবাদ বা গবেষণাটি কে এবং কখন করেছে? যার কোথাও কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। সুতরাং এটি কারো মনগড়া কথা ছাড়া আর কিছুনা।ভুল তথ্য পরবর্তী প্রজন্ম তথা একটা জাতির জন্য বিরাট অভিশাপ। চলুন এই অভিশাপ থেকে নিজেদের মুক্তি দিই।

প্রমাণ দেখুন-প্রজনন কেন্দ্র,প্রজনন মৌসুম ও ভৌগলিক বিস্তৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের মেজর কার্পের চারটা স্টক আছে,ব্রহ্মপুত্র -যমুনা স্টক,পদ্মা উজান স্টক, মেঘনা উজান স্টক ও হালদা স্টক।এছাড়াও কর্ণফুলি নদীর উজানে বরকলসহ আরো তিনটি কর্ণফুলির শাখানদী (মাঈনি, রাইংকন, ও চেঙ্গী) থেকেও রুই-কাতলা জাতিয় মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয় (আজাদী, ১৯৮৫; এফএও ও ইউএনডিপি প্রজেক্ট।

এছাড়াও সম্প্রতি ২০১৫ সালে রয় এর গবেষণায় দেখা যায় সিলেটের সুরমা নদীর হেতিমগঞ্জ পয়েন্ট এবং কুশিয়ারা নদীর ভাদেশ্বর পয়েন্ট থেকে ৩ হাজার ১০৫ গ্রাম কার্প জাতীয় মাছের রেণু সংগ্রহ করা হয় যার মধ্যে ৩৫% কালিবাউস, ৩০% রুই, ও ২৫% মৃগেল মাছের রেণু পাওয়া যায়।সংগৃহীত রেণু দৈর্ঘ্য ছিল (১-১.৫) সে.মি. এবং বয়স ছিল (২-৩) দিন।এছাড়াও পাশের দেশ ভারত, মায়ানমার ও পাকিস্তানের বিভিন্ন নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ (মেজর কার্প) জাতিয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন হয়।

এছাড়া ও সম্প্রতি (২০১১) শ্রীলন্কা থেকে রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়।এছাড়াও ভারতে (গঙ্গা, যমুনা, বেতওয়া, গোমতি, রামাগঙ্গা, রাপতি, গহাগড়া নদী,বম্মপুত নদীর- দারাঙ্গ, খানামুখ, বামানদি নদী, নারমাদা নদী সিস্টেম,টাপতি, মাহানাদী, ব্রামানি, দায়া, সুবারনরেখা নদী, গোদাভারী, কৃষ্ণ, কুওভেরী নদী থেকেও কার্পজাতীয় মাছের স্পন সংগ্রহ করা হয়।

পাকিস্তান (ইন্দুস) ও মায়ানমারের (পেগু, ইরাবতি, মাইন্টজি,পানলিঙ্ ও সিতাং নদী) অনেক নদীতে মেজর কার্পের প্রজনন হয়।অন্য নদীর সাথে হালদার পার্থক্য হলো অন্য নদী থেকে মাছের নিষিক্ত বা অনিষিক্ত ডিম্বাণু / ডিম সংগ্রহ করা হয়না।কিন্ত হালদা নদী থেকে প্রতিবছর প্রজনন মৌসুমে মেজর কার্পজাতীয় মাছের ডিম বা ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।

তাই হালদা নদীকে দক্ষিণ এশিয়ার বা এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র বলা যাবেনা।হালদা নদী বাংলাদেশের স্বাদুপানির মেজর কার্পজাতীয় মাছের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ।

বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে লক্ষ্য হালদা নদীকে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ষোষণা করেছে তার বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করে যেতে হবে।

লেখক-হালদা নদীর উপর পিএইচডি ও এম.এস.(থিসিস) ডিগ্রীধারী হালদা গবেষক
প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান-জীববিজ্ঞান বিভাগ,
চট্রগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com