যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাশুক্রবার , ২৯ জুলাই ২০২২
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস, সুন্দরবনের চোরা শিকারী বন্ধ হলে বাড়বে আরো বাঘের সংখ্যা

মাসুদ রানা,মোংলাঃ
জুলাই ২৯, ২০২২ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সুন্দরবনই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাসস্থল। একসময় সুন্দরবনে বনদস্যুদের উৎপাত আর চোরা শিকারিদের তৎপরতার কারনে হুমকির মূখে পড়ে বাঘের অস্তিত্ব।তবে বনদস্যুরা আত্মসমপর্ণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় সুন্দরবনে বাঘের অবাধ বিতরণ এবং বংশবিস্তার আগের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করেছেন বনবিভাগ।কিছু কিছু চোরা শিকারি চক্র বিভিন্ন উপায়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে বাঘ,হরিণের অবাধ বিচরণে বড় বাঁধা।এসব চক্র সুন্দরবনের বণ্যপ্রাণী হত্যা করে চামড়া, মাংস ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকে।

বনবিভাগের কর্মকর্তারা জানান,সুন্দরবনের বন বিভাগের পেট্রোল টিমের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারনে চোরা শিকারিদের তৎপরতা অনেকটাই কমে গেছে।ফলে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের অবাধ বিচরণ ও প্রতিনিয়ত বাঘের শাবকের দেখা মিলছে বলে জানিয়েছে সুন্দরবনের জেলে-বাওয়ালিরা।

সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে গত ৪ বছরে বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৪টি।সুন্দরবেন সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাকিং বাঘ জরিপে ১১৪ বাঘের তথ্য মিলেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন,ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার।সুন্দরবনে বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ও চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য কম হওয়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের সংখ্যা সর্বশেষ জরিপে বেড়েছে।ইতিমধ্যেই বাঘের প্রজনন,বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের অর্ধেকেরও বেশি এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল ফাঁড়ি।পাশাপাশি চোরাশিকারিদের তৎপরতা বন্ধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পেট্রোলিং চালু করা হয়েছে।বাঘের প্রজনন মৌসুম জুন থেকে আগস্ট সুন্দরবনের সব পাস পারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রজনন,বংশ বৃদ্ধিসহ বাঘ অবাধ চলাচল করতে পারবে।

সরকারি বিএল কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী ফারজানা ইয়াসমিন লিপি জানান,বাঘ হরিণের দেশ সুন্দরবন আমাদের প্রাণের স্পন্দন।সুন্দরবনই বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে।সুতরাং সুন্দরবনের বাঘ হরিণসহ অন্যান্য প্রজাতির বণ্যপ্রাণী সুরক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা জনসচেতনতামূলক কাজ করলে সুন্দরবনে বাঘ আরো বৃদ্ধি পাবে।বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ নিশ্চিত হবে।এছাড়াও যেসব চোরা শিকারি বনে প্রবেশ করে বন্যপ্রাণী হত্যায় লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মোংলা উপজেলা সমন্বয়কারী নূর আলম শেখ জানান,বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবন রক্ষা করতে হবে আমাদেরই।বাঘ বাঁচলে যেমন সুন্দরবন বাঁচবে, ঠিক তেমনি সুন্দরবন বাঁচলে বাঘ বাঁচবে। চোরাকারবারি সিন্ডিকেট এবং মুনাফালোভী ব্যবসা-বানিজ্যের কারনে পরিকাল্পিত ভাবে বাঘ হত্যা এবং সুন্দরবনকে ধ্বংস করা হচ্ছে।২০১০ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বাঘ শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত ছিলো ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুন করতে হবে।সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি।বাঘ ও সুন্দরবন বিনাশী সকল কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হতে হবে।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com