যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাসোমবার , ১ আগস্ট ২০২২
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলফাডাঙ্গায় সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম করল পৌর মেয়রের ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আগস্ট ১, ২০২২ ৬:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্থানীয় সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম নাঈমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন পৌর মেয়রের ভাই ও তার অনুসারীরা।সোমবার দুপুরে আলফাডাঙ্গার স্থানীয় পরিবহণ বাসস্টান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

মুজাহিদ ঢাকা টাইমস পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাংগাঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে,সাংবাদিক মুজাহিদকে মারধরের ঘটনায় আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র সাইফুর রহমান সাইফারের ভাই জাপান মোল্লা ও তার পাঁচজন-ছয়জন সহযোগীরা জড়িত।

ঘটনার সময় মুজাহিদকে লোহার রড, স্ট্যাম্প, দেশিয় অস্ত্র-সস্ত্র দিয়ে পেটানো হয়।এসময় স্থানীয়রা সাংবাদিক মুজাহিদকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তাদের ওপর চড়াও হয় দুর্বৃত্তরা।এতে বেশ ক’জন আহত হন।

স্থানীয় থানা পুলিশ বলছে,এই ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে; যিনি সাংবাদিক মুজাহিদকে মারধরে সহযোগীতা করেছিলেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে,আলফাডাঙ্গার রাজধানী পরিবহনের কাউন্টারে টিকেট কিনতে যান রমিজ নামের এক যুবক।তিনি ঢাকার একটি টিকেটের দাম পরিশোধ করে বাসে ওঠেন।বাস ছাড়ার আগ মূহুর্তে ‘ক্যাশ কাউন্টার’ থেকে বলা হয় রমিজ টিকিটের টাকা দেননি। তাই তাকে ঢাকায় যেতে দেয়া হবে না।বিষয়টি জানিয়ে নাঈমের সহযোগীতা চান রমিজ।ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টির মিমাংসা করার কথা বলতেই সাংবাদিক মুজাহিদের ওপর চড়াও হয় কাউন্টারের ম্যানেজার জাপান ও তার সহযোগীরা।

জাপান স্থানীয় পৌর মেয়র সাইফারের ছোট ভাই। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মুজাহিদকে বেধড়ক পেটানো হয়।এতে তিনি গুরুতর আহত হন।এসময় পাশে থাকা লোকজন এগিয়ে এলে তাদের উপরও চড়াও হন জাপান ও সহযোগিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,সাংবাদিক মুজাহিদকে নির্যাতনকারী জাপান মোল্লা তার স্ত্রী সোহানা বেগমকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করেন।পরে তাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

৭ জুন উপজেলার কুসুমদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় সোহানার মৃত্যু হয়।পরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।এই ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ গেলে তা তদন্ত করছে পুলিশ।

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকেন্দার আলম বলেন,‘আমি ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি মুজাহিদকে দুর্বৃত্তরা লোহার রড,কাঠের বাট্যাম দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছে।সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।তার হাত ও পায়ে বেশ জখম হয়েছে।পরে এক্সরে করা হয়।কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুরে মেডিকেলে রেফার্ড করছেন৷’

সাংবাদিক মুহাজিদকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এমন মারপিট করা হয়েছে জানিয়েছে স্থানীয় এই সাংবাদিক নেতা বলেন, ‘তাকে মেরে ফেলার জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়রা এগিয়ে আসায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে।’

এদিকে স্থানীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন সাংবাদিকরা।তারা বলছেন এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে সাংবাদিকরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কর বলেন,ঘটনা জানার পর পরই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।এই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে এটা মামলা হিসেবে নেওয়া হবে।সাংবাদিক নির্যাতনের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

আলফাডাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হক বলেন,‘বিষয়টি আমি জেনেছি।ডিসি স্যার (জেলা প্রশাসক) বিষয়টি অবহিত আছেন।আপাতত তার (মুজাহিদ) চিকিৎসার ব্যবস্থা হোক।আমি সবসময় খোঁজ খবর রাখছি।আর গাড়িগুলো (যে পরিবহন নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত) আইন মেনে চলছে কি না বিষয়গুলো আমি নজর দিচ্ছি।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com