যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাশুক্রবার , ৫ আগস্ট ২০২২
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর দ্বিতীয় বানিজ্যিক জাহাজ “এমভি ড্রাগন বল” নঙ্গর করেছে মোংলা বন্দরে

মাসুদ রানা,মোংলাঃ
আগস্ট ৫, ২০২২ ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ প্রকল্পের মুল যন্ত্রাংশ নিয়ে মোংলা বন্দরে নঙ্গর করেছে লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজ “এমভি ড্রাগন বল”।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর এটি বাংলাদেশে পন্য নিয়ে আসে রাশিয়ান দ্বিতীয় জাহাজ।

রাশিয়া থেকে ছেড়ে আসা এ জাহাজটি শুক্রবার দুপুরে মোংলা বন্দর চ্যানেলের ৭নম্বর বয়ায় এসে পৌঁছেছে। শনিবার দুপুরের পর এ জাহাজটি বন্দরের ৯ নং জেটি এলাকায় অবস্থান করার কথা রয়েছে।সেখানে রাতের পালায় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কাজ শুরম্ন করা হবে বলে জানায় পন্য খালাসকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।এ যন্ত্রাংশের আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান হলো ঢাকার ইন্টার পোর্ট শিপিং এজেন্ট।

পণ্য খালাস কারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স অবিরত এজেন্সি লিমিটেড এর সূত্রে জানা যায়,”এমভি ড্রাগন বল” নামে লাইব্রেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটি ৫ অক্টোবর বিকালে প্রথমে মোংলা বন্দর চ্যানেলের ৭ নম্বর বয়ায় নঙ্গর করে। সেখানে কিছু যন্ত্রাংশ খালাস করে পরে শনিবার দুপুরের পর ৯ নং জেটি এলাকায় ভিড়বে।

এ জাহাজটিতে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আমদানী করা ২ হাজার ৮৬২টি প্যাকেজে যন্ত্রাংশ ও ওই প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন মালামাল রয়েছে। যার ওজন প্রায় ৫ হাজার ৬০১শ মেঃ টন।জাহাজ থেকে জেটিতে এ যন্ত্রাংশ খালাসের পর পরই তা সড়ক পথে ট্রাক ও লড়ি যোগে রূপপুর পারমাণবিক বিদু্যৎ কেন্দ্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এসব পণ্য খালাস করতে প্রায় ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগবে বলে জানান পণ্য খালাস কারী প্রতিষ্ঠানটি।তবে পণ্য দ্রুত খালাসের ক্ষেত্রে মোংলা বন্দর বা জেটি এলাকায় কোন প্রভাব ফেলছে না বলে জানায় শ্রমিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স অভিরত এজেন্সির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ রুহুল আমিন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে সর্বশেষ বিদু্যৎ প্রকল্পের পন্য বোঝাই করে রাশিয়ার থেকে জাহাজ এসেছিল ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর।সে জাহাজেও রম্নপপুর পারমানবিক বিদু্যৎ কেন্দ্রে ৩ হাজার ৭শ মেট্রিক টন যন্ত্রাংশ নিয়ে আসে “এম ভি ফেসকো আলিশ” নামে রাশিয়ান জাহাজ। সাড়ে ৯ মাস পর এবং রাশিয়া- ইউক্রেন দুই দেশের যুদ্ধ শুরম্নর পর নৌ-পথ পাড়ী দিয়ে প্রথম রাশিয়ান জাহাজ আসে (১ আগষ্ট) সোমবার মোংলা বন্দরে আসে ” এম ভি কামিলস্না”।

এ জাহাজে ১৭শ ৯১ প্যাকেজে রুপপুর পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্রের ৩ হাজার ৩২৮ দশমিক ২৩৭ মেট্রিক টন মেশিনারিজ পণ্য রয়েছে যা বর্তমানে জেটিতে খালাস করা হচ্ছে।পরে রাশিয়া থেকে পন্য বোঝাই দ্বিতীয় জাহাজ আসে ৫ আগষ্ট দুপুরে।এ জাহাজেও রুপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পন্য রয়েছে।

শিপিং এজেন্ট ইন্টার পোর্ট এর খুলনাস্থ জেনারেল ম্যানেজার অষীম কুমার শাহ বলেন,মোংলা বন্দরের ৭নং বয়ায় নঙ্গর করেছে রাশিয়া থেকে লাইব্রেরীয়ান পতাকাবাহী জাহাজ “এমভি ড্রাগন বল”।জাহাজটি গত ৬ জুলাই রাশিয়া থেকে ছেড়ে আসে কিন্তু মোংল আবন্দরে পৌছাতে প্রায় ৩০ দিন সময় লেগেছে বলে জানায় তিনি।

এছাড়া জাহাজটিতে বেশী ড্রাফ্‌ট থাকায় জেটিতে নঙ্গর করতে পারছেনা তাই চ্যানেলের ৭ নং বয়ায় কিছু পন্য খালাস করে পরে জেটিতে আনা হবে জাহাজটি।সেখানে পন্য খালাস শেষ হলে রাশিয়ার উদ্দোশ্যে মোংলা বন্দর ত্যাগ করবে এ জাহাজটি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার ফখর উদ্দিন জানান,রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেগা প্রকল্পের সকল যন্ত্রাংশ মোংলা বন্দর দিয়ে খালাস হবে। এসব পণ্য যাতে ঠিকমতো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছায় সে ব্যাপারে বন্দরের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সর্তকতা নেয়া হয়েছে।বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র স্থাপনের যন্ত্রাংশ বা মালামাল ক্রয়ের জন্য চুক্তি সম্পাদিত হয় রাশিয়ার সাথে।দুই দেশের যুদ্ধ বিদ্রহের কারণে দীর্ঘদিন নৌ-পথে পন্য বোঝাই যন্ত্রাংশ নিয়ে জাহাজ আসা বন্ধ ছিল।এখন দুই দেশের সমজোতায় পুনরায় নৌ-পথে বানিজ্যিক জাহাজ আসা-যওয়ায় শুরু হয়েছে বিভিন্ন পন্য আমদানী-রপ্তানী।

তাই যুদ্ধ শুরুর আগ থেকে প্রায় সাড়ে ৯ মাস পরে পর পর দুইটি রাশিয়ান জাহাজ রুপপুর পারমানবিক বিদু্যৎ কেন্দ্রের পন্য নিয়ে মোংলা বন্দরে নঙ্গর করেছে।বর্তমান একটি জাহাজ জেটিতে পন্য খালাস করছে।এমভি কামিলস্না নামের এ জাহাজটি বন্দর ছেড়ে গেলে ওই একই জেটিতে পন্য খালাস করবে বর্তমান জাহাজটি।পন্য খালাসের পরে সড়ক পথে পদ্মার তীরে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মানাধীন পারমানবিক বিদু্যৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ নিয়ে যাবে এ জাহাজের আমদানীকারক ব্যাবসায়ীরা। 

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com