যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাশুক্রবার , ১৯ আগস্ট ২০২২
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আদালতে তোলা হবে দেহ ব্যবসায়ী ও বিয়ে প্রতারক কেয়া’র চার বছরের ছেলে কে!

যমুনা প্রতিদিন ডেস্কঃ
আগস্ট ১৯, ২০২২ ১১:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কবির বড় কন্যা কল্পনা আক্তার কেয়া’র প্রথম বিয়ের পর নিজ গর্ভধারন করা চার বছরের দত্বক দেওয়া ছেলে কে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী বাবলু।

বিয়ে প্রতারনার জন্য কেয়া ও তার চক্রের সদস্যরা অপরাধী হিসেবে ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন বলেও জানান আইনজীবী বাবলু।চার বছরের সন্তান দত্বক আদালত ও প্রথম স্বামীর অনুমতি ছাড়া দেওয়ায় শিশু আইনেও প্রতারক পরিবারটিকে হাজতবাস থাকা লাগবে আনুমানিক ৮ বছর বলে এসময় জানানো হয়।

পাশাপাশি সরকারী কোয়ার্টার ভেতরে দেহ ব্যাবসায় লিপ্ত থাকায় কেয়া সহ এই চক্রের অন্য সবার ই ফৌজদারী মামলায় ১৫ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন বলেও জানানো হয়।

চারটি বাচ্চার ভ্রুণ হত্যা করায় ৩১৬ ধারায় প্রধান আসামী করা হচ্ছে “কল্পনা আক্তার কেয়া” কে।এই ধারায় অন্যতম আসামী হচ্ছেন কবির হোসেন,আসলাম পিয়া,শেখ রিনা ও শেখ আমেনা কে।এই ধারায় সকল আসামী দশ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হবেন বলেই আইনজীবী বাবলু’র বিশ্বাস।এই চারটি ভ্রন দেহ ব্যাবসা করার সময় হত্যা করেন “কেয়া” বলেও আইনজীবী নিজ তথ্যে যুক্ত করেন।

কোয়ার্টার ও সাভার ইপিজেড হোটেল বৈশাখী তে দেহ ব্যবসা কেয়া ও চক্রের সদস্যরা যুক্ত ছিলেন এমন ১০০ এর বেশী কল রেকর্ড ফাস হয়েছে।যেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ” আমাদের সাভার”‘ বিভিন্ন বিয়ের গ্রুপে ভাইরাল হয়েছে।সেই কল রেকর্ড কেয়া, আমেনা, পিয়া’র বলেও জানান আইনজীবী।সে কল রেকর্ডগুলো খদ্দেরদের সঙ্গে তিন আসামীর এবং সেটা মামলার গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস হিসেবে দাখিল করা হবে।

এদিকে সাভার বিপিএটিসি প্লাম্বার কবির হোসেনের বড় কন্যা “কল্পনা কেয়া’ দেহ ব্যাবসায় যুক্ত থাকার একটি স্বীকারোক্তি যমুনা প্রতিদিনের হাতে এসেছে।

কল্পনা কেয়া’র নানু গুরুতর অসুস্থ বলে দ্বিতীয় স্বামীর বাসা থেকে বিপিএটিসি তে পুনরায় হোটেল বৈশাখী ও কোয়ার্টার ভেতরে দেহ ব্যাবসা করতে গিয়েছিলেন।এই প্রতারনা টি করায় বাংলাদেশের আইনের ৪১৫ ধারা অনুযায়ী আসামী করা হচ্ছে কেয়া, শেখ আমেনা, কবির হোসেন, রিনা ও শেখ রিনা কে।

আইনজীবী বলেন,এই ধারায় আসামীরা শাস্তি পাবে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হতে পারে। কিন্তু র‍্যাব এই চক্রের বেশকিছু সদস্য কে আটকের পর জানিয়েছিল,পেটে সিজারের দাগ সহ দেহ ব্যাবসা নিয়ে প্রশ্ন করায় এই প্রতারক তরুনী বিপিএটিসি কোয়ার্টার বাসায় গিয়েছিলেন নানু গুরুতর অসুস্থ বলে।পরবর্তীতে কাবিনের টাকা হাতিয়ে নিতে খালা রিনা কে দিয়ে হুমকি দেওয়ান।যে কাবিনের টাকার হুমকির অডিও রেকর্ড আমাদের হাতে রয়েছে।এরা বড় ধরনের একটি প্রতারক চক্র বলেও আইনজীবী নিজের অভিমতে জানান।

এই প্রতারক তরুনী ” কেয়া’ দ্বিতীয় স্বামীর মোবাইল থেকে বিয়ের ছবি,ভিডিও সহ বাসার কম্পিউটার থেকে গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল ডকুমেন্টস নস্ট করে দেওয়ায় ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ধারা অনুযায়ী কবির,আসলাম, রিনা, আমেনা কে আসামী করা হচ্ছে।এই ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে জামিন অযোগ্য অপরাধ করেছে আসামীরা৷অর্থাৎ চাইলেও আসামীরা জামিন পাবেন না আদালতে।এই আইনেও ৭ বছরের কারাদণ্ড সহ প্রত্যেক আসামী ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।ডিজিটাল সিকিউরিটি অপরাধ যে আসামীরা করেছেন এই ব্যাপারে চক্রের মাস্টারমাইন্ড কবিরের দুইটি অডিও রেকর্ড স্বীকারোক্তি আমাদের হাতে রয়েছে।

এই প্রতারক তরুনী কেয়া’র দ্বিতীয় স্বামীকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা চেষ্টা করেছিলেন বলেও গতবছর জানায় আইনজীবী বাবলু।তার জন্য আসলাম,গনি,কবির ও রিনা ও কেয়া কে এই হত্যা চেষ্টায় ও আসামী করা হচ্ছে।

আইনজীবী বলেন,ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের ডকুমেন্টস রয়েছে আমাদের হাতে,যে কোয়ার্টার ভেতরে আগেও বিষ প্রয়োগ করে হত্যা চেষ্টা হয়েছিলো ইনজেকশন পুষ করে।আর সে হত্যা চেষ্টার মুল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন আসলাম ও কবির।এই ধারায় ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে আসামীদের বলে জানানো হয়।

পাশাপাশি সরকারী সম্পত্তি তে খারাপ কাজে যুক্ত সহ নারী চোরাচালান সঙ্গে পরিবারটি যুক্ত থাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় আরও চারটি ধারায় চক্রের সবার বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আইনজীবী।

আইনজীবীর পক্ষ এসময় জানানো হয়,বিপিএটিসি এডমিন ডিরেক্টর সহ তিনজন প্রশাসন বিভাগ কাজ করা ব্যাক্তি কেও প্লাম্বার কবির হোসেন পরিবার কে কোয়ার্টার ভেতরে দেহ ব্যাবসা করতে সহায়তা করায় প্রধান সহায়তাকারী আসামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।আর কারা কারা আসামি হচ্ছে পরিবারটিকে কোয়ার্টার ভেতরে দেহ ব্যাবসা করতে সহায়তা করায় এই ব্যাপারে আইনজীবী বলেন, আসলাম, সিদ্দিক, রফিক, আনোয়ার, ইয়াসিন সহ বিপিএটিসি ছয়জন গার্ড কে আসামী করা হচ্ছে।জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন আরও যাদের নাম আসবে তাদেরও আসামী করা হবে।

পাশাপাশি ১৭ জুলাই, ২০২২ কোয়ার্টার ভেতরে লাঠি দিয়ে আঘাত ও গলা টিপে হত্যা চেষ্টায় আরেকটি আলাদা মামলা সিএমএম কোর্টে করা হচ্ছে।সেই মামলায় আসামী করা হবে কবির হোসেন,বিপিএটিসি এডমিন ডিরেক্টর, সিদ্দিক,আসলাম সহ মোট ৭ জন কে।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com