যমুনা প্রতিদিন
ঢাকামঙ্গলবার , ২৭ এপ্রিল ২০২১
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুক্তকলামঃ সফল যারা কেমন তারা!

যমুনা প্রতিদিন
এপ্রিল ২৭, ২০২১ ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

লেখকঃ তাসফীর ইসলাম (ইমরান)

সফলতা এমনি এমনিই আপনাদের কাছে ধরা দিবে না। সফলতা অর্জন করতে হলে সফল ব্যাক্তি হতে হলে দীঢ় প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন। যেটা সকল মানুষ পারে না। যে পারে একমাত্র সেই সফল ব্যাক্তি।

পৃথিবীতে অনেক সফল ব্যাক্তি রয়েছে যারা সফল হবার জন্য নিজের ভাগ্যকে বেঁচে নেয় নি। বেঁচে নিয়েছে কর্ম করে গেছে দীঢ় প্রচেষ্টা।
আর আজ তারাই স্বর্ণাক্ষরে সফল ব্যাক্তি হিসেবে নিজেদের নাম লিখে গেছে।

সফল ব্যাক্তিদের কিছু দৃষ্টান্ত হচ্ছে-

(১)জেফ বেজোসঃ

ইতিমধ্যে অনেকেই হয়তো জানেন যে, এই বছরের ২৭ অক্টোবর জেফ বেজোস বিল গেটস হতে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির মুকুটটি ছিনিয়ে নেন। মূলত ৩১ বছর বয়সে জেফ বেজোসের ক্যারিয়ার পরিবর্তনের সিদ্ধান্তই তাকে বর্তমান সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রথমদিকে তার Wall Street এর কম্পিউটার ফিল্ডে সম্ভবনাময় ক্যারিয়ার ছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে ৩১ বছর বয়সে বেজোস Wall Street ছেড়ে দিয়ে আমাজন প্রতিষ্ঠা করেন। যা এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ই-কমার্স সাইট। আর এই আমাজনের মাধ্যমে বেজোস পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হতে পেরেছেন।

(২) ডোয়াইন জনসনঃ

সারাবিশ্বে তিনি ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত। শুরুর দিকে তিনি প্রফেশনাল ফুটবলার খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৯৬ সালে WWE (World Wrestling Entertainment) এ যোগদান দেন। রিং এ নাম ‘দ্য রক’ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনিই তৃতীয় প্রজন্মের প্রথম রেসলার। রেসলিং এ তার খ্যাতি হলিউডে সুযোগ করে দেয় এবং প্রথম মুভি ‘দ্য স্করপিয়ন কিং’ এর জন্য ৫.৫ মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক পান। অভিষেকেই এত বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্য কোনো অভিনেতা পাননি। ডোয়াইন জনসনের আরো কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য মুভি হল Central Intelligence , Journey 2: The Mysterious Island (2012), Fast & Furious 6 (2013), The Fate of the Furious প্রভৃতি।

রোনাল্ড রেগান

১৯১১ সালে নর্দান ইলিয়নের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া রোনাল্ড রেগান ১৯৩২ সালে গ্রেজুয়েশন সম্পন্ন করার পর কিছুদিন একটি রেডিও স্টেশনে ক্রীড়া ভাষ্যকার ছিলেন। ১৯৩৭ সালে তিনি হলিউডে পা রাখার মাধ্যমে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন। কিন্তু পঞ্চাশের ঘরে পা দেবার পর তিনি অভিনয় পেশা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি রিপাবলিকান পার্টির হয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হয়ে যান। দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নমিনেশন পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৮০ সালে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নমিনেশন পেয়ে যান। সবাইকে তাক লাগিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি জিমি কার্টারকে হারিয়ে হয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ তম প্রেসিডেন্ট!

-আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার সারাবিশ্বে পরিচিতি পান মূলত ‘দ্য টার্মিনেটর’ সিনেমার মাধ্যমে। শোয়ার্জনেগার ১৯৪৭ সালে অস্ট্রিয়ার থাল নামক একটি ছোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। ১৪ বছর বয়স হতেই তিনি বডিবিল্ডীং শুরু করেন এবং ২০ বছর বয়সে মিস্টার ইউনিভার্স খেতাব অর্জন করেন। অতঃপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ১৯৬৯ সালে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন। অভিনয় জগতে তার অসামান্য ক্যারিয়ার থাকলেও তিনি রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করেন। ২০০৩ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্ণর নির্বাচিত হন এবং ২০০৬ সালে আবারো উক্ত রাজ্যেই পুনরায় গভর্নর নির্বাচিত হন।

মাইকেল ব্লুমবার্গ

নিউইয়র্ক সিটির ১০৮ তম মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গকে হয়তো অনেকেই চিনেন। তিনি একাধারে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী। প্রায় ১৫ বছর ধরে ওয়াল স্ট্রীটে চাকুরী করার পর ৪০ বছর বয়সে তিনি নিজের নামেই Bloomberg L.P. কোম্পানী খোলেন। এটি একটি কম্পিউটার সফটওয়্যার সিস্টেম যা সারাবিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানীকে ফিনান্সিয়াল ডাটা প্রদান করে থাকে। ব্লুমবার্গ পুরোপুরি মনোনিবেশের জন্য Bloomberg L.P. এর CEO পদ হতে সরে দাড়ান এবং ২০০২ সালে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্লুমবার্গ নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে বহাল থাকেন। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৪৭.৮ বিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বের দশম ধনী ব্যক্তি। ২০১৪ সালে তিনি পুনরায় Bloomberg L.P. এর CEO পদে ফিরে আসেন।

-কর্নেল স্যান্ডার্স

ষাট বছরের আগ পর্যন্ত স্যান্ডার্সের জীবনে শুধু ব্যর্থতা আর ব্যর্থতাতেই ভরপুর ছিল। অল্প বয়সেই তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং ক্ষেত-খামারির কাজে লেগে যান। এরপর তিনি রেলওয়ে কর্মী, গ্যাস স্টেশন অপারেটর, ইন্সুরেন্স সেলসম্যান সহ আরো অনেক পেশায় জড়িয়েছিলেন কিন্তু কোনটিতেই সফলতা পাননি। শেষ বয়সে তিনি ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে যখন আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন তখন তিনি আবিষ্কার তিনি একটি সিক্রেট রেসিপি জানেন। আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত ত্যাগ করে তিনি Kentucky Fried Chicken (KFC) প্রতিষ্ঠা করেন। শুধুমাত্র মুরগিকে একটু কড়া করে ভাজার রেসিপি, এটাই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। দিনদিন বিক্রির পরিমাণ বাড়তে লাগল এবং বর্তমানে বিভিন্ন দেশে KFC-র প্রায় ৬০০ এর মত শাখা রয়েছে। তিনি নিজে KFC এর ব্র্যান্ড এম্বাসেডর ছিলেন। প্রায় ১২ বছর তিনি KFC পরিচালনা করার পর এটি ২ মিলিয়ন ডলারে (বর্তমানে ১৫.৪ মিলিয়ন ডলার) বিক্রি করে দেন।

এরা সবাই কিন্তু একদিনেই সফল হননি। তারা তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ এই সফলতার দারপ্রান্তে। যারা সফল ব্যাক্তি তারা জানেন-

সবার কাছে সাফল্যের অর্থ এক নয়। কারও কাছে এর মানে হল খ্যাতি, অর্থ বা কৃতিত্ব। আবার কারও কাছে এর অর্থ হল মানসিক শান্তি, আনন্দ, ভালোবাসা ও সম্মান। তবে, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সাফল্যের অর্থ আলাদা হলেও কিছু সাধারণ গুণাবলী সাফল্যকে প্রভাবিত করে।

১। এদের প্রত্যেকের দৃঢ় উদ্দ্যেশ্য আছে

সফল মানুষরা নিজেদের এমনভাবে তৈরি করেন যাতে তাঁরা নির্দিষ্ট কোনও উদ্দ্যেশ্যের জন্য মনোনিবেশ করতে পারেন এবং সেই উদ্দেশ্য সাধন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারেন।যদি কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে তবুও তারা সেই উদ্দেশ্য নিয়ে চলতে থাকে।

২। তাঁরা জানেন তাঁরা কি চান

আপনি জীবনের থেকে কি চান এবং সাফল্য বলতে কি বোঝেন সেটা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ না নিজের চাহিদা সম্পর্কে আপনার স্পষ্ট ধারণা হচ্ছে সাফল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

৩। তাঁদের লক্ষ্যমাত্রা হয় বাস্তববাদী

শুধুমাত্র কোনও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়, সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করাও প্রয়োজন। সময় মূল্যবান আর তাই অবাস্তব কোনও লক্ষ্যের জন্য সময় নষ্ট করা বৃথা।

৪। তাঁরা নতুন কিছু শিখতে সদা প্রস্তুত

শেখার কোনও শেষ নেই, এটা এমনই একটি পদ্ধতি যা সারা জীবন ধরে চলে এবং সফল মানুষরা কিন্তু সব সময় নতুন কিছু শেখার জন্য প্রস্তুত থাকেন। তাঁরা খুব ভালো শ্রোতা হন এবং মূল্যবান মতামতকে যথাযথ গুরুত্ত্ব দেন।

৫। তাঁরা সব সময় লক্ষ্যে স্থির থাকেন

সফল মানুষদের আরও একটি গুণ হল তাঁরা একটি লক্ষ্যের প্রতি সর্বদা ফোকাস করেন।যে কারণে তাঁদের প্রচেষ্টার ফলও অনেক তাড়াতাড়ি পাওয়া যায় এবং তার প্রভাবও সুদূরপ্রসারী হয়।

৬। তাঁরা অসম্ভব ধৈর্যশীল হন

কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং ধৈর্য সফল মানুষদের জীবনে চালিকা শক্তির কাজ করে।তাঁরা নিজের কাজের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন এবং জীবনের সমস্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মত অসীম ধৈর্যের অধিকারী হন।

৭। তাঁরা আত্মবিশ্বাসী হন

সফল মানুষরা নিজেদের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হন। নিজেদের দক্ষতার প্রতি তাঁদের অগাধ আস্থা থাকে এবং তাঁরা জানেন কীভাবে নিজের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে হয়।

৮। তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা অসম্ভব বেশি

সফল মানুষরা অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সেইমতো কাজ করতে পারেন।

৯। তাঁরা বুদ্ধি করে নেতিবাচক আবেগ বিসর্জন দেন

অনেক সময় সামান্য ব্যর্থতাও মানুষকে হতাশ করে তোলে। কিন্তু সফল মানুষরা জানেন কীভাবে সব নেতিবাচক আবেগ দূর করে ব্যর্থতাকে সাফল্যে পরিণত করতে হয়।

১০। নিজেদের কাজ সম্পর্কে তাঁরা খুব আবেগপ্রবণ হন

তাঁরা সেটাই করেন যেটা করতে তাঁদের ভালো লাগে এবং সে কারণেই তাঁরা লক্ষ্যে অবিচল থাকতে পারেন। আপনি যখন এমন কোনও কাজ করেন যার সঙ্গে আপনার আবেগ জড়িত সে কাজে সাফল্য আসতে বাধ্য।

১১। তাদের কার্যকরী যোগাযোগ দক্ষতা আছে

যোগাযোগ করার ক্ষমতা যে কোনো পেশার মৌলিক চাহিদাগুলির মধ্যে অন্যতম এবং সফল ব্যক্তিরা জানেন যে তাদের লোকদের সাথে কীভাবে কার্যকরী ভাবে যোগাযোগ করা যায়।

আমরা ভাগ্যের দোষ না খোঁজে কাজের পিছনে সময় দেই। একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে তার পিছনে ছুটি তাহলে একদিন ভাগ্যই আমাদের পক্ষে আসবে।

অলসজাতির মতো বসে থেকে ভাগ্যের দোষ দেয়া বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
সফল ব্যক্তিদের দিকগুলো মেনে চলার একটু চেষ্টা করুন তাহলে একদিন আপনিও সফল ব্যক্তি হতে পারবেন।

একটা কথা মনে রাখবেন-
সম্পন্ন করার আগে সবকিছুই অসম্ভব মনে হয়”
– নেলসন ম্যান্ডেলা
তাই প্রচেষ্টা রাখুন আপনি ইনশাআল্লাহ আপনিও সফল হবেন।

লেখকঃ তাসফীর ইসলাম (ইমরান)
শিক্ষার্থীঃ সার্ভে ইঞ্জিনিয়ারিং, বাসাই

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com