যমুনা প্রতিদিন
ঢাকামঙ্গলবার , ২৭ এপ্রিল ২০২১
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সর্ষের ভুত তাড়াবে কে? প্রসঙ্গ শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
এপ্রিল ২৭, ২০২১ ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

যে কোন পেশাজীবি সংগঠনে ঐ পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা সদস্য হিসাবে যুক্ত থাকেন। আর ঐ পেশার মানুষেরা মিলে ঠিক করেন তা কিভাবে চলবে। পেশাজীবি সংগঠনে এটা একটি নিয়ম। আর সেই পেশাজীবি সংগঠন চলে বাস্তবতার নিরীখে ঐ সংগঠনের সদস্যদের সম-সাময়িক বিষয়ে তৈরি নিয়ম-নীতিতে। ঐ নিয়মের বাহিরে কোন সংগঠনের কারো যাবার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু চাঁদপুরের শাহরাস্তির প্রেস ক্লাবটি যেন কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করে না। এই প্রেস ক্লাবটি চলছে যেন ব্যক্তির ইচ্ছায়!

১৯৯১ সালের গোড়ার দিকের কথা। চাঁদপুরের শাহরাস্তির থানার কতিপয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতন ব্যক্তি, এই জনপদে মানুষকে শিক্ষা ও সমাজকে এগিয়ে নিতে শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবটি স্থাপন করেন। ঐ সময় বিভিন্ন দল ও মতের লোকজন মিলেই এই প্রেস ক্লাবটি স্থাপন করেন।

শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন অনেক সদস্য এখন আর বেঁচে নেই। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের সনামধন্য প্রধান শিক্ষক মরহুর সিদ্দিকুর রহমান। তিনি শাহরাস্তি থানা জাতীয়তাবাদি দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন।

ঐ সময় এই প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এডভোকেট মোঃ ইলিয়াস মিন্টু এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন বর্তমান সভাপতি কাজী হুমায়ূন কবির।

শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এডভোকেট মোঃ ইলিয়াস মিন্টু বর্তমানে কুমিল্লা জেলা জর্জকোটে আইন ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাছাড়া তিনি শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইন পেশায় ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তার পক্ষে এখন আর শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এক সময় শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে এডভোকেট ইলিয়াস মিন্টুর নাম মুছে ফেলার প্রচেষ্টা চলে। কিন্তু বহু লেখালেখি ও আলোচনা-পর্যালোচনার পর অবশেষে এডভোকেট মিন্টুকে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির স্বীকৃতি দিতে বর্তমান কমিটি বাধ্য হয়। যদিও এডভোকেট মিন্টু এখন আর প্রেস ক্লাবে সেভাবে সক্রিয় নন।

বর্তমান তামাদি কমিটিতে প্রতিষ্ঠাকালীন দুইজন সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন বর্তমান সভাপতি কাজী হুমায়ূন কবির এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ হাবীবুর রহমান ভুঁইয়া।

বর্তমানে ১৭ জন সাংবাদিক শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের সদস্য রয়েছেন। তাদের বাহিরে অনেকে প্রেস ক্লাবের সদস্য নন এমন তরুন ও শিক্ষিত সংবাদকর্মী রয়েছেন। যোগ্যতা থাকা সত্বেও তাদেরকে প্রেস ক্লাবের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।

এদিকে সময়ের ব্যবধানে শাহরাস্তি উপজেলায় বর্তমানে বেশ কিছু তরুণ অথচ শিক্ষিত যোগ্য সংবাদকর্মী বিভিন্ন দৈনিক প্রিন্ট পত্রিকায়, অনলাইন পোর্টাল এবং ইলেকট্রোনিক্স চ্যানেলে লেখালেখি ও সংবাদ পরিবেশন করে থাকেন। যারা প্রেস ক্লাবের সদস্য না হওয়ায় সামাজিকভাবে হেয় ও বিভিন্ন প্রশ্নের সন্মুখীন হতে হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তরুন এই সংবাদকর্মীদের অনেকে চায় শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের সদস্য হতে। কিন্তু বর্তমান প্রেস ক্লাবের নেতা হিসাবে যারা দাযিত্ব পালন করছেন তারা কেউই বিষয়টি আমলে না নিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশিমত প্রেস ক্লাব চালাচ্ছেন। আর এজন্য প্রেস ক্লবের সদস্য ও নতুন অথচ সম্ভাবনাময়ী তরুন সংবাদকর্মীদের অনেকে বলতে শুনা যায় ১৭ জন মিলে শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবকে তাদের পৈত্রিক সম্পদ মনে করে চালাছেন। যারা কোন নিয়মনীতির দ্বারধারেনা। সদস্যদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে বর্তমান প্রেস ক্লাবের কমিটি কোন নিয়মে প্রেস ক্লাব পরিচালনা করছেন? এই প্রশ্ন আজ সূধী সমাজের অনেকেরই? তাছাড়া গত আড়াই বছরে একবারও প্রেস ক্লাবের কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি!

এদিকে শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের বর্তমান কমিটি ২ বছরের জন্য বিগত ২০/৮/২০১৪ ইং তারিখে দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। ঐ নির্বাচনে সভাপতি হিসাবে কাজী হুমায়ূন কবির, সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মোঃ মাসুদ রানা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে মীর হেলাল উদ্দিন ৩/৯/২০১৪ইং তারিখে দায়িত্ব বুঝে নেন। মাঝখানে কাজের সুবিধার্থে এই কমিটির মেয়াদ ১ বছর বাড়িয়ে দেয়া হয়। বর্ধিত সেই মেয়াদ শেষ হয় ৩/৯/২০১৭ ইং তারিখে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এখনো ঐ কমিটি দায়িত্ব পালন করছেন কি করে এমন প্রশ্ন প্রেস ক্লাবের সদস্য সহ অনেকের? আজ ৭ বছর বর্তমান কমিটি কোন প্রকার নির্বাচন না দিয়ে নিজেদের ইচ্ছা মাফিক প্রেস ক্লাব চালিয়ে যাচ্ছেন। ঐ তামাদি কমিটির সভাপতি কাজী হুমায়ূন কবির বিভিন্ন জনকে বলে বেড়ান তাকে নাকি আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এভাবে দায়িত্ব পালন করে যেতে বলেছেন!

সভাপতি কাজী হুমায়ূনের এবক্তব্যের কোন সত্যতা নেই বলে খোদ প্রেস ক্লাবের অনেক সদস্য মনে করেন। তারা বলেন, এটা সাংবাদিকদের ক্লাব এখানে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাউকে অবৈধভাবে দায়িত্ব ধরে রাখার কথা কেউ বলতেই পারেন না। একটা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতে কাজী হুমায়ূন কবির কারো দোহাই দিচ্ছেন। এবিষয়ে সাধারণ মানুষের বক্তব্য হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের পর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে পূনরায় নির্বাচন দিতে সমস্যা কোথায়?

পর্যবেক্ষকদের অভিমত যাদের লেখা পড়ে মানুষ আপডেট তথ্য জানবে তাদের মধ্যে এমন কপটতা মোটেও কাঙ্খিত নয়। এ যেন সর্ষের ভিতরে ভূত যা কে তাড়াবে! এমন মানসিক অবস্থার পরিবর্তন জরুরী ও কাঙ্খিত।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com