যমুনা প্রতিদিন
ঢাকাশনিবার , ২৪ এপ্রিল ২০২১
  1. English
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরি
  8. ছবিঘর
  9. জাতীয়
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. প্রবাসের কথা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিরাপদ হোক এ ধরণী

যমুনা প্রতিদিন
এপ্রিল ২৪, ২০২১ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবাধ বিচরণে পৃথিবীকে জয় করেছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারের এই প্রভাবে আজ পৃথিবী তার ভারসাম্য হারাতে বসেছে। আর পৃথিবীকে তার ভারসাম্য ফিরিয়ে দিতে ও নিরাপদ রাখতেই ২২ এপ্রিল ‘বিশ্ব ধরিত্রী দিবস’ পালন করা হয়।

১৯৬৯ সালে সান্তা বারবারায় তেল উপচে পড়া থেকে সৃষ্ট ধোঁয়াশা ও নদীদূষণকে কেন্দ্র করে ১৯৭০ সালে প্রথমবারের মতো ধরিত্রী দিবস পালন করা হয়। ঐ সময় ২০ বিলিয়ন মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। সেই থেকে প্রতিবছর এ দিনটি উদযাপন করা হয়। বর্তমানে এই দিনটি আর্থ ডে নেটওয়ার্ক কর্তৃক বিশ্বব্যাপী ১৯৩টিরও অধিক দেশে সমন্বিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়। অনেক দেশ এ দিনটিকে সরকারি দিবস হিসেবেও পালন করে। এ দিনে গৃহীত হয় পৃথিবীতে দূষণ মুক্ত ও সুরক্ষিত রাখার জন্য বিভিন্ন নীতিমালা। ২০১৬ সালের প্যারিস চুক্তিতে ২০০টি দেশ বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য ধরিত্রী দিবস চুক্তি স্বাক্ষরিত করে।

ক্রমবর্ধমান অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অধিক মাত্রায় গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ, মাটিতে অপরিশুদ্ধ বর্জ্য নিষ্কাশনসহ নানা কারণে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। যার ফলে বেড়ে গেছে পরিবেশ দূষণের প্রভাব। এতে করে যেমন জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে তেমনি মনুষ্যকুলেও ঘটছে চরম বিপর্যয়। বাংলাদেশের পরিবেশ দূষণ প্রভাবের হার অনেক বেশি। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর যত মানুষ মারা যায় তার ২৮ শতাংশ পরিবেশ দূষণের প্রভাবে, যেখানে পরিবেশ দূষণজনিত কারণে সারা বিশ্বে গড়ে ১৬ শতাংশ মানুষ মারা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ২০১৫-এর এক পরিসংখ্যানে তুলে ধরেছে— বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের দূষণ অতিরিক্ত মাত্রায় পৌঁছেছে, ফলে বিভিন্ন শহরে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই দূষণের কারণে।

সত্যিই এ দেশের শহরগুলোতে বেড়ে গেছে অতিমাত্রায় শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ। শব্দদূষণের ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছে অধিকাংশ মানুষ। বিশ্ব বায়ুমান প্রতিবেদন ২০২০ অনুসারে ঢাকা বায়ুদূষণে শীর্ষ শহর হিসেবে গণ্য হয়েছে। এর শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছে, এতে ফুসফুস ও শ্বাসনালী তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বায়ুদূষণ প্রভাবিত করছে মেধাকেও। মাটিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারে প্রাকৃতিক গুণাগুণ হারিয়ে ফেলেছে মাটি। উৎপাদিত ফসলে প্রোটিন, ভিটামিন বি ও পুষ্টিমান কমে আসছে। এর প্রভাব পড়ছে ঋতু-বৈচিত্র্যেও। সময়ে-অসময়ে বৃষ্টি ও দুর্যোগগুলোই বলে দিচ্ছে ছয়টি ঋতু আর ক্রমাগত আবর্তিত হয় না।

এছাড়া গ্রিনহাউজ গ্যাস বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। ২০৫০ সালে পৃথিবীর তাপমাত্রা বিপর্যয়কর অবস্থায় উপনীত হবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রমতে, তাপমাত্রা বাড়লে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বৃদ্ধি পাবে। ঠিক তাই হচ্ছে। মেরু অঞ্চল ও পর্বতচূড়ার বরফ গলে যাওয়ায় পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির এ হার অব্যাহত থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১১ থেকে ৩৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। ফলে বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো নিম্নাঞ্চলের দেশগুলোতে এর ভয়াবহ প্রভাব সৃষ্টি হবে। এতে এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাবে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে নাসার গবেষণা বলছে—আগামী ১০০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে করে এতো বিপুলসংখ্যক মানুষের বাসস্থান স্থানান্তর খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে লবণাক্ত পানির প্রভাবে ঐসব এলাকার জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হয়ে যাবে। ফলে বাস্তুতন্ত্রে এক ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেবে।

এসব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারও জাতীয়ভাবে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে রাস্তার দুই ধারে গাছ লাগানোর প্রকল্পটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। একমাত্র বৃক্ষই পারে পরিবেশ থেকে অতিরিক্ত তাপমাত্রা শোষণ করে আমাদের রক্ষা করতে। তবে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বৃক্ষরোপণ অভিযান সম্প্রসারণ চোখে পড়ছে না। করোনা মহামারির প্রভাবে গতবছর থেকে এই ধরিত্রী দিবসের কার্যক্রমসমূহও পৃথিবীব্যাপী থমকে গেছে। তথাপি সব দেশের সরকার ও জনগণকে আরো বেশি সজাগ হতে হবে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমাতে হবে, নিরাপদ রাখতে হবে এ ধরণীকে। সবার মধ্যে সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছাড়পত্র কবিতার সেই দুটো লাইনের প্রত্যয়, ‘এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি/নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার’, জাগিয়ে তুলতে হবে। তবেই সুন্দর হবে আমাদের পৃথিবী, সার্থক হবে ধরিত্রী দিবসকে ঘিরে সব কার্যক্রম।

লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর সরাসরি জানাতে ই-মেইল করুন নিম্নের ঠিকানায়  jamunaprotidin@gmail.com